Hi

১২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত: ১০ হাজার কর্মী পাবেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কাজের সুযোগ

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (জিরো কস্ট) দেশটিতে পাঠানোর বিষয়ে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে এই শ্রমবাজার চালুর পথ প্রশস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়েও একাধিক আলোচনার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রথম ধাপে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে এই কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।

শ্রমবাজারের জটিলতা নিরসনে ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে বর্তমান সরকার। ওই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকায় মালয়েশিয়ার আরোপিত শর্ত পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া তাদের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচন করেছে। এছাড়া আরও ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে বোয়েসেলও যুক্ত থাকছে। অর্থাৎ মোট ৩৩৮টি এজেন্সির মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি এই এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে। এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। এছাড়া, ফ্যাসিবাদের সময় বিতর্কিত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে বর্তমানে ১৬টি সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল খুব দ্রুত বাংলাদেশে এসে সরেজমিনে নতুন নীতিমালার আলোকে মেডিকেল সেন্টারগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করবে।

কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে। যেকোনো অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয় ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপন করবে।

মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণ নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্যে কান দেওয়া উচিত নয়। দালাল বা প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, পাসপোর্ট জমা দেওয়া বা মেডিকেল টেস্ট না করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনে বাংলাদেশের স্বার্থ আরও জোরালোভাবে রক্ষা করা হবে বলে মন্ত্রণালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী আমলের দুর্নীতি, দুঃশাসন, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বন্ধ থাকা শ্রমবাজারকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ধরনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ সরকারের মূল সাফল্য এখানেই যে, মালয়েশিয়ার নিজস্ব আইনি শর্তাবলি ও নীতিমালার সঙ্গে সর্বোচ্চ সমন্বয় রক্ষা করে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণ ও সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের অব্যাহত সফল প্রচেষ্টার ফলে শিগগিরই মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি বিগত অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার অন্তর্ভুক্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মন্ত্রণালয় জানায়, গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ বিবেচনায় মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সুযোগ দিয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: সেই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অংশ হিসেবে আমরা চাই যেন সব রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে।

জনপ্রিয়

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আইরিন খানের দায়িত্ব গ্রহণ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত: ১০ হাজার কর্মী পাবেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কাজের সুযোগ

আপডেট : ১১:৩০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (জিরো কস্ট) দেশটিতে পাঠানোর বিষয়ে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের সফল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে এই শ্রমবাজার চালুর পথ প্রশস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়েও একাধিক আলোচনার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রথম ধাপে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে এই কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।

শ্রমবাজারের জটিলতা নিরসনে ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে বর্তমান সরকার। ওই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকায় মালয়েশিয়ার আরোপিত শর্ত পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া তাদের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচন করেছে। এছাড়া আরও ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে বোয়েসেলও যুক্ত থাকছে। অর্থাৎ মোট ৩৩৮টি এজেন্সির মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি এই এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে। এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। এছাড়া, ফ্যাসিবাদের সময় বিতর্কিত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে বর্তমানে ১৬টি সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল খুব দ্রুত বাংলাদেশে এসে সরেজমিনে নতুন নীতিমালার আলোকে মেডিকেল সেন্টারগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করবে।

কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে। যেকোনো অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয় ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপন করবে।

মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণ নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্যে কান দেওয়া উচিত নয়। দালাল বা প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, পাসপোর্ট জমা দেওয়া বা মেডিকেল টেস্ট না করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনে বাংলাদেশের স্বার্থ আরও জোরালোভাবে রক্ষা করা হবে বলে মন্ত্রণালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী আমলের দুর্নীতি, দুঃশাসন, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বন্ধ থাকা শ্রমবাজারকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ধরনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশ সরকারের মূল সাফল্য এখানেই যে, মালয়েশিয়ার নিজস্ব আইনি শর্তাবলি ও নীতিমালার সঙ্গে সর্বোচ্চ সমন্বয় রক্ষা করে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণ ও সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের অব্যাহত সফল প্রচেষ্টার ফলে শিগগিরই মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি বিগত অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার অন্তর্ভুক্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মন্ত্রণালয় জানায়, গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ বিবেচনায় মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সুযোগ দিয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: সেই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অংশ হিসেবে আমরা চাই যেন সব রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে।