Hi

০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আইরিন খানের দায়িত্ব গ্রহণ

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান মানবাধিকার কর্মী আইরিন জুবাইদা খান। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে তিনি তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বৈশ্বিক এই সংস্থায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব শুরু করলেন।

দায়িত্ব ও পটভূমি

  • গত ৮ জুলাই আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
  • তিনি বিদায়ী স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন নোমানকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
  • আইরিন খান ২০২০ সালের ১ আগস্ট থেকে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই পদে কাজ করা প্রথম নারী ছিলেন তিনি।
  • ২০০১ সাল থেকে টানা আট বছর তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা

আইরিন খানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের শুরু হয় জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এ, যেখানে তিনি ২১ বছর বিভিন্ন দেশে এবং সদর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ভারতে ইউএনএইচসিআর-এর মিশন প্রধান হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা আন্তঃসরকার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যের স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং ২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির ল স্কুলে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০-২০১১ সময়ে তিনি ডেইলি স্টার পত্রিকার কনসাল্টিং এডিটর হিসেবেও কাজ করেছেন।

শিক্ষা ও স্বীকৃতি

মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করা আইরিন খান বর্তমানে জেনিভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষক। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড ল স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। এছাড়াও তিনি বিশ্ব ব্যাংকের জেন্ডার উপদেষ্টা পরিষদ, ইউএনএইডসের এইচআইভি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল এবং জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্ট বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, ব্র্যাক এবং উগান্ডার ‘বেয়ারফুট ল’ প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মানবাধিকারের লড়াইয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি সিডনি শান্তি পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারতে ইউএনএইচসিআরের মিশন প্রধানের দায়িত্বও সামলেছেন।

বাংলাদেশে পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আইরিন খানের দায়িত্ব গ্রহণ

আপডেট : ১১:৫২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান মানবাধিকার কর্মী আইরিন জুবাইদা খান। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে তিনি তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বৈশ্বিক এই সংস্থায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব শুরু করলেন।

দায়িত্ব ও পটভূমি

  • গত ৮ জুলাই আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
  • তিনি বিদায়ী স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন নোমানকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
  • আইরিন খান ২০২০ সালের ১ আগস্ট থেকে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই পদে কাজ করা প্রথম নারী ছিলেন তিনি।
  • ২০০১ সাল থেকে টানা আট বছর তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা

আইরিন খানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের শুরু হয় জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এ, যেখানে তিনি ২১ বছর বিভিন্ন দেশে এবং সদর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ভারতে ইউএনএইচসিআর-এর মিশন প্রধান হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা আন্তঃসরকার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যের স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং ২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির ল স্কুলে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০-২০১১ সময়ে তিনি ডেইলি স্টার পত্রিকার কনসাল্টিং এডিটর হিসেবেও কাজ করেছেন।

শিক্ষা ও স্বীকৃতি

মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করা আইরিন খান বর্তমানে জেনিভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষক। তিনি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড ল স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। এছাড়াও তিনি বিশ্ব ব্যাংকের জেন্ডার উপদেষ্টা পরিষদ, ইউএনএইডসের এইচআইভি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল এবং জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্ট বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, ব্র্যাক এবং উগান্ডার ‘বেয়ারফুট ল’ প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মানবাধিকারের লড়াইয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি সিডনি শান্তি পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারতে ইউএনএইচসিআরের মিশন প্রধানের দায়িত্বও সামলেছেন।