Hi

০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাহাড়ের রোমাঞ্চ আর সংস্কৃতির মেলবন্ধন: রাজধানীতে দুটি ভিন্ন ধারার প্রদর্শনী সমাপনী পথে

রাজধানীর সংস্কৃতি আঙিনায় গত কয়েক দিন ধরে এক অন্যরকম নান্দনিক আবহ বজায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো পাহাড়ের দুর্গম প্রকৃতি, অ্যাডভেঞ্চার এবং পাহাড়ি জনজীবনের বৈচিত্র্য নিয়ে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আর অন্যটি বাঙালি সংস্কৃতির শেকড় ও নারীর গৃহস্থালি জীবন নিয়ে আয়োজিত একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। দুটি ভিন্ন ধারার এই প্রদর্শনী রাজধানীর শিল্পরসিকদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ গ্যালারিতে চলা এই আয়োজনগুলোতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রকৃতি, মানুষ এবং ইতিহাসের নানা না বলা গল্প।

গত শুক্রবার ছুটির দিনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির আর্ট গ্যালারিতে শুরু হয় পর্বতারোহণ ক্লাব ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’-এর যুগপূর্তি উপলক্ষে দুই দিনের বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ‘পিকস, পিপল, পারস্পেক্টিভ’ শিরোনামের এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বান্দরবানের সবুজ পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য থেকে শুরু করে হিমালয়ের বরফে ঢাকা বিপজ্জনক ও চূড়া জয়ের রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো। প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হচ্ছে মোট ১১৮টি ছবি, যা ক্লাবটির সদস্যদের দীর্ঘদিনের অভিযানের অভিজ্ঞতা থেকে ধারণ করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, পর্বতারোহণ শুধু একটি খেলা নয়, এটি প্রকৃতির খুব কাছাকাছি যাওয়ার এবং মানুষের ধৈর্য ও সাহসিকতার এক অনন্য পরীক্ষা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দিপক এলমার বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস হিসেবে পর্বতারোধণের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সমতলের সাধারণ মানুষ যেন পাহাড়ের দুর্গমতার কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারে, এই ছবিগুলো সেই সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রখ্যাত আলোকচিত্রী মুনিরা মোর্শেদ মুন্নি বলেন, চরম প্রতিকূল আবহাওয়ায় হিমালয়ের মতো উচ্চতায় গিয়ে ছবি তোলা অত্যন্ত দুরূহ একটি কাজ, যা এই আলোকচিত্রশিল্পীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেছেন। ক্লাবের সভাপতি ফরহান জামান সরকারের কাছে পর্বতারোহণকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ক্রীড়া হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানান।

অন্যদিকে, ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে চলছে শিল্পী সারাহ জাবিনের দ্বিতীয় একক প্রদর্শনী ‘চৌকাঠ’। গত ৩১ জুলাই শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীর আজ সমাপনী দিন। প্রদর্শনীতে মূলত নারী, গৃহস্থালি পরিসর, স্মৃতি, ঐতিহ্য এবং বাঙালি পরিবারের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত সাংস্কৃতিক শেকড়কে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী ও লেখক মুস্তফা জামান এবং বাংলাদেশে ফ্রান্স দূতাবাসের কালচারাল অ্যাটাশে বাতিস্ত ল্যব্রে। গবেষণানির্ভর এই শিল্পকর্মে সারাহ জাবিন নারীদের আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নীরব ধারক ও সংরক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

শিল্পী তাঁর এই প্রদর্শনীতে চারটি ভিন্ন শিল্পধারার মাধ্যমে বিষয়গুলোকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছেন। ‘বন ভয়েড’ সিরিজে লিনোকাট প্রিন্টের মাধ্যমে শৈশব থেকে নারীর পরিবর্তনশীল পরিচয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‘বিয়োগ সময়’ সিরিজে সাবানকে ভাস্কর্যের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ১৯৫০ থেকে ১৯৯০-এর দশকের পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও গৃহস্থালি পরিবেশের পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘শার্শি’ সিরিজে ঘরের ভেতরে নারীর অদৃশ্য অথচ দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতিকে তুলে ধরা হয়েছে। নিখুঁত তামার তারের রেখাচিত্রে প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠান ও ম্লান হয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলার কাজটিও দর্শকদের গভীরভাবে ভাবাচ্ছে। রাজধানী ঢাকার সংস্কৃতিপ্রেমীরা এই দুই ভিন্নধর্মী প্রদর্শনী ঘুরে দেখে শিল্প ও প্রকৃতির এক অপূর্ব সম্মিলন উপভোগ করছেন।

