Hi

০৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চ্যালেঞ্জ অনেক, তবুও জনবান্ধব সরকার হার মানবে না: জাহেদ উর রহমান

শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও তার দেশত্যাগ একটি বড় যুদ্ধের বিজয় হিসেবে দেখা হলেও, প্রকৃত লড়াইটি কেবল শুরু হয়েছে। সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে একটি ধ্বংসপ্রায় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা যেকোনো সরকারের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব গ্রহণকারী সরকারের সামনে সেই কঠিন বাস্তবতাই এখন বিদ্যমান। শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও পলায়ন একটা যুদ্ধের বিজয়, কিন্তু বৃহত্তর যুদ্ধটা এতে শেষ হয়ে যায়নি। হাসিনা সরকারের আমলে পুলিশের একজাতীয় সামরিকীকরণ ঘটেছিল।

অনেকে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কিংবা নেপালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের তুলনা করেন, যা মোটেও সঙ্গত নয়। আরব বসন্তের মধ্য দিয়ে যাওয়া দেশগুলো বা তিউনিসিয়ার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা বেশি যুক্তিসঙ্গত। দীর্ঘ সময় ধরে চলা কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে সাজানোই এখন বড় কাজ। বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও নির্বাহী বিভাগকে তাদের নিজ নিজ এখতিয়ার অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম করে তোলাই হলো আসল গণতান্ত্রিক চর্চা। আওয়ামী লীগের মাফিয়া দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে অকার্যকর করা হয়েছে যে অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় পৌঁছেছিল। কারণ, ওই দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও দীর্ঘ সময় ধরে একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র শুধু নির্বাচন বা সরকার পরিবর্তনের বিষয় নয়। মানুষ এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা চায়, যেখানে নিজের পছন্দের প্রতিনিধি ও সরকার নির্বাচন করতে পারবে। মানুষ আরও চায়, নির্বাচিত সরকার তাদের ভালো-মন্দের তদারক করুক। নাগরিকদের সচেতন অংশ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এগুলোও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক শর্ত। তবে একই সঙ্গে দেখতে হবে, সরকার কোন পরিস্থিতিতে কাজ শুরু করেছে। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনকে কীভাবে কাজ করতে হবে, সেটিও নতুন করে আয়ত্ত করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই সহনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্ব–পরিস্থিতি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মানুষ যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, তার মূল ভিত্তি হলো অবাধ ভোটাধিকার এবং পছন্দমতো সরকার গঠনের সুযোগ। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এই অধিকারের প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন বড় প্রত্যাশা। আট মাসের সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আমলাতন্ত্রের সংস্কার এবং অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। সবচেয়ে দক্ষ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও দেশে নানা সমস্যা থাকবে।

বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের কঠোর সমালোচনার সুযোগ তৈরি হওয়াটা বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক সহনশীলতার বহিঃপ্রকাশ। অর্থনীতির সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের যে নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভোলায় আবিষ্কৃত গ্যাস দ্রুত কাজে লাগানোর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে নীতিগত প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। মানুষের আয়রোজগার ও জীবনযাত্রায় সংকট তৈরি হলে অন্য সমস্যাগুলো অনেক বড় হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ এই সংকটের মুখে পড়েছে এমন এক সময়ে, যখন দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ উন্নয়নে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সরকার বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গড়ে প্রতিটি পরিবারে পাঁচজন সদস্য ধরলে প্রায় দুই কোটি মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসবে। জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট কিছুটা সামাল দিতে পারলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অস্বীকার করা যাবে না যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জনগণ যতটা অগ্রগতি আশা করেছিল, বাস্তবে তার চেয়ে কম হয়েছে। কোনো কোনো বক্তব্য কারও কাছে গ্রহণযোগ্যতার সীমা অতিক্রম করেছে বলেও মনে হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সরকার একদিকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। পরিবারপ্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এটি মনে রাখা জরুরি যে, ৫ আগস্টের আগে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে যেভাবে সামরিকীকরণ করা হয়েছিল, তা গণতান্ত্রিক রীতিবিরুদ্ধ। ৫ আগস্টের পরবর্তী ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা সহজ ছিল না, তবে বর্তমান পুলিশ বাহিনী আগের তুলনায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। যদিও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা এখনও ঘটছে, সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান। এটি কতগুলো প্রতিষ্ঠান, নিয়মনীতি ও কাঠামোর সমন্বয়ে পরিচালিত হয়।

সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারির যে অভিযোগগুলো উঠছে, তা দীর্ঘদিনের গভীরে প্রোথিত রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতির প্রতিফলন। তবে সরকার এসব বিষয়ে নীরব নয়। সম্প্রতি একজন সংসদ সদস্য এবং একজন প্রতিমন্ত্রীকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রমাণ। একজন দখলদারির অভিযোগে এবং অন্যজন আইন ভঙ্গের কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন। সরকারের এই বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোনো অনিয়মকেই উপেক্ষা করা হবে না।

নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকারকর্মীরা বর্তমান সরকারের কিছু আইনের বিষয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা।

তবে প্রতিটি আইনকে কেবল বিগত সরকারের অভিজ্ঞতার আলোয় বিচার না করে এর প্রয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কোনো আইন প্রয়োগের ফলে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে সরকার তা সংশোধনে প্রস্তুত বলে মত দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি) জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, ভুল স্বীকার ও তা সংশোধনের মানসিকতাই একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকারের মূল শক্তি।

