Hi

০৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে আত্মগোপন

ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় কয়েন ও ফ্ল্যাট ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই প্রতারণায় অভিযুক্তরা হলেন ইসমাইল হোসেন ও গফফার হোসেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০২৩ সালের দিকে লাভজনক বিভিন্ন প্যাকেজের কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে তারা আত্মগোপনে চলে যান। সাধারণ মানুষের কষ্টের উপার্জিত টাকা ফেরত না পাওয়ায় অনেক পরিবার আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তারা জানান, ইসমাইল শুধু নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হননি, পুরো পরিবারকেও ধ্বংস করে দিয়েছেন। তার আশঙ্কা, ইসমাইল ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকায় ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে ইসমাইল হোসেন ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের শান্তিনগর-মিলননগর এলাকার বাসিন্দা, যার গ্রামের বাড়ি ভূল্লী উপজেলার শুখানপুকুরি ইউনিয়নে। স্থানীয়ভাবে ‘টাকার গাছ ইসমাইল’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা চলমান। এর মধ্যে একটি মামলায় সাজা ও অন্যটিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও তাকে এখনো ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অন্যদিকে গফফারের আদি নিবাস কুড়িগ্রামে, যার বাবা একজন মাদ্রাসাশিক্ষক। ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের গোয়ালপাড়ায় বাবার চাকরির সুবাদে ভাড়া থাকতেন তিনি। তার বাবা একটি সিনিয়র মাদ্রাসার প্রভাষক। কিন্তু গফফারের কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না।

প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কেউ এনজিও ঋণ, কেউ ব্যাংকঋণ আবার কেউবা ভিটেমাটি বিক্রি করে ইসমাইল ও গফফারের ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। শাম্মী আক্তার নামের এক ভুক্তভোগী জানান, তার ক্যানসারে আক্রান্ত স্বামীর চিকিৎসার টাকাও ইসমাইল হাতিয়ে নিয়েছেন। ১৮ লাখ টাকা খোয়ানোর পর তার স্বামী বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের মতে, জামিনে মুক্তি পেয়ে ইসমাইল আত্মগোপন করেছেন এবং উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে ঢাকায় মামলা করে হয়রানি করছেন। তার শ্বশুর জমি বিক্রি করেছেন—এ বিষয়টি জানতে পেরে ইসমাইল প্রায়ই তার স্বামীকে ডেকে নিতেন।

ভুক্তভোগী আলামিন ইসলাম বাবুর ভাষ্যমতে, ইসমাইলের পরিবারের সদস্যরাও এই প্রতারণায় সম্পৃক্ত ছিলেন। আউলিয়া এলাকায় বসবাসরত ইসমাইলের বোন ও বোনজামাই জানান, তারাও বিনিয়োগের আশায় স্বর্ণালঙ্কারসহ সম্পদ বিক্রি করে ইসমাইলকে টাকা দিয়েছিলেন। এখন সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় তাদের সংসার চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশের কাছ থেকেও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। ইসমাইলকে টাকা দিতে বাড়ির সোনার গয়নাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রি করেছিলেন তারা।

হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে ইসমাইল হোসেন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, তার ঘরবাড়ি লুটপাট করা হয়েছে এবং প্রতিপক্ষরা তাকে এলাকাছাড়া করেছে। তিনি গফফারের ওপর দায় চাপিয়ে দাবি করেন যে, সব টাকা তাকে দেওয়া হয়েছে। তবে গফফারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) খোদাদাদ হোসেন জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চলছে। আসামিরা যেহেতু এলাকার বাইরে অবস্থান করছে, তাই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে আত্মগোপন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে আত্মগোপন

আপডেট : ০৩:০১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় কয়েন ও ফ্ল্যাট ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই প্রতারণায় অভিযুক্তরা হলেন ইসমাইল হোসেন ও গফফার হোসেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০২৩ সালের দিকে লাভজনক বিভিন্ন প্যাকেজের কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে তারা আত্মগোপনে চলে যান। সাধারণ মানুষের কষ্টের উপার্জিত টাকা ফেরত না পাওয়ায় অনেক পরিবার আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তারা জানান, ইসমাইল শুধু নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হননি, পুরো পরিবারকেও ধ্বংস করে দিয়েছেন। তার আশঙ্কা, ইসমাইল ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকায় ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে ইসমাইল হোসেন ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের শান্তিনগর-মিলননগর এলাকার বাসিন্দা, যার গ্রামের বাড়ি ভূল্লী উপজেলার শুখানপুকুরি ইউনিয়নে। স্থানীয়ভাবে ‘টাকার গাছ ইসমাইল’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা চলমান। এর মধ্যে একটি মামলায় সাজা ও অন্যটিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও তাকে এখনো ধরতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অন্যদিকে গফফারের আদি নিবাস কুড়িগ্রামে, যার বাবা একজন মাদ্রাসাশিক্ষক। ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের গোয়ালপাড়ায় বাবার চাকরির সুবাদে ভাড়া থাকতেন তিনি। তার বাবা একটি সিনিয়র মাদ্রাসার প্রভাষক। কিন্তু গফফারের কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না।

প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কেউ এনজিও ঋণ, কেউ ব্যাংকঋণ আবার কেউবা ভিটেমাটি বিক্রি করে ইসমাইল ও গফফারের ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। শাম্মী আক্তার নামের এক ভুক্তভোগী জানান, তার ক্যানসারে আক্রান্ত স্বামীর চিকিৎসার টাকাও ইসমাইল হাতিয়ে নিয়েছেন। ১৮ লাখ টাকা খোয়ানোর পর তার স্বামী বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের মতে, জামিনে মুক্তি পেয়ে ইসমাইল আত্মগোপন করেছেন এবং উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে ঢাকায় মামলা করে হয়রানি করছেন। তার শ্বশুর জমি বিক্রি করেছেন—এ বিষয়টি জানতে পেরে ইসমাইল প্রায়ই তার স্বামীকে ডেকে নিতেন।

ভুক্তভোগী আলামিন ইসলাম বাবুর ভাষ্যমতে, ইসমাইলের পরিবারের সদস্যরাও এই প্রতারণায় সম্পৃক্ত ছিলেন। আউলিয়া এলাকায় বসবাসরত ইসমাইলের বোন ও বোনজামাই জানান, তারাও বিনিয়োগের আশায় স্বর্ণালঙ্কারসহ সম্পদ বিক্রি করে ইসমাইলকে টাকা দিয়েছিলেন। এখন সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় তাদের সংসার চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশের কাছ থেকেও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। ইসমাইলকে টাকা দিতে বাড়ির সোনার গয়নাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রি করেছিলেন তারা।

হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে ইসমাইল হোসেন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, তার ঘরবাড়ি লুটপাট করা হয়েছে এবং প্রতিপক্ষরা তাকে এলাকাছাড়া করেছে। তিনি গফফারের ওপর দায় চাপিয়ে দাবি করেন যে, সব টাকা তাকে দেওয়া হয়েছে। তবে গফফারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) খোদাদাদ হোসেন জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চলছে। আসামিরা যেহেতু এলাকার বাইরে অবস্থান করছে, তাই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।