Hi

০৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে শক্তিশালী রাষ্ট্রও ভেঙে পড়ে: প্রধান বিচারপতি

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রও ভেঙে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আইন বিভাগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই কেবল একটি রাষ্ট্র দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে। আইন কেবল কিছু বিধিনিষেধের সমষ্টি নয়, বরং এটি একটি জাতির নৈতিক বিবেকের প্রতিফলন