বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল দেবগন সম্প্রতি জীবনের ৫২ বছর পূর্ণ করেছেন। তিন দশকেরও বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রুপালি পর্দার আলো ছড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও তিনি নিজের সৌন্দর্য ও প্রাণবন্ত উপস্থিতির মাধ্যমে ভক্তদের মুগ্ধ করে চলেছেন। বয়স ৫২-এর কোঠায় পৌঁছালেও তাঁর ত্বকের উজ্জ্বলতা এবং আত্মবিশ্বাসী চাহনি আজও আগের মতোই আকর্ষণীয়। বর্তমান প্রজন্মের তারকাদের কাছেও তিনি সুস্থ জীবনযাপন ও ফিটনেসের এক বড় অনুপ্রেরণা। দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনের ব্যস্ততা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা দায়িত্ব সামলে তিনি যেভাবে নিজের যত্ন নেন, তা নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে তাঁর এই চিরসবুজ সৌন্দর্যের পেছনে কোনো জটিল বা ব্যয়বহুল কসমেটিক সার্জারি কিংবা রাতারাতি পরিবর্তন এনে দেওয়া কোনো জাদুকরী ফর্মুলা নেই। বরং সাধারণ কিছু জীবনধারা এবং নিয়মানুবর্তিতাই তাঁর এই তারুণ্যের আসল চাবিকাঠি।
খাবার-দাবারের ক্ষেত্রে কাজল অত্যন্ত সচেতন এবং পরিকল্পিত জীবনযাপন করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের পুষ্টি চাহিদা সম্পর্কে তিনি আরও বেশি মনোযোগী হয়েছেন। অতীতে খাবার নিয়ে খুব একটা ভাবনাচিন্তা না করলেও বর্তমান সময়ে তিনি কী খাচ্ছেন, কোথায় খাচ্ছেন এবং ঠিক কতটুকু পরিমাণ গ্রহণ করছেন—এই বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। তাঁর ডায়েট চার্ট বা খাদ্যতালিকায় নিজেকে পুষ্টি থেকে বঞ্চিত করার কোনো প্রবণতা দেখা যায় না। বরং শরীরের সঠিক পুষ্টির জোগান দিতে তিনি স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাবারের ওপর বেশি জোর দেন। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে খাবার গ্রহণের এই অভ্যাস তাঁর মেটাবলিজম ঠিক রাখতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। খাদ্যনিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত শরীরচর্চাকে নিজের দৈনন্দিন রুটিনের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে বেছে নিয়েছেন, যা তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চনমনে রাখে।
ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রেও কাজল কোনো রকম জটিলতা পছন্দ করেন না। বাজারে প্রচলিত শত শত প্রসাধনী ব্যবহার করার চেয়ে তিনি প্রাকৃতিক ও মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর ভরসা রাখেন। তাঁর স্কিনকেয়ার রুটিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দিক হলো পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা এবং মুখ সর্বদা পরিষ্কার রাখা। ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন, যা ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে এবং কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে। এছাড়া, দিনের ক্লান্তি শেষে যতই রাত হোক না কেন, ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করা তাঁর বহুদিনের একটি কঠোর নিয়ম। সারাদিনের ধুলোবালি, দূষণ এবং ত্বকে জমে থাকা প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার না করে তিনি কখনোই বিছানায় যান না। এই সাধারণ অভ্যাসটিই তাঁর ত্বককে সতেজ ও ব্রণমুক্ত রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে।
কাজলের ওয়েলনেস রুটিনের সবচেয়ে আলোচিত এবং কৌতূহলোদ্দীপক অংশ হলো তাঁর নিজস্ব উপায়ে তৈরি একটি বিশেষ প্রোটিন শেক। সাধারণ জিম প্রোটিন শেকের মতো নয়, বরং তিনি নিজের পছন্দ এবং শরীরের চাহিদামতো ডিম, আমন্ড মিল্ক বা কাঠবাদামের দুধ এবং কমলালেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে এই অদ্ভুত পানীয়টি তৈরি করেন। এই ব্যতিক্রমী উপাদানের মিশ্রণ নিয়ে জনসমক্ষে কৌতুক বা আলোচনা হলেও, কাজল নিজের খাদ্যাভ্যাসে এটি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই বজায় রেখেছেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত এই ধরনের ডায়েট বা ঘরোয়া টোটকা অন্ধভাবে অনুকরণ না করে প্রত্যেকের শরীরের নিজস্ব গঠন এবং প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। দিনশেষে কাজলের জীবনধারা আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, বাহ্যিক সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য দামি প্রসাধনীর চেয়ে প্রতিদিনের ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনই সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।
রিপোর্টার নাম: 






















