Hi

০৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার থেকে পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন যাচ্ছে ৩ জাহাজ

কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রী পরিবহন করবে।

এই তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনটি জাহাজের যাত্রার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর। তিনি জানিয়েছেন, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যটকের সংখ্যা যাই হোক না কেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জাহাজগুলো চলাচল শুরু করবে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর।

গত ১ নভেম্বর থেকে সরকার পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করে দিলেও কিছু আইনি জটিলতায় জাহাজ চলাচল শুরু হতে বিলম্ব হয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসনের সম্মতিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই নৌপথটি চালু হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ এবং রাত্রিযাপন করতে পারবেন। তবে প্রতিটি পর্যটককে দ্বীপে প্রবেশের সময় ১০০ টাকা হারে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি প্রদান করতে হবে। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী, আগের মতো ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট থাকা বাধ্যতামূলক। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ জন পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

জাহাজের সময়সূচি

  • এমভি বার আউলিয়া: সকাল ৭টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাবে এবং সেন্টমার্টিন থেকে ফিরবে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে।
  • এমভি কর্ণফুলি: সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে যাত্রা করবে এবং ফিরবে বেলা ২টা ১৫ মিনিটে।
  • এমভি টেকনাফ: সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাবে এবং ফিরবে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা বলবৎ রাখা হয়েছে। দ্বীপের সৈকতে রাতে উচ্চ শব্দে গানবাজনা, বারবিকিউ পার্টি এবং আলো জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেয়াবনে প্রবেশ বা সেখান থেকে ফল সংগ্রহ করা যাবে না। এছাড়া সামুদ্রিক প্রবাল, ঝিনুক, কাছিম বা জলজ প্রাণীর ক্ষতি করা এবং সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল বা সি-বাইক চালানো কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। নিয়মগুলো মেনে পর্যটকদের ভ্রমণ করতে হবে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আগের বছরের প্রজ্ঞাপনে দেওয়া বিধিনিষেধও বহাল থাকছে। এসব বিধিনিষেধ অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করাও নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

  • সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেসব নিয়ম মানতে হবে।

বৃহস্পতিবার থেকে পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন যাচ্ছে ৩ জাহাজ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বৃহস্পতিবার থেকে পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন যাচ্ছে ৩ জাহাজ

আপডেট : ০৫:০১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রী পরিবহন করবে।

এই তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনটি জাহাজের যাত্রার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর। তিনি জানিয়েছেন, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যটকের সংখ্যা যাই হোক না কেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জাহাজগুলো চলাচল শুরু করবে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর।

গত ১ নভেম্বর থেকে সরকার পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করে দিলেও কিছু আইনি জটিলতায় জাহাজ চলাচল শুরু হতে বিলম্ব হয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসনের সম্মতিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই নৌপথটি চালু হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ এবং রাত্রিযাপন করতে পারবেন। তবে প্রতিটি পর্যটককে দ্বীপে প্রবেশের সময় ১০০ টাকা হারে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি প্রদান করতে হবে। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী, আগের মতো ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট থাকা বাধ্যতামূলক। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ জন পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

জাহাজের সময়সূচি

  • এমভি বার আউলিয়া: সকাল ৭টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাবে এবং সেন্টমার্টিন থেকে ফিরবে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে।
  • এমভি কর্ণফুলি: সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে যাত্রা করবে এবং ফিরবে বেলা ২টা ১৫ মিনিটে।
  • এমভি টেকনাফ: সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাবে এবং ফিরবে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা বলবৎ রাখা হয়েছে। দ্বীপের সৈকতে রাতে উচ্চ শব্দে গানবাজনা, বারবিকিউ পার্টি এবং আলো জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেয়াবনে প্রবেশ বা সেখান থেকে ফল সংগ্রহ করা যাবে না। এছাড়া সামুদ্রিক প্রবাল, ঝিনুক, কাছিম বা জলজ প্রাণীর ক্ষতি করা এবং সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল বা সি-বাইক চালানো কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। নিয়মগুলো মেনে পর্যটকদের ভ্রমণ করতে হবে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আগের বছরের প্রজ্ঞাপনে দেওয়া বিধিনিষেধও বহাল থাকছে। এসব বিধিনিষেধ অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করাও নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

  • সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেসব নিয়ম মানতে হবে।