Hi

০২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নজরদারিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া

চাকরি প্রার্থীদের আস্থা ফেরাতে রাতভর সচিবালয়ে আমিনুল হক

  • মীর আলাউদ্দিন
  • আপডেট : ০১:৫৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৯৫৮ জন দেখেছে

চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আগের পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর নতুন পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না রাখতে সচিবালয়ে রাতভর অবস্থান করে নিয়োগ কার্যক্রম তদারকি করছেন তিনি।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার রাতেও সচিবালয়ে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ চলছিল। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রয়োজন হলে নিজ দপ্তরেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রতিমন্ত্রী, যাতে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা তদারকিতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

তিন লাখের বেশি প্রার্থীর পরীক্ষা, বাড়তি সতর্কতা

১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর অংশগ্রহণে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় দায়িত্ব। প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে এবার পরীক্ষার প্রস্তুতিতে একাধিক নিরাপত্তামূলক পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে পুলিশি পাহারায় কেন্দ্রগুলোতে প্রশ্নপত্র পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর এলাকার শতাধিক কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

আগের ঘটনায় ভোগান্তি, তদন্তে গুরুত্ব

গত ১০ অক্টোবর পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় আসা অসংখ্য চাকরিপ্রার্থী বিপাকে পড়েন। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভও হয়।

ঘটনাটি তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি, ছাপানো ও ফটোকপির কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সিআইডির ফরেনসিক দলও আলামত সংগ্রহ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, তদন্তে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিংবা বাইরের কারও বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির জন্যও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, একটি নিয়োগ পরীক্ষার গ্রহণযোগ্যতা শুধু পরীক্ষা আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে হাজারো পরিবারের প্রত্যাশা, চাকরিপ্রার্থীদের পরিশ্রম এবং সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস। তাই প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, অনিয়মের তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর এবার নিয়োগ কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি তদারকি সেই দায়িত্বের গুরুত্বই সামনে এনেছে।

চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, নতুন পরীক্ষা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

অন্যদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদেরও গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নজরদারিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া

চাকরি প্রার্থীদের আস্থা ফেরাতে রাতভর সচিবালয়ে আমিনুল হক

আপডেট : ০১:৫৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আগের পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর নতুন পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না রাখতে সচিবালয়ে রাতভর অবস্থান করে নিয়োগ কার্যক্রম তদারকি করছেন তিনি।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার রাতেও সচিবালয়ে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ চলছিল। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রয়োজন হলে নিজ দপ্তরেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রতিমন্ত্রী, যাতে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা তদারকিতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

তিন লাখের বেশি প্রার্থীর পরীক্ষা, বাড়তি সতর্কতা

১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর অংশগ্রহণে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় দায়িত্ব। প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে এবার পরীক্ষার প্রস্তুতিতে একাধিক নিরাপত্তামূলক পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে পুলিশি পাহারায় কেন্দ্রগুলোতে প্রশ্নপত্র পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর এলাকার শতাধিক কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

আগের ঘটনায় ভোগান্তি, তদন্তে গুরুত্ব

গত ১০ অক্টোবর পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় আসা অসংখ্য চাকরিপ্রার্থী বিপাকে পড়েন। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভও হয়।

ঘটনাটি তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি, ছাপানো ও ফটোকপির কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সিআইডির ফরেনসিক দলও আলামত সংগ্রহ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, তদন্তে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিংবা বাইরের কারও বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির জন্যও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, একটি নিয়োগ পরীক্ষার গ্রহণযোগ্যতা শুধু পরীক্ষা আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে হাজারো পরিবারের প্রত্যাশা, চাকরিপ্রার্থীদের পরিশ্রম এবং সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস। তাই প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, অনিয়মের তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর এবার নিয়োগ কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি তদারকি সেই দায়িত্বের গুরুত্বই সামনে এনেছে।

চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, নতুন পরীক্ষা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

অন্যদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদেরও গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।