Hi

০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ার শেরপুরে সারের বাড়তি দাম ও কৃত্রিম সংকট: বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে টিএসপি ও ডিএপি সার সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সার কেনার সময় বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে, অথচ অনেক ক্ষেত্রে বিক্রেতারা কোনো ক্যাশ মেমো দিচ্ছেন না। এছাড়া বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের জিম্মি করার অভিযোগও উঠেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুর ও সাতারা, মির্জাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবালা ও তালতা, শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া, গাড়িদহ ইউনিয়নের মিচকীপাড়া এবং খামারকান্দি ইউনিয়নের হুসনাবাদ এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন, চাষাবাদের মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। সরকারি দামে সার চাইলে বিক্রেতারা ‘সার শেষ’ বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন, অথচ বেশি দাম দিতে রাজি হলে সার পাওয়া যাচ্ছে।

সাতারা গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান জানান, তিনি ১২-১৩ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করছেন। সময়মতো সার না পেলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, পাইকারি থেকে খুচরা—কোথাও পর্যাপ্ত ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ওহিদুল ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, মাহমুদুল হক, আবু সাঈদ, বাচ্চু শেখ ও বাবলুসহ স্থানীয় অনেক কৃষক।

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হিসাবে প্রতি বস্তা টিএসপি সারের দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একইভাবে ১ হাজার ৫০ টাকা নির্ধারিত দামের ডিএপি সার ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। কাশিয়াবালা গ্রামের কৃষক বাচ্চু শেখের অভিযোগ, প্রতি বছরই সারের মৌসুমে ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, অথচ কৃষি অফিসে অভিযোগ করেও প্রতিকার মেলে না।

অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের কাছ থেকে সার কেনার সময় তাদের বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, বেশি দামে সার কিনলেও মেমোতে সরকারি মূল্যই দেখানো হচ্ছে। তবে ডিলাররা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ডিলার শফিকুল ইসলাম শিরু দাবি করেছেন, বাজারে সারের কোনো সংকট নেই এবং যে সংকট দেখা যাচ্ছে তা ভুয়া। কুন্ডু ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী তাপস কুন্ডুও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, ১২ আগস্ট তিনি বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ডিএপি সারের কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে।

কৃষকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর নয়। স্থানীয় কিছু উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে ডিলারদের যোগসাজশ থাকারও অভিযোগ উঠেছে। কৃষকরা এখন প্রশ্ন তুলছেন, এই বাড়তি টাকা কোথায় যাচ্ছে এবং কারা এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার জানান, উপজেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। বাজার নিয়ন্ত্রণে ডিলারদের খুচরা পর্যায়ে সার বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো ডিলার অতিরিক্ত দাম নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কৃষক ওহিদুল ইসলাম ৩ বিঘা, হামিদুল ইসলাম ৪ বিঘা, মাহমুদুল হক ২ বিঘা, আবু সাঈদ ৫ বিঘা, কাশিয়াবালা গ্রামের বাচ্চু শেখ ২ বিঘা ও বাবলু ৩ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে সাময়িকভাবে চাহিদা বেড়ে গিয়ে সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

জনপ্রিয়

বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বগুড়ার শেরপুরে সারের বাড়তি দাম ও কৃত্রিম সংকট: বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা

আপডেট : ১২:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে টিএসপি ও ডিএপি সার সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সার কেনার সময় বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে, অথচ অনেক ক্ষেত্রে বিক্রেতারা কোনো ক্যাশ মেমো দিচ্ছেন না। এছাড়া বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের জিম্মি করার অভিযোগও উঠেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুর ও সাতারা, মির্জাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবালা ও তালতা, শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া, গাড়িদহ ইউনিয়নের মিচকীপাড়া এবং খামারকান্দি ইউনিয়নের হুসনাবাদ এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন, চাষাবাদের মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। সরকারি দামে সার চাইলে বিক্রেতারা ‘সার শেষ’ বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন, অথচ বেশি দাম দিতে রাজি হলে সার পাওয়া যাচ্ছে।

সাতারা গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান জানান, তিনি ১২-১৩ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করছেন। সময়মতো সার না পেলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, পাইকারি থেকে খুচরা—কোথাও পর্যাপ্ত ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ওহিদুল ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, মাহমুদুল হক, আবু সাঈদ, বাচ্চু শেখ ও বাবলুসহ স্থানীয় অনেক কৃষক।

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হিসাবে প্রতি বস্তা টিএসপি সারের দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একইভাবে ১ হাজার ৫০ টাকা নির্ধারিত দামের ডিএপি সার ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। কাশিয়াবালা গ্রামের কৃষক বাচ্চু শেখের অভিযোগ, প্রতি বছরই সারের মৌসুমে ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, অথচ কৃষি অফিসে অভিযোগ করেও প্রতিকার মেলে না।

অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের কাছ থেকে সার কেনার সময় তাদের বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, বেশি দামে সার কিনলেও মেমোতে সরকারি মূল্যই দেখানো হচ্ছে। তবে ডিলাররা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ডিলার শফিকুল ইসলাম শিরু দাবি করেছেন, বাজারে সারের কোনো সংকট নেই এবং যে সংকট দেখা যাচ্ছে তা ভুয়া। কুন্ডু ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী তাপস কুন্ডুও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, ১২ আগস্ট তিনি বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ডিএপি সারের কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে।

কৃষকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর নয়। স্থানীয় কিছু উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে ডিলারদের যোগসাজশ থাকারও অভিযোগ উঠেছে। কৃষকরা এখন প্রশ্ন তুলছেন, এই বাড়তি টাকা কোথায় যাচ্ছে এবং কারা এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার জানান, উপজেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। বাজার নিয়ন্ত্রণে ডিলারদের খুচরা পর্যায়ে সার বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো ডিলার অতিরিক্ত দাম নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কৃষক ওহিদুল ইসলাম ৩ বিঘা, হামিদুল ইসলাম ৪ বিঘা, মাহমুদুল হক ২ বিঘা, আবু সাঈদ ৫ বিঘা, কাশিয়াবালা গ্রামের বাচ্চু শেখ ২ বিঘা ও বাবলু ৩ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে সাময়িকভাবে চাহিদা বেড়ে গিয়ে সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।