নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নিরাপদ অভিবাসনে মিডিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। প্রত্যাশী ও স্ট্রেংদেন্ড অ্যান্ড ইনফরমেটিভ মাইগ্রেশন সিস্টেমস (সিমস) যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে, যেখানে চট্টগ্রাম জেলায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তবে সঠিক তথ্যের অভাব, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার ঘাটতি, কাগজপত্র যাচাই না করা এবং গন্তব্য দেশের ভাষা ও আইন-কানুন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেক অভিবাসীই বিদেশে গিয়ে নানা ধরনের প্রতারণা ও বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, চাকরির চুক্তিপত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আলোচকরা। তারা বলেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও তথ্য ছাড়া বিদেশ যাত্রা অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া, বিদেশ থেকে ফেরত আসার পর তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও অভিবাসনের পরিকল্পনায় আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন। দেশে ফেরার পর কর্মসংস্থান বা আয়-রোজগারের সুযোগ তৈরিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে অনেক ফেরত আসা অভিবাসী নতুন করে সংকটে পড়ছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন। মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি। সভাপতিত্ব করেন প্রত্যাশীর নির্বাহী পরিচালক মনোয়ারা বেগম। কর্মশালায় নিরাপদ অভিবাসন, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত সঠিক তথ্য গণমাধ্যমে প্রচারের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
রিপোর্টার নাম: 

























