দেশে হামের প্রাদুর্ভাব থামছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ছয়জন মারা গেছেন। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে ১০৪ জনের এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৩৬ জনের; সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪০ জন।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২২ হাজার ২০ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ২৯৩ জন। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১১০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম ধরা পড়েছে। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭৬ জন, যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৭৩ জন। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে আক্রান্তদের বয়সভিত্তিক সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না, তবে রোগতত্ত্ববিদেরা সতর্ক করে বলেছেন যে, শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি ও প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয়।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে হাম ও উপসর্গে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে একজন করে মোট দুজন মারা গেছেন। সংক্রমণের এই বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা। তাদের মতে, চলতি বছরে হামে রেকর্ড পরিমাণ মৃত্যু ও সংক্রমণের প্রধান কারণ হলো প্রশাসনিক অবহেলা।
বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, ২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হামের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয়নি। মার্চ মাস থেকে প্রকোপ শুরু হলেও সময়মতো চিকিৎসা ও টিকার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হলেও তাতে অন্তত ৪০ লাখ শিশু টিকা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এই টিকাদান কার্যক্রমের ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনাকেই বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে সে সময় সরকার এদিকে ভ্রুক্ষেপ করেনি। কিন্তু সেই কর্মসূচিতে অন্তত ৪০ লাখ শিশু বাদ পড়ে যায়। বর্তমানে হামের ভয়ানক প্রকোপ বৃদ্ধির মূলে বড় কারণ এই ভুল।
রিপোর্টার নাম: 

