জনপ্রিয়

সমুদ্রের নিচে মানব বসতির নতুন অধ্যায়: ফ্লোরিডা উপকূলে স্থাপন করা হলো ‘ভ্যানগার্ড’ স্টেশন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পাহাড়ের রোমাঞ্চ আর সংস্কৃতির মেলবন্ধন: রাজধানীতে দুটি ভিন্ন ধারার প্রদর্শনী সমাপনী পথে

আপডেট : ০২:২২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর সংস্কৃতি আঙিনায় গত কয়েক দিন ধরে এক অন্যরকম নান্দনিক আবহ বজায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো পাহাড়ের দুর্গম প্রকৃতি, অ্যাডভেঞ্চার এবং পাহাড়ি জনজীবনের বৈচিত্র্য নিয়ে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আর অন্যটি বাঙালি সংস্কৃতির শেকড় ও নারীর গৃহস্থালি জীবন নিয়ে আয়োজিত একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। দুটি ভিন্ন ধারার এই প্রদর্শনী রাজধানীর শিল্পরসিকদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ গ্যালারিতে চলা এই আয়োজনগুলোতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রকৃতি, মানুষ এবং ইতিহাসের নানা না বলা গল্প।

গত শুক্রবার ছুটির দিনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির আর্ট গ্যালারিতে শুরু হয় পর্বতারোহণ ক্লাব ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’-এর যুগপূর্তি উপলক্ষে দুই দিনের বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ‘পিকস, পিপল, পারস্পেক্টিভ’ শিরোনামের এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বান্দরবানের সবুজ পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য থেকে শুরু করে হিমালয়ের বরফে ঢাকা বিপজ্জনক ও চূড়া জয়ের রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো। প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হচ্ছে মোট ১১৮টি ছবি, যা ক্লাবটির সদস্যদের দীর্ঘদিনের অভিযানের অভিজ্ঞতা থেকে ধারণ করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, পর্বতারোহণ শুধু একটি খেলা নয়, এটি প্রকৃতির খুব কাছাকাছি যাওয়ার এবং মানুষের ধৈর্য ও সাহসিকতার এক অনন্য পরীক্ষা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দিপক এলমার বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস হিসেবে পর্বতারোধণের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সমতলের সাধারণ মানুষ যেন পাহাড়ের দুর্গমতার কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারে, এই ছবিগুলো সেই সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রখ্যাত আলোকচিত্রী মুনিরা মোর্শেদ মুন্নি বলেন, চরম প্রতিকূল আবহাওয়ায় হিমালয়ের মতো উচ্চতায় গিয়ে ছবি তোলা অত্যন্ত দুরূহ একটি কাজ, যা এই আলোকচিত্রশিল্পীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেছেন। ক্লাবের সভাপতি ফরহান জামান সরকারের কাছে পর্বতারোহণকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ক্রীড়া হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানান।

অন্যদিকে, ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে চলছে শিল্পী সারাহ জাবিনের দ্বিতীয় একক প্রদর্শনী ‘চৌকাঠ’। গত ৩১ জুলাই শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীর আজ সমাপনী দিন। প্রদর্শনীতে মূলত নারী, গৃহস্থালি পরিসর, স্মৃতি, ঐতিহ্য এবং বাঙালি পরিবারের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত সাংস্কৃতিক শেকড়কে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী ও লেখক মুস্তফা জামান এবং বাংলাদেশে ফ্রান্স দূতাবাসের কালচারাল অ্যাটাশে বাতিস্ত ল্যব্রে। গবেষণানির্ভর এই শিল্পকর্মে সারাহ জাবিন নারীদের আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নীরব ধারক ও সংরক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

শিল্পী তাঁর এই প্রদর্শনীতে চারটি ভিন্ন শিল্পধারার মাধ্যমে বিষয়গুলোকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছেন। ‘বন ভয়েড’ সিরিজে লিনোকাট প্রিন্টের মাধ্যমে শৈশব থেকে নারীর পরিবর্তনশীল পরিচয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‘বিয়োগ সময়’ সিরিজে সাবানকে ভাস্কর্যের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ১৯৫০ থেকে ১৯৯০-এর দশকের পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও গৃহস্থালি পরিবেশের পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘শার্শি’ সিরিজে ঘরের ভেতরে নারীর অদৃশ্য অথচ দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতিকে তুলে ধরা হয়েছে। নিখুঁত তামার তারের রেখাচিত্রে প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠান ও ম্লান হয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলার কাজটিও দর্শকদের গভীরভাবে ভাবাচ্ছে। রাজধানী ঢাকার সংস্কৃতিপ্রেমীরা এই দুই ভিন্নধর্মী প্রদর্শনী ঘুরে দেখে শিল্প ও প্রকৃতির এক অপূর্ব সম্মিলন উপভোগ করছেন।