Hi

০২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ২৫ পুরস্কার জিতল কাতারি চলচ্চিত্র সনদ

দুই ভাইয়ের খুনসুটি, প্রতিযোগিতা এবং অমলিন ভালোবাসার গল্প নিয়ে নির্মিত কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সনদ’ (SANAD) বিশ্বমঞ্চে এক অভূতপূর্ব সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। প্রখ্যাত নির্মাতা নূর আল-নাসরের পরিচালনায় নির্মিত এই ছবিটি এ পর্যন্ত বিশ্বের ৫০টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে এবং জিতে নিয়েছে ২৫টি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। চলচ্চিত্রটি আরবি ‘সনদ’ শব্দের অর্থ—‘আস্থা বা ভরসার জায়গা’—কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, যেখানে আলী ও জসিম নামের দুই ভাইয়ের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে।

চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক যাত্রায় বড় মাইলফলক হিসেবে এটি লন্ডনের ‘লন্ডন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’ এবং সুইডেনের ‘সুইডেন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ভূষিত হয়েছে। এছাড়া ইতালির ‘মিলানো ইন্ডি মুভি অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার জিতেছে ছবিটি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রশংসা পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি ঐতিহ্যবাহী সারায়েভো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং বাংলাদেশের ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে প্রদর্শিত হয়েছে। নিজের দেশ কাতারেও এটি জনপ্রিয় আজয়াল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়।

ছবির মূল পটভূমিতে রয়েছে একটি নির্দোষ কৌতুক বা প্র্যাংক, যা সময়ের সঙ্গে প্রতিশোধের খেলায় রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত দুই ভাইয়ের রক্তের সম্পর্ককে কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দেয়। পরিচালক নূর আল-নাসর সাধারণ জীবনের গল্পগুলোকে নতুন কোণ থেকে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি সবসময় সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে পছন্দ করি। ‘সনদ’-এর মাধ্যমে আমি ভাই-বোনের পারস্পরিক রাগ-অনুরাগ ও প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একে অপরকে রক্ষা করার সুপ্ত মানসিকতাটি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।”

পরিচালক এই সাফল্যের পেছনে পুরো টিমের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ছবির অভিনয়শিল্পী, কুশলী এবং দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউটের (DFI) অসামান্য সমর্থন ও উৎসাহের ফলেই আজ বিশ্বজুড়ে এই গল্পটি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পেরেছে। ‘সনদ’-এর এই বিপুল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কাতারি চলচ্চিত্র শিল্প ও গল্প বলার ধারাকে বৈশ্বিক মঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

ন্যূনতম মজুরির দাবিতে গাজীপুর-সাভারে ৮০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ২৫ পুরস্কার জিতল কাতারি চলচ্চিত্র সনদ

আপডেট : ০১:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

দুই ভাইয়ের খুনসুটি, প্রতিযোগিতা এবং অমলিন ভালোবাসার গল্প নিয়ে নির্মিত কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সনদ’ (SANAD) বিশ্বমঞ্চে এক অভূতপূর্ব সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। প্রখ্যাত নির্মাতা নূর আল-নাসরের পরিচালনায় নির্মিত এই ছবিটি এ পর্যন্ত বিশ্বের ৫০টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে এবং জিতে নিয়েছে ২৫টি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। চলচ্চিত্রটি আরবি ‘সনদ’ শব্দের অর্থ—‘আস্থা বা ভরসার জায়গা’—কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, যেখানে আলী ও জসিম নামের দুই ভাইয়ের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে।

চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক যাত্রায় বড় মাইলফলক হিসেবে এটি লন্ডনের ‘লন্ডন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’ এবং সুইডেনের ‘সুইডেন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ভূষিত হয়েছে। এছাড়া ইতালির ‘মিলানো ইন্ডি মুভি অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার জিতেছে ছবিটি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রশংসা পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি ঐতিহ্যবাহী সারায়েভো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং বাংলাদেশের ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে প্রদর্শিত হয়েছে। নিজের দেশ কাতারেও এটি জনপ্রিয় আজয়াল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়।

ছবির মূল পটভূমিতে রয়েছে একটি নির্দোষ কৌতুক বা প্র্যাংক, যা সময়ের সঙ্গে প্রতিশোধের খেলায় রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত দুই ভাইয়ের রক্তের সম্পর্ককে কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দেয়। পরিচালক নূর আল-নাসর সাধারণ জীবনের গল্পগুলোকে নতুন কোণ থেকে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি সবসময় সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে পছন্দ করি। ‘সনদ’-এর মাধ্যমে আমি ভাই-বোনের পারস্পরিক রাগ-অনুরাগ ও প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একে অপরকে রক্ষা করার সুপ্ত মানসিকতাটি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।”

পরিচালক এই সাফল্যের পেছনে পুরো টিমের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ছবির অভিনয়শিল্পী, কুশলী এবং দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউটের (DFI) অসামান্য সমর্থন ও উৎসাহের ফলেই আজ বিশ্বজুড়ে এই গল্পটি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পেরেছে। ‘সনদ’-এর এই বিপুল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কাতারি চলচ্চিত্র শিল্প ও গল্প বলার ধারাকে বৈশ্বিক মঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।