Hi

০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইরিন খান |: বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ‘দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোতে মানবাধিকারকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আলোচনায় তিনি জোর দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সমতা, মানবিক মর্যাদা এবং মৌলিক অধিকারের সুরক্ষাকেই উন্নয়নের মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ঢাকায় পাওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আইরিন খান তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেন প্রকৃত অর্থেই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়, তা নিশ্চিত করতে ন্যায়সংগত কর ব্যবস্থা, সাশ্রয়ী উন্নয়ন অর্থায়ন এবং ঋণের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা অপরিহার্য। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্কও এই আলোচনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা, বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সংলাপে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা কাঠামোগত বৈষম্য দূরীকরণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা ও নাগরিক সমাজের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আলোচনায় উঠে এসেছে যে, সংঘাত এবং ঋণের উচ্চ পরিশোধ ব্যয়ের কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক খাতে বিনিয়োগ সংকুচিত হচ্ছে। ২০৩০ পরবর্তী বৈশ্বিক উন্নয়ন কাঠামোতে মানবাধিকারের নীতিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশ, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উরুগুয়ের স্থায়ী মিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপে মরক্কোর ওমর হিলালে, উরুগুয়ের লরা দুপুই লাসের, দক্ষিণ আফ্রিকার এমক্সোলিসি এনকোসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত স্তাভরোস লামব্রিনিদিসসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইগনাসিও সাইস, অধ্যাপক সাকিকো ফুকুদা-পার এবং জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ আতিয়া ওয়ারিসও তাদের মূল্যবান মতামতের মাধ্যমে আলোচনায় অবদান রাখেন।

সাজেকে টানা সাত দিনের অবরোধে স্থবির জনজীবন, বিপাকে স্থানীয়রা

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আইরিন খান |: বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

আপডেট : ০২:২৪:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ‘দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোতে মানবাধিকারকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আলোচনায় তিনি জোর দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সমতা, মানবিক মর্যাদা এবং মৌলিক অধিকারের সুরক্ষাকেই উন্নয়নের মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ঢাকায় পাওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আইরিন খান তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেন প্রকৃত অর্থেই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়, তা নিশ্চিত করতে ন্যায়সংগত কর ব্যবস্থা, সাশ্রয়ী উন্নয়ন অর্থায়ন এবং ঋণের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা অপরিহার্য। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্কও এই আলোচনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা, বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সংলাপে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা কাঠামোগত বৈষম্য দূরীকরণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা ও নাগরিক সমাজের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আলোচনায় উঠে এসেছে যে, সংঘাত এবং ঋণের উচ্চ পরিশোধ ব্যয়ের কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক খাতে বিনিয়োগ সংকুচিত হচ্ছে। ২০৩০ পরবর্তী বৈশ্বিক উন্নয়ন কাঠামোতে মানবাধিকারের নীতিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশ, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উরুগুয়ের স্থায়ী মিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপে মরক্কোর ওমর হিলালে, উরুগুয়ের লরা দুপুই লাসের, দক্ষিণ আফ্রিকার এমক্সোলিসি এনকোসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত স্তাভরোস লামব্রিনিদিসসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইগনাসিও সাইস, অধ্যাপক সাকিকো ফুকুদা-পার এবং জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ আতিয়া ওয়ারিসও তাদের মূল্যবান মতামতের মাধ্যমে আলোচনায় অবদান রাখেন।