ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে পাকিস্তান যে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে জানান, পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী আশাবাদী। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা সতর্ক অবস্থানেও রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির চলতি মাসে ইরান সফর করেছেন মোট দুইবার। অগ্রগতির সম্ভাবনা না থাকলে সেনাপ্রধানের এই ঘনঘন সফরের বিষয়টি সামনে আনেন তিনি। সর্বশেষ সফরে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গী ছিলেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন। এই প্রতিনিধি দল ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকটিকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। গত ২৬ অক্টোবর ইরান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে সংলাপ অব্যাহত রাখার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছায়। সৌদি আরবও এ সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে উত্তজনা প্রশমনের আহ্বান জানায়।
উল্লেখ্য যে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। যদিও গত এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদের উদ্যোগে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, কিন্তু স্থায়ী সমঝোতার পথ এখনো পুরোপুরি সুগম হয়নি। হরমুজ প্রণালিতে নৌনিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগের মধ্যে আঞ্চলিক দেশগুলোর এ উদ্যোগকে সংঘাত এড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। তবে আইএসপিআর মহাপরিচালকের শঙ্কা, এই শান্তি প্রক্রিয়ার পথে এখনো প্রভাবশালী কোনো কোনো পক্ষ বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
রিপোর্টার নাম: 




















