Hi

০৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ার শেরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি সংকটে অচল, ভোগান্তিতে রোগীরা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও জ্বালানির অভাবে তা নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ডগুলোতে ফ্যান চালানোর কোনো ব্যবস্থা থাকে না, যা রোগীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ স্বাস্থ্যসেবার মানদণ্ডে এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ ও ২০২৬ সালে সারা দেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে সাতটা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ওয়ার্ডগুলোতে ভ্যাপসা গরম তৈরি হয়। এ সময় রোগীদের স্বজনদের প্লাস্টিক বা তালপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা যায়। শুক্রবার রাত আটটা পর্যন্ত ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে ৫৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টসহ গুরুতর অসুস্থ রোগীদের গরমে কষ্ট সবচেয়ে বেশি হচ্ছে।

পুরুষ ওয়ার্ডের ৪৪ নম্বর বিছানায় চিকিৎসাধীন গোপালপুর গ্রামের আবদুস সামাদ (৫০) শ্বাসকষ্ট নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভর্তি হন। তাঁর স্ত্রী চম্পা বেগম জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত আর আসে না। এ সময় গরমে স্বামীর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং দীর্ঘক্ষণ হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওয়ার্ডের নার্স নাজনীন আক্তার জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে প্রতিটি ওয়ার্ডে কেবল দুটি করে এনার্জি বাল্ব জ্বালানোর ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু ফ্যান চালানোর কোনো সুযোগ নেই।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি বিভাগে আইপিএসের মাধ্যমে ফ্যান ও বাতি সচল রাখা সম্ভব হয়। এছাড়া অপারেশন থিয়েটারের জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও সেটি কেবল জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, জেনারেটর থাকলেও এর জ্বালানি কেনার জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ওয়ার্ডগুলোতে ফ্যান চালানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জনপ্রিয়

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বংশাই নদীতে নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পর শিশুর সন্ধান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বগুড়ার শেরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি সংকটে অচল, ভোগান্তিতে রোগীরা

আপডেট : ০২:০১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও জ্বালানির অভাবে তা নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়ার্ডগুলোতে ফ্যান চালানোর কোনো ব্যবস্থা থাকে না, যা রোগীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ স্বাস্থ্যসেবার মানদণ্ডে এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ ও ২০২৬ সালে সারা দেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে সাতটা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ওয়ার্ডগুলোতে ভ্যাপসা গরম তৈরি হয়। এ সময় রোগীদের স্বজনদের প্লাস্টিক বা তালপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা যায়। শুক্রবার রাত আটটা পর্যন্ত ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে ৫৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টসহ গুরুতর অসুস্থ রোগীদের গরমে কষ্ট সবচেয়ে বেশি হচ্ছে।

পুরুষ ওয়ার্ডের ৪৪ নম্বর বিছানায় চিকিৎসাধীন গোপালপুর গ্রামের আবদুস সামাদ (৫০) শ্বাসকষ্ট নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভর্তি হন। তাঁর স্ত্রী চম্পা বেগম জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত আর আসে না। এ সময় গরমে স্বামীর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং দীর্ঘক্ষণ হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওয়ার্ডের নার্স নাজনীন আক্তার জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে প্রতিটি ওয়ার্ডে কেবল দুটি করে এনার্জি বাল্ব জ্বালানোর ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু ফ্যান চালানোর কোনো সুযোগ নেই।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি বিভাগে আইপিএসের মাধ্যমে ফ্যান ও বাতি সচল রাখা সম্ভব হয়। এছাড়া অপারেশন থিয়েটারের জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও সেটি কেবল জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, জেনারেটর থাকলেও এর জ্বালানি কেনার জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ওয়ার্ডগুলোতে ফ্যান চালানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।