চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের খোঁজ মিলছে না। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে নেওয়া বন্ধকি স্বর্ণালংকার ও বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ সপরিবার পালিয়ে গেছেন। শহরের কালীবাড়ি মন্দির এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন তিনি। গত এক সপ্তাহ ধরে তাঁর দোকান ও বাসা—উভয়ই তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
বাসার মালিকের ছেলে রাসেল খান জানান, ফ্ল্যাটের দরজায় তালা দেখে তাঁরা প্রথমে ভেবেছিলেন পিন্টু দাস হয়তো কোথাও গিয়েছেন। কিন্তু গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকজন পাওনাদার এসে তাঁর কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার পাওয়ার দাবি জানালে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। এরপর পুলিশও তাঁর খোঁজ নিতে বাসায় এসেছিল। পিন্টু দাসের ব্যবহৃত ফোন নম্বরটিও বর্তমানে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, পিন্টু দাসের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এবং শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লায়। শহরে জোড়পুকুর পাড়সহ বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা করার পর তিনি সর্বশেষ আখন্দ মার্কেটে ‘এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’ নামে দোকান দেন। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তিনি বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষের স্বর্ণ বন্ধক রেখে সময়মতো ফেরত না দেওয়ায় একাধিকবার সালিসও হয়েছে।
এমনই এক সালিসের বিষয়ে জেলা জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দার জানান, তিনি সালিসে উপস্থিত ছিলেন, তবে ব্যবসায়ীর বর্তমান নিখোঁজ বা আত্মগোপনের বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। অপর এক ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, নতুন বাজারের এক ব্যক্তির প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে ছিল। সালিসের মাধ্যমে তিনটি চেকের বিনিময়ে ছয় লাখ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হলেও ২০ আগস্টের আগেই তিনি সপরিবার মালামাল নিয়ে এলাকা ছাড়েন বলে শোনা যাচ্ছে।
রাসেল খান নামের অপর এক ব্যক্তি পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে পিন্টুর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণ নিতে গেলে পিন্টু তাঁকে পরে যোগাযোগ করতে বলেন, কিন্তু এরই মধ্যে তিনি সপরিবার নিখোঁজ হয়ে যান।
বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে আর্থিক ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তবে সপরিবার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেনি। অন্যদিকে, চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বিনয় ভূষণ মজুমদার জানান, তাঁদের কাছে কেউ অভিযোগ না দিলেও সদস্যসচিব অজিত সাহা পিন্টুর বিরুদ্ধে মানুষের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কথা শুনেছেন।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, পিন্টু দাসের নিখোঁজ বা আত্মগোপনের বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরেছেন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু তার আগে ১৯ আগস্ট রাতে তিনি ভাড়া বাসা থেকে মালামাল নিয়ে সপরিবার পালিয়ে যান বলে শোনা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু পিন্টু টাকা দিতে নানা টালবাহানা করছিলেন।
রিপোর্টার নাম: 
























