Hi

১২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলার ৬৫০০ কোটি ব্যারেল তেলের নিয়ন্ত্রণ নিল যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের দাবি

ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত তেল মজুদের ৬৫০০ কোটি ব্যারেলের বেশি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই সমঝোতাকে একটি ‘ঐতিহাসিক লেনদেন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তেল মজুদ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের জন্য জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে দুই দেশের জনগণের জন্য একটি বড় জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এই উদ্যোগের ফলে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০,০০০ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে এবং হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সাথে নিয়ে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের সাথে এই চুক্তিতে পৌঁছেছেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি, তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী বা দায়বদ্ধতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ৬৫০০ কোটি ব্যারেল তেল উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্প থেকে ১০,০০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এবং রাষ্ট্রের কোষাগারে ২০,৯০০ কোটি ডলারের বেশি কর রাজস্ব আসার আশা করা হচ্ছে। রদ্রিগেজের ভাষ্যমতে, এই বিনিয়োগ ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পের আধুনিকায়নের পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। রদ্রিগেজ এই যৌথ উদ্যোগকে তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য ১০০ বছরের অনুমতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির পরিধি ২০০৩ সালে ইরাকের তেল রাজস্বের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণের চেয়েও অনেক বিস্তৃত। তবে এই চুক্তির আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ এর পূর্ণাঙ্গ লিখিত রূপ এখনো জনসমক্ষে আসেনি।

চলতি বছরের ৩রা জানুয়ারি মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটকের পর থেকেই ভেনেজুয়েলার ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার প্রশাসন ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে এবং অনির্দিষ্টকাল দেশটির তেল বিক্রির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুদের দেশ ভেনেজুয়েলায় আনুমানিক ৩০,৩০০ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে, যদিও নব্বইয়ের দশকের পর থেকে উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছিল।

এর আগে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার দাবি করে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে, দেশটি অতীতে একতরফাভাবে আমেরিকান সম্পদ ও প্ল্যাটফর্ম দখল করে রেখেছিল, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এখন মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প পুনরুদ্ধারে অন্তত ১০,০০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ওই অংশীদারত্বের ধরন, চুক্তির শর্ত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দায়বদ্ধতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনকি ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরাকের তেল রাজস্বের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন প্রভিশনাল অথরিটির নিয়ন্ত্রণের চেয়েও ভেনেজুয়েলার এই চুক্তির পরিধি বিস্তৃত বলে মনে হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর দেশটির তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক লেনদেন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে ইরান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণভাবে চাপের মুখেও পড়েছেন ট্রাম্প। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চুক্তিটি কার্যত একটি বিদেশি দেশের সার্বভৌম জাতীয় সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে চুক্তিটি আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

জনপ্রিয়

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আইরিন খানের দায়িত্ব গ্রহণ

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ভেনেজুয়েলার ৬৫০০ কোটি ব্যারেল তেলের নিয়ন্ত্রণ নিল যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের দাবি

আপডেট : ১০:৪৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত তেল মজুদের ৬৫০০ কোটি ব্যারেলের বেশি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই সমঝোতাকে একটি ‘ঐতিহাসিক লেনদেন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তেল মজুদ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের জন্য জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে দুই দেশের জনগণের জন্য একটি বড় জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এই উদ্যোগের ফলে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০,০০০ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে এবং হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সাথে নিয়ে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের সাথে এই চুক্তিতে পৌঁছেছেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি, তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী বা দায়বদ্ধতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ৬৫০০ কোটি ব্যারেল তেল উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্প থেকে ১০,০০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এবং রাষ্ট্রের কোষাগারে ২০,৯০০ কোটি ডলারের বেশি কর রাজস্ব আসার আশা করা হচ্ছে। রদ্রিগেজের ভাষ্যমতে, এই বিনিয়োগ ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পের আধুনিকায়নের পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। রদ্রিগেজ এই যৌথ উদ্যোগকে তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য ১০০ বছরের অনুমতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির পরিধি ২০০৩ সালে ইরাকের তেল রাজস্বের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণের চেয়েও অনেক বিস্তৃত। তবে এই চুক্তির আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ এর পূর্ণাঙ্গ লিখিত রূপ এখনো জনসমক্ষে আসেনি।

চলতি বছরের ৩রা জানুয়ারি মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটকের পর থেকেই ভেনেজুয়েলার ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার প্রশাসন ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে এবং অনির্দিষ্টকাল দেশটির তেল বিক্রির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুদের দেশ ভেনেজুয়েলায় আনুমানিক ৩০,৩০০ কোটি ব্যারেল তেল রয়েছে, যদিও নব্বইয়ের দশকের পর থেকে উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছিল।

এর আগে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার দাবি করে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে, দেশটি অতীতে একতরফাভাবে আমেরিকান সম্পদ ও প্ল্যাটফর্ম দখল করে রেখেছিল, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এখন মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প পুনরুদ্ধারে অন্তত ১০,০০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ওই অংশীদারত্বের ধরন, চুক্তির শর্ত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দায়বদ্ধতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনকি ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরাকের তেল রাজস্বের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন প্রভিশনাল অথরিটির নিয়ন্ত্রণের চেয়েও ভেনেজুয়েলার এই চুক্তির পরিধি বিস্তৃত বলে মনে হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর দেশটির তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক লেনদেন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে ইরান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণভাবে চাপের মুখেও পড়েছেন ট্রাম্প। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চুক্তিটি কার্যত একটি বিদেশি দেশের সার্বভৌম জাতীয় সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে চুক্তিটি আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।