Hi

০৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে ১৭ দিন ধরে অচল ক্যাম্পাস

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৫:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ জন দেখেছে

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান শাটডাউন ১৭তম দিনে গড়িয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউনের ডাক দেন, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা ১৭ দিনের মতো শাটডাউন চলছে।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, মশালমিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, গ্রাফিতি অঙ্কন, ‘৫৬ কেন’ কর্মসূচি, মুখোশমিছিল এবং প্রতিবাদী কনসার্ট। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। এর ফলে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রমও।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই দীর্ঘ অচলাবস্থায় বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পুরকৌশল, ইলেকট্রনিকস ও টেলিকমিউনিকেশনস ইঞ্জিনিয়ারিং, বস্তু ও ধাতব কৌশল এবং মেকাট্রনিকস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চলমান পরীক্ষাগুলো বন্ধ রয়েছে। এছাড়া কম্পিউটারবিজ্ঞান ও কৌশল, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং এবং যন্ত্রকৌশল বিভাগের ক্লাস শেষ হলেও চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের নির্ধারিত পরীক্ষাও শুরু করা যায়নি।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁরা দ্রুত শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরতে আগ্রহী, তবে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি থেকে সরতে নারাজ। পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তুষার আহমেদ জানান, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করা প্রয়োজন যাতে ক্যাম্পাসের কার্যক্রম সচল হয়। এদিকে, উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা অধ্যাপক সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবি জানাই।

চতুর্পক্ষীয় এই সংকটের বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আহসানউল্লাহ জানান, তারা সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে অটল রয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবে। তিনি আরও জানান, চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মপন্থা এবং ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে আগামী সপ্তাহে সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে গোলাগুলি: ইয়াছিনের ৫ সহযোগী গ্রেপ্তার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে ১৭ দিন ধরে অচল ক্যাম্পাস

আপডেট : ০৫:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান শাটডাউন ১৭তম দিনে গড়িয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউনের ডাক দেন, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা ১৭ দিনের মতো শাটডাউন চলছে।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, মশালমিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, গ্রাফিতি অঙ্কন, ‘৫৬ কেন’ কর্মসূচি, মুখোশমিছিল এবং প্রতিবাদী কনসার্ট। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। এর ফলে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রমও।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই দীর্ঘ অচলাবস্থায় বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পুরকৌশল, ইলেকট্রনিকস ও টেলিকমিউনিকেশনস ইঞ্জিনিয়ারিং, বস্তু ও ধাতব কৌশল এবং মেকাট্রনিকস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চলমান পরীক্ষাগুলো বন্ধ রয়েছে। এছাড়া কম্পিউটারবিজ্ঞান ও কৌশল, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং এবং যন্ত্রকৌশল বিভাগের ক্লাস শেষ হলেও চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের নির্ধারিত পরীক্ষাও শুরু করা যায়নি।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁরা দ্রুত শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরতে আগ্রহী, তবে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি থেকে সরতে নারাজ। পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তুষার আহমেদ জানান, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করা প্রয়োজন যাতে ক্যাম্পাসের কার্যক্রম সচল হয়। এদিকে, উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা অধ্যাপক সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবি জানাই।

চতুর্পক্ষীয় এই সংকটের বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আহসানউল্লাহ জানান, তারা সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে অটল রয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবে। তিনি আরও জানান, চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মপন্থা এবং ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে আগামী সপ্তাহে সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।