Hi

০৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে সিইসির বিরুদ্ধে ১০ অক্টোবর বিক্ষোভ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও কয়েকটি ছাত্র সংগঠন। সংগঠনগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভারতীয় নির্বাচনি ব্যবস্থা আমূল সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন কোনোভাবেই থামবে না, বরং তা দীর্ঘায়িত হতে পারে।

যৌথ আন্দোলনের ঘোষণা ও প্রেক্ষাপট

বুধবার আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ) এবং স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। এছাড়া আম আদমি পার্টির ছাত্র সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব স্টুডেন্টস ফর অল্টারনেটিভ পলিটিক্সও (এএসএপি) এই কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছে। সংগঠনগুলো গত ৬ অক্টোবর ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যদের নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে করা মিছিলে সমর্থন জানায় এবং এই সংগ্রামকে বিজেপির বিরুদ্ধে গণতন্ত্র রক্ষার বৃহত্তর লড়াই হিসেবে অভিহিত করে।

আন্দোলনের মূল দাবি ও লক্ষ্য

সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস দেশজুড়ে সর্বস্তরের মানুষকে দিল্লিতে এসে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই লড়াই সহজ হবে না এবং আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সৌরভ দাস ঘোষণা দেন যে, কেবল জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগেই তারা সন্তুষ্ট নন, কারণ তাদের লক্ষ্য সামগ্রিক নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার। তাদের দাবিনামায় রয়েছে: সিইসির পদত্যাগ, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) স্থগিত করা, আসন্ন নির্বাচন বন্ধ রাখা, ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভোটার তালিকা পুনর্বহাল এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করা। এছাড়া ২০২৩ সালে প্রণীত নির্বাচন কমিশনার নিয়োগসংক্রান্ত আইনটি বাতিল করে একটি স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য নিয়োগ পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছে তারা। তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা ও অধিকার নিয়ে রাস্তায় নামা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব।

পুলিশি অনুমতি ও রাজনৈতিক অবস্থান

আন্দোলনের জন্য দিল্লি পুলিশের অনুমতি নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সৌরভ দাস জানান, বুধবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কর্মসূচির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অঙ্গীকারনামাও প্রদান করা হয়েছে। তিনি ‘অনুমতি’ শব্দটি ব্যবহারের পরিবর্তে পুলিশকে জানানোই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেন। এদিকে এআইএসএর সভাপতি নেহা বোরাও জানান, ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। তার ভাষায়, সাধারণ মানুষ ও বিরোধী শক্তি একদিকে এবং নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অন্যপাশে অবস্থান করছে। তিনি ৬ অক্টোবরের প্রতিবাদকারী সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।

গণতন্ত্র বনাম স্বৈরতন্ত্রের লড়াই

  • এসএফআই নেতা আদর্শ শাজি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভারতীয় গণতন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
  • তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘গণতন্ত্র বনাম স্বৈরতন্ত্রের’ লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
  • এর আগে গত জুলাই মাসে সিজেপির নেতৃত্বে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছিল।
  • সংগঠনটির দাবি, সেই আন্দোলনের চাপের মুখেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
  • এবার ১০ অক্টোবরের কর্মসূচির মাধ্যমে তারা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাজপথে ধারাবাহিক চাপ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে।

পরিশেষে, ছাত্র সংগঠনগুলো জানিয়েছে যে, তারা দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সংকট নিরসনে কোনো আপস করবে না। সিজেপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর এই দাবিকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের একটি নতুন মোড় হিসেবে একে দেখছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ১০ অক্টোবরের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

দুর্গাপূজায় টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ভারতে সিইসির বিরুদ্ধে ১০ অক্টোবর বিক্ষোভ

আপডেট : ০৫:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও কয়েকটি ছাত্র সংগঠন। সংগঠনগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভারতীয় নির্বাচনি ব্যবস্থা আমূল সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন কোনোভাবেই থামবে না, বরং তা দীর্ঘায়িত হতে পারে।

যৌথ আন্দোলনের ঘোষণা ও প্রেক্ষাপট

বুধবার আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ) এবং স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। এছাড়া আম আদমি পার্টির ছাত্র সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব স্টুডেন্টস ফর অল্টারনেটিভ পলিটিক্সও (এএসএপি) এই কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছে। সংগঠনগুলো গত ৬ অক্টোবর ইন্ডিয়া জোটের সংসদ সদস্যদের নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে করা মিছিলে সমর্থন জানায় এবং এই সংগ্রামকে বিজেপির বিরুদ্ধে গণতন্ত্র রক্ষার বৃহত্তর লড়াই হিসেবে অভিহিত করে।

আন্দোলনের মূল দাবি ও লক্ষ্য

সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস দেশজুড়ে সর্বস্তরের মানুষকে দিল্লিতে এসে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই লড়াই সহজ হবে না এবং আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সৌরভ দাস ঘোষণা দেন যে, কেবল জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগেই তারা সন্তুষ্ট নন, কারণ তাদের লক্ষ্য সামগ্রিক নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার। তাদের দাবিনামায় রয়েছে: সিইসির পদত্যাগ, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) স্থগিত করা, আসন্ন নির্বাচন বন্ধ রাখা, ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভোটার তালিকা পুনর্বহাল এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করা। এছাড়া ২০২৩ সালে প্রণীত নির্বাচন কমিশনার নিয়োগসংক্রান্ত আইনটি বাতিল করে একটি স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য নিয়োগ পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছে তারা। তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা ও অধিকার নিয়ে রাস্তায় নামা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব।

পুলিশি অনুমতি ও রাজনৈতিক অবস্থান

আন্দোলনের জন্য দিল্লি পুলিশের অনুমতি নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সৌরভ দাস জানান, বুধবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কর্মসূচির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অঙ্গীকারনামাও প্রদান করা হয়েছে। তিনি ‘অনুমতি’ শব্দটি ব্যবহারের পরিবর্তে পুলিশকে জানানোই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেন। এদিকে এআইএসএর সভাপতি নেহা বোরাও জানান, ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। তার ভাষায়, সাধারণ মানুষ ও বিরোধী শক্তি একদিকে এবং নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অন্যপাশে অবস্থান করছে। তিনি ৬ অক্টোবরের প্রতিবাদকারী সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।

গণতন্ত্র বনাম স্বৈরতন্ত্রের লড়াই

  • এসএফআই নেতা আদর্শ শাজি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভারতীয় গণতন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
  • তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘গণতন্ত্র বনাম স্বৈরতন্ত্রের’ লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
  • এর আগে গত জুলাই মাসে সিজেপির নেতৃত্বে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছিল।
  • সংগঠনটির দাবি, সেই আন্দোলনের চাপের মুখেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
  • এবার ১০ অক্টোবরের কর্মসূচির মাধ্যমে তারা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাজপথে ধারাবাহিক চাপ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে।

পরিশেষে, ছাত্র সংগঠনগুলো জানিয়েছে যে, তারা দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সংকট নিরসনে কোনো আপস করবে না। সিজেপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর এই দাবিকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের একটি নতুন মোড় হিসেবে একে দেখছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ১০ অক্টোবরের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে দেখা হচ্ছে।