গবেষণার সারসংক্ষেপ
- সূত্র: বিবিসি সায়েন্স ফোকাস
- মূল বিষয়: শরীরী ভাষা ও মিথ্যা শনাক্তকরণ
- গবেষণার ক্ষেত্র: মনোবিজ্ঞান ও আচরণগত বিশ্লেষণ
- আদালতের তথ্য: ২০২৪ সালের এক গবেষণায় অস্ট্রেলিয়ার ৬০২টি মামলার মধ্যে ৪৫টিতে সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ে শরীরী ভাষাকে বিবেচ্য বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেউ মিথ্যা বলছে কি না, তা বোঝার জন্য অনেকেই তার চোখের দিকে তাকান, হাত-পায়ের নড়াচড়া খেয়াল করেন কিংবা মুখের অভিব্যক্তি দেখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অনেক ভিডিও পাওয়া যায়, যেখানে দাবি করা হয় যে চোখে চোখ না রাখা, বারবার নড়াচড়া করা, নাক চুলকানো বা হাত গুটিয়ে রাখার মতো আচরণ নাকি মিথ্যা বলার নিশ্চিত লক্ষণ। কিন্তু বাস্তবে শরীরী ভাষা দেখে একজন মিথ্যাবাদীকে শনাক্ত করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা চলছে।
কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া-ওকানাগানের ট্রুথ অ্যান্ড ট্রাস্ট ল্যাবের পরিচালক ও মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক লিয়ান টেন ব্রিঙ্কে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মিথ্যা বলার আচরণ নিয়ে কাজ করছেন। তার মতে, গবেষকরা বহু বছর ধরে এমন কোনো নির্দিষ্ট আচরণের সংকেত খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন, যা দিয়ে নিশ্চিতভাবে সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদীকে আলাদা করা যায়। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো নির্ভরযোগ্য ‘মিথ্যা ধরার সংকেত’ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, রূপকথার পিনোকিওর মতো মিথ্যা বললেই নাক লম্বা হয়ে যাওয়ার মতো কোনো শারীরিক পরিবর্তন বাস্তবে ঘটে না।
আমরা কেবল মুখ দিয়ে কথা বলে যোগাযোগ করি না। কথা বলার সময় হাত নাড়ানো, ভ্রু কুঁচকানো, হাসি, মুখের ভঙ্গি বদলানো, চোখ ছোট করা কিংবা হাত গুটিয়ে রাখার মতো বিষয়গুলো শরীরী ভাষার অংশ। ইংল্যান্ডের এজ হিল ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক জিওফ বিটির মতে, শরীরের কিছু নড়াচড়া আমরা ইচ্ছা করে করি, আবার কিছু ঘটে যায় একেবারে অজান্তেই। এই অজান্তে ঘটে যাওয়া আচরণগুলোই গবেষকদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কথা বলার সময় মানুষ তার বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও শরীরের প্রতিটি নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।
অধ্যাপক বিটির গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ মিথ্যা বলার সময় তার হাতের অঙ্গভঙ্গি কিছুটা কমে যেতে পারে। অনেক সময় হাতের নড়াচড়া মুখের কথার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। যেমন, মুখে কেউ একটি বিষয় বলছেন, কিন্তু তার হাতের অঙ্গভঙ্গি যেন অন্য কিছু বোঝাচ্ছে। এমন অসামঞ্জস্য মিথ্যা বলার একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে, তবে এটি নিশ্চিত কোনো প্রমাণ নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারণাগুলোর একটি হলো, মিথ্যা বলার সময় মানুষ চোখে চোখ রাখতে পারে না। কিন্তু গবেষণায় এর পক্ষে শক্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেউ চোখে চোখ না রাখলেই সে মিথ্যা বলছে—এমন সিদ্ধান্তে আসা ভুল। একইভাবে, অতিরিক্ত চোখে চোখ রাখাও মিথ্যার নিশ্চিত লক্ষণ নয়। মানুষের আচরণ সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন হয়; অনেক সংস্কৃতিতে দীর্ঘক্ষণ চোখে চোখ রাখা অস্বস্তিকর বা অশোভন বলে গণ্য হয়। তাই কেবল চোখের দিকে তাকিয়ে কারও সত্য-মিথ্যা বিচার করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
