Hi

০৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলে মার্কিন অর্থনীতিতে কী ধরণের প্রভাব পড়বে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল দেশটির অর্থনীতি, শেয়ারবাজার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাত এবং সরকারি ঋণসীমা সংক্রান্ত রাজনৈতিক আলোচনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সম্প্রতি ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার পর জ্বালানির দরবৃদ্ধির প্রভাব এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে দৃশ্যমান হচ্ছে, যার পাশাপাশি সরকারি বন্ডের মুনাফার হারও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে দেশটির অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও পড়ছে।

নির্বাচনী পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে থাকবে তা এখনো অনিশ্চিত।

১৯৩০ সাল থেকে এ পর্যন্ত আটবার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। নেড ডেভিস রিসার্চের তথ্যমতে, এসব নির্বাচনের পর পাঁচবার বছরের বাকি সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে এবং ওই সময়ে সূচকটির গড় মধ্যম বৃদ্ধি ছিল ১.৪ শতাংশ। তবে সব মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একই সময়ে এই বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ১.৯ শতাংশে।

প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেলে এবং সিনেট রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে একধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। এই বিভক্ত কংগ্রেস সরকারি বাজেট পাস এবং ঋণসীমা বাড়ানো নিয়ে তৈরি করতে পারে বড় বিরোধ, যা সরকারের কার্যক্রম বন্ধ বা শাটডাউনের ঝুঁকি বাড়াবে। বিপুল বাজেট ঘাটতি ও ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে উদ্বিগ্ন, ফলে নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটির ঋণমানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয় এবং স্বাস্থ্যসেবার ভর্তুকির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়লে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা মার্কিন ডলারের দর পতনের কারণ হতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে এআই খাতের ওপর। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান প্রতিবাদ আরও জোরালো রূপ নিতে পারে।

রেমন্ড জেমসের ওয়াশিংটনবিষয়ক নীতিবিশ্লেষক এড মিলস জানান, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের উদ্যোগ এআই খাতে নতুন নিরাপত্তাবিধি প্রণয়ন ত্বরান্বিত করবে। এর ফলে উন্নত এআই মডেলের নিরাপত্তা যাচাই, স্বাধীন মূল্যায়ন ও দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ডেটা সেন্টারগুলোর জবাবদিহি বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও তদন্ত হতে পারে।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে জয় পেলে ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন শিল্প খাত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর নজরদারি বাড়াতে পারবে। বাজার বিশ্লেষক দিয়েগো বার্নুয়েভোর মতে, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের আলোচনা মূলত বাজেট এবং ২০২৭ সালে নির্ধারিত ঋণসীমা সংক্রান্ত বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ২০২৭ সালে ঋণসীমা নিয়ে আলোচনা সামনে আসার কথা।

দিয়েগো বার্নুয়েভো আরও উল্লেখ করেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতির জন্য নিরপেক্ষ থেকে সামান্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অন্য বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলেও সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবেন এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই, তাই অবনতিশীল আর্থিক ব্যবস্থার বড় পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা কম।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের উভয় কক্ষ যদি রিপাবলিকানদের হাতে থাকে, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর সংস্কার ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর নীতিগুলো অব্যাহত থাকবে। নুমেরা অ্যানালিটিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও কৌশলবিদ হোয়াকিন ক্রিটজ লারা বলেন, রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তা ট্রাম্পের আর্থিক নীতির প্রতি জনসমর্থন হিসেবেই বিবেচিত হবে।

রিপাবলিকানদের জয়ের প্রাথমিক প্রভাবে সরকারি বন্ডের মুনাফা বাড়ায় ডলার শক্তিশালী হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সামরিক তৎপরতা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করতে পারে, যার ফলে তাঁরা ডলারে বিনিয়োগের ঝুঁকি এড়াতে বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তবে রিপাবলিকানদের জয়ে এআই খাতের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও তদন্তের চাপ কম থাকবে।

জেপি মরগ্যানের কৌশলবিদদের মতে, রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে এআই ও অবকাঠামো খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত পরিবেশ সবচেয়ে বেশি সহায়ক হবে। নীতি ধারাবাহিকতা, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও দ্রুত অনুমোদন এ খাতের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে।

জনপ্রিয়

ঢাকায় বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের পঞ্চম বৈঠক ৫ নভেম্বর