জনপ্রিয়

চ্যালেঞ্জ অনেক, তবুও জনবান্ধব সরকার হার মানবে না: জাহেদ উর রহমান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চ্যালেঞ্জ অনেক, তবুও জনবান্ধব সরকার হার মানবে না: জাহেদ উর রহমান

আপডেট : ০৬:০০:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও তার দেশত্যাগ একটি বড় যুদ্ধের বিজয় হিসেবে দেখা হলেও, প্রকৃত লড়াইটি কেবল শুরু হয়েছে। সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে একটি ধ্বংসপ্রায় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা যেকোনো সরকারের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব গ্রহণকারী সরকারের সামনে সেই কঠিন বাস্তবতাই এখন বিদ্যমান। শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও পলায়ন একটা যুদ্ধের বিজয়, কিন্তু বৃহত্তর যুদ্ধটা এতে শেষ হয়ে যায়নি। হাসিনা সরকারের আমলে পুলিশের একজাতীয় সামরিকীকরণ ঘটেছিল।

অনেকে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কিংবা নেপালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের তুলনা করেন, যা মোটেও সঙ্গত নয়। আরব বসন্তের মধ্য দিয়ে যাওয়া দেশগুলো বা তিউনিসিয়ার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা বেশি যুক্তিসঙ্গত। দীর্ঘ সময় ধরে চলা কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে সাজানোই এখন বড় কাজ। বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও নির্বাহী বিভাগকে তাদের নিজ নিজ এখতিয়ার অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম করে তোলাই হলো আসল গণতান্ত্রিক চর্চা। আওয়ামী লীগের মাফিয়া দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে অকার্যকর করা হয়েছে যে অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় পৌঁছেছিল। কারণ, ওই দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও দীর্ঘ সময় ধরে একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র শুধু নির্বাচন বা সরকার পরিবর্তনের বিষয় নয়। মানুষ এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা চায়, যেখানে নিজের পছন্দের প্রতিনিধি ও সরকার নির্বাচন করতে পারবে। মানুষ আরও চায়, নির্বাচিত সরকার তাদের ভালো-মন্দের তদারক করুক। নাগরিকদের সচেতন অংশ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এগুলোও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক শর্ত। তবে একই সঙ্গে দেখতে হবে, সরকার কোন পরিস্থিতিতে কাজ শুরু করেছে। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনকে কীভাবে কাজ করতে হবে, সেটিও নতুন করে আয়ত্ত করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই সহনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্ব–পরিস্থিতি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মানুষ যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, তার মূল ভিত্তি হলো অবাধ ভোটাধিকার এবং পছন্দমতো সরকার গঠনের সুযোগ। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এই অধিকারের প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন বড় প্রত্যাশা। আট মাসের সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আমলাতন্ত্রের সংস্কার এবং অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। সবচেয়ে দক্ষ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও দেশে নানা সমস্যা থাকবে।

বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের কঠোর সমালোচনার সুযোগ তৈরি হওয়াটা বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক সহনশীলতার বহিঃপ্রকাশ। অর্থনীতির সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের যে নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভোলায় আবিষ্কৃত গ্যাস দ্রুত কাজে লাগানোর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে নীতিগত প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। মানুষের আয়রোজগার ও জীবনযাত্রায় সংকট তৈরি হলে অন্য সমস্যাগুলো অনেক বড় হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ এই সংকটের মুখে পড়েছে এমন এক সময়ে, যখন দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ উন্নয়নে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সরকার বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গড়ে প্রতিটি পরিবারে পাঁচজন সদস্য ধরলে প্রায় দুই কোটি মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসবে। জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট কিছুটা সামাল দিতে পারলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অস্বীকার করা যাবে না যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জনগণ যতটা অগ্রগতি আশা করেছিল, বাস্তবে তার চেয়ে কম হয়েছে। কোনো কোনো বক্তব্য কারও কাছে গ্রহণযোগ্যতার সীমা অতিক্রম করেছে বলেও মনে হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সরকার একদিকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। পরিবারপ্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এটি মনে রাখা জরুরি যে, ৫ আগস্টের আগে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে যেভাবে সামরিকীকরণ করা হয়েছিল, তা গণতান্ত্রিক রীতিবিরুদ্ধ। ৫ আগস্টের পরবর্তী ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা সহজ ছিল না, তবে বর্তমান পুলিশ বাহিনী আগের তুলনায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। যদিও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা এখনও ঘটছে, সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান। এটি কতগুলো প্রতিষ্ঠান, নিয়মনীতি ও কাঠামোর সমন্বয়ে পরিচালিত হয়।

সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারির যে অভিযোগগুলো উঠছে, তা দীর্ঘদিনের গভীরে প্রোথিত রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতির প্রতিফলন। তবে সরকার এসব বিষয়ে নীরব নয়। সম্প্রতি একজন সংসদ সদস্য এবং একজন প্রতিমন্ত্রীকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রমাণ। একজন দখলদারির অভিযোগে এবং অন্যজন আইন ভঙ্গের কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন। সরকারের এই বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোনো অনিয়মকেই উপেক্ষা করা হবে না।

নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকারকর্মীরা বর্তমান সরকারের কিছু আইনের বিষয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা।

তবে প্রতিটি আইনকে কেবল বিগত সরকারের অভিজ্ঞতার আলোয় বিচার না করে এর প্রয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কোনো আইন প্রয়োগের ফলে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে সরকার তা সংশোধনে প্রস্তুত বলে মত দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি) জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, ভুল স্বীকার ও তা সংশোধনের মানসিকতাই একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকারের মূল শক্তি।