কেউ কথা বলার সময় হাত-পা নাড়ালে, আঙুল নিয়ে খেললে বা নাক চুলকালে অনেকে সেটিকে মিথ্যার সংকেত মনে করেন। কিন্তু এসবের পেছনে নার্ভাসনেস, অস্বস্তি, ক্লান্তি কিংবা অভ্যাসের মতো অনেক কারণ থাকতে পারে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব মন্ট্রিয়ালের অধ্যাপক ভিনসেন্ট দ্যনো স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের গবেষণায় এমন কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গভঙ্গি বা মুখের অভিব্যক্তি পাওয়া যায়নি, যা মিথ্যা বলার সময় সব মানুষের মধ্যে দেখা যায় এবং সত্য বলার সময় কখনো দেখা যায় না।
মুখের খুব দ্রুত ঘটে যাওয়া কিছু পরিবর্তন বা ‘মাইক্রো-এক্সপ্রেশন’ নিয়েও গবেষণা হয়েছে। মুহূর্তের জন্য নাক কুঁচকে যাওয়া বা ক্ষণস্থায়ী হাসির মতো অভিব্যক্তিগুলো মানুষের প্রকৃত আবেগ প্রকাশ করতে পারে। তবে সমস্যা হলো, সাধারণ মানুষের পক্ষে এত দ্রুত ঘটে যাওয়া পরিবর্তন শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। এক গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মুখভঙ্গি দেখে সত্য-মিথ্যা শনাক্ত করতে বলা হলে তাদের সাফল্য সাধারণ অনুমানের চেয়ে খুব একটা ভালো ছিল না।
অনেকে মনে করেন, কাউকে মিথ্যা বলার সময় ধরতে হলে আগে তার ‘বেসলাইন’ বা স্বাভাবিক আচরণ বুঝে নিতে হবে। অর্থাৎ, স্বাভাবিক অবস্থায় তিনি কীভাবে কথা বলেন বা হাত নাড়েন, তা আগে খেয়াল করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে এটি প্রমাণ করা কঠিন, কারণ ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নের মুখে মানুষের আচরণ স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তিত হতে পারে। নিজের নাম বলার সময় যে আচরণ করবেন, গুরুতর কোনো প্রশ্নের সময় একই আচরণ করবেন—এমন কোনো যুক্তি নেই।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমাদের নিজেদের পক্ষপাত। আমরা অনেক সময় কাউকে আগে থেকেই অবিশ্বাস করি, ফলে তার সামান্য অস্বাভাবিক আচরণকেও মিথ্যার প্রমাণ বলে মনে হতে পারে। গবেষকদের আশঙ্কা, আদালতে শরীরী ভাষাকে বিশ্বাসযোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করা বিপজ্জনক। একজন সাক্ষী নার্ভাস হয়ে কথা বলছেন বা অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রশ্নের সময় কাঁপছেন মানেই তিনি মিথ্যা বলছেন—এমন ধারণা ভুল। শরীরী ভাষার কোনো একটি সংকেতের ওপর নির্ভর না করে বরং বক্তব্যের বিস্তারিত বিবরণ, স্পষ্টতা এবং অসামঞ্জস্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া বেশি কার্যকর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গ্যাস সংকটে বাড়ছে বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেপাল-তিব্বতে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আত্মগোপনে থাকা চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী চট্টগ্রামে পরিবারসহ আটক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৫ বৈশিষ্ট্যের মানুষ দীর্ঘদিন বাঁচে, জানাল গবেষণা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানুষ কেন ঘুমের মধ্যে হাঁটে, বিজ্ঞান যা বলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মুখের অভিব্যক্তিতে কি মিথ্যা ধরা পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ধারণাটি শুনতে যুক্তিসংগত মনে হলেও বাস্তবে এটা প্রমাণ করা কঠিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এখানেও শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাশতা কখন খাচ্ছেন, প্রভাব ফেলতে পারে আয়ুর ওপর।
- প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছাত্রীকে বাবা-ভাই থেকে বিচ্ছিন্ন করতে ধর্ষণের ‘নাটক’ সাজান শিক্ষক: পুলিশ।
রিপোর্টার নাম: 

