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলে মার্কিন অর্থনীতিতে কী ধরণের প্রভাব পড়বে

আপডেট : ০৬:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল দেশটির অর্থনীতি, শেয়ারবাজার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাত এবং সরকারি ঋণসীমা সংক্রান্ত রাজনৈতিক আলোচনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সম্প্রতি ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার পর জ্বালানির দরবৃদ্ধির প্রভাব এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে দৃশ্যমান হচ্ছে, যার পাশাপাশি সরকারি বন্ডের মুনাফার হারও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে দেশটির অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও পড়ছে।

নির্বাচনী পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে থাকবে তা এখনো অনিশ্চিত।

১৯৩০ সাল থেকে এ পর্যন্ত আটবার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। নেড ডেভিস রিসার্চের তথ্যমতে, এসব নির্বাচনের পর পাঁচবার বছরের বাকি সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে এবং ওই সময়ে সূচকটির গড় মধ্যম বৃদ্ধি ছিল ১.৪ শতাংশ। তবে সব মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একই সময়ে এই বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ১.৯ শতাংশে।

প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেলে এবং সিনেট রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে একধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। এই বিভক্ত কংগ্রেস সরকারি বাজেট পাস এবং ঋণসীমা বাড়ানো নিয়ে তৈরি করতে পারে বড় বিরোধ, যা সরকারের কার্যক্রম বন্ধ বা শাটডাউনের ঝুঁকি বাড়াবে। বিপুল বাজেট ঘাটতি ও ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে উদ্বিগ্ন, ফলে নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটির ঋণমানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয় এবং স্বাস্থ্যসেবার ভর্তুকির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়লে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা মার্কিন ডলারের দর পতনের কারণ হতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে এআই খাতের ওপর। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান প্রতিবাদ আরও জোরালো রূপ নিতে পারে।

রেমন্ড জেমসের ওয়াশিংটনবিষয়ক নীতিবিশ্লেষক এড মিলস জানান, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের উদ্যোগ এআই খাতে নতুন নিরাপত্তাবিধি প্রণয়ন ত্বরান্বিত করবে। এর ফলে উন্নত এআই মডেলের নিরাপত্তা যাচাই, স্বাধীন মূল্যায়ন ও দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ডেটা সেন্টারগুলোর জবাবদিহি বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও তদন্ত হতে পারে।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে জয় পেলে ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন শিল্প খাত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর নজরদারি বাড়াতে পারবে। বাজার বিশ্লেষক দিয়েগো বার্নুয়েভোর মতে, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের আলোচনা মূলত বাজেট এবং ২০২৭ সালে নির্ধারিত ঋণসীমা সংক্রান্ত বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ২০২৭ সালে ঋণসীমা নিয়ে আলোচনা সামনে আসার কথা।

দিয়েগো বার্নুয়েভো আরও উল্লেখ করেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতির জন্য নিরপেক্ষ থেকে সামান্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অন্য বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলেও সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবেন এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই, তাই অবনতিশীল আর্থিক ব্যবস্থার বড় পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা কম।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের উভয় কক্ষ যদি রিপাবলিকানদের হাতে থাকে, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর সংস্কার ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর নীতিগুলো অব্যাহত থাকবে। নুমেরা অ্যানালিটিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও কৌশলবিদ হোয়াকিন ক্রিটজ লারা বলেন, রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তা ট্রাম্পের আর্থিক নীতির প্রতি জনসমর্থন হিসেবেই বিবেচিত হবে।

রিপাবলিকানদের জয়ের প্রাথমিক প্রভাবে সরকারি বন্ডের মুনাফা বাড়ায় ডলার শক্তিশালী হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সামরিক তৎপরতা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করতে পারে, যার ফলে তাঁরা ডলারে বিনিয়োগের ঝুঁকি এড়াতে বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তবে রিপাবলিকানদের জয়ে এআই খাতের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও তদন্তের চাপ কম থাকবে।

জেপি মরগ্যানের কৌশলবিদদের মতে, রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে এআই ও অবকাঠামো খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত পরিবেশ সবচেয়ে বেশি সহায়ক হবে। নীতি ধারাবাহিকতা, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও দ্রুত অনুমোদন এ খাতের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে।