Hi

০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তা ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে দিল্লি সফরে দীনেশ

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী হঠাৎ করেই গত সোমবার দিল্লি সফরে গেছেন। তিন দিনের এই সফরসূচিতে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সফরের শুরুতে মঙ্গলবার তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেন। ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে এটি তাদের দ্বিতীয় বৈঠক। রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদীকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল যাতে তিনি সরাসরি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এই নিয়োগটি দেয়া হয়েছিল, যা এখন দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। সাধারণত ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগের কোনো সুযোগ থাকে না।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ত্রিবেদীর এই দিল্লি সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি। সোমবারই তিনি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকে দুই প্রতিবেশী দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব জোরদার এবং কৌশলগত সামরিক সমন্বয় বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, হাইকমিশনার বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সামরিক বোঝাপড়া ও অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের বিষয়গুলো সেনাপ্রধানের কাছে তুলে ধরেছেন। এরপর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনার কথা রয়েছে। আর শেষ বৈঠকটি হবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে। দিল্লিতে কূটনৈতিক মহলেও ত্রিবেদীর দিল্লি ছুটে আসা এবং একের পর এক বৈঠকের মাধ্যমে কী বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তাদের একাংশ মনে করছেন, ঢাকায় বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে হাসিনার ঢাকায় ফেরা নিয়ে মনোভাবের যে আঁচ পেয়েছেন তা তিনি দিল্লিকে জানাতে এসেছেন।

ঢাকায় নিযুক্ত থাকাকালীন দীনেশ ত্রিবেদী প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং গত সপ্তাহে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্নে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন তিনি। সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে যে গুঞ্জন উঠেছে, তাতেও ত্রিবেদী নেপথ্যে ভূমিকা রাখছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিল্লিতে অবস্থানরত বাংলাদেশ বিষয়ে অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের মতে, ঢাকা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব দিল্লিকে অবহিত করতে পারেন। এক্ষেত্রে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করার পাশাপাশি তা আরও সুদৃঢ় করার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতি হিসেবে দুই দেশের মধ্যেকার বিভিন্ন স্তরের ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৯০টি ওয়ার্কিং গ্রুপ কার্যকর রয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৮-৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বাণিজ্য সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উক্ত বৈঠকে যোগ দিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল দিল্লি যাচ্ছে। ত্রিবেদীর এই সফরটি সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয়

টাঙ্গাইলে বিয়ের রাতেই বাসরঘরে বরের মৃত্যু

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নিরাপত্তা ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে দিল্লি সফরে দীনেশ

আপডেট : ০৫:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী হঠাৎ করেই গত সোমবার দিল্লি সফরে গেছেন। তিন দিনের এই সফরসূচিতে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সফরের শুরুতে মঙ্গলবার তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেন। ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে এটি তাদের দ্বিতীয় বৈঠক। রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদীকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল যাতে তিনি সরাসরি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এই নিয়োগটি দেয়া হয়েছিল, যা এখন দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। সাধারণত ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগের কোনো সুযোগ থাকে না।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ত্রিবেদীর এই দিল্লি সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি। সোমবারই তিনি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকে দুই প্রতিবেশী দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব জোরদার এবং কৌশলগত সামরিক সমন্বয় বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, হাইকমিশনার বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় সামরিক বোঝাপড়া ও অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের বিষয়গুলো সেনাপ্রধানের কাছে তুলে ধরেছেন। এরপর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনার কথা রয়েছে। আর শেষ বৈঠকটি হবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে। দিল্লিতে কূটনৈতিক মহলেও ত্রিবেদীর দিল্লি ছুটে আসা এবং একের পর এক বৈঠকের মাধ্যমে কী বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তাদের একাংশ মনে করছেন, ঢাকায় বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে হাসিনার ঢাকায় ফেরা নিয়ে মনোভাবের যে আঁচ পেয়েছেন তা তিনি দিল্লিকে জানাতে এসেছেন।

ঢাকায় নিযুক্ত থাকাকালীন দীনেশ ত্রিবেদী প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং গত সপ্তাহে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্নে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন তিনি। সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে যে গুঞ্জন উঠেছে, তাতেও ত্রিবেদী নেপথ্যে ভূমিকা রাখছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিল্লিতে অবস্থানরত বাংলাদেশ বিষয়ে অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের মতে, ঢাকা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব দিল্লিকে অবহিত করতে পারেন। এক্ষেত্রে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করার পাশাপাশি তা আরও সুদৃঢ় করার জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতি হিসেবে দুই দেশের মধ্যেকার বিভিন্ন স্তরের ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৯০টি ওয়ার্কিং গ্রুপ কার্যকর রয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৮-৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বাণিজ্য সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উক্ত বৈঠকে যোগ দিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল দিল্লি যাচ্ছে। ত্রিবেদীর এই সফরটি সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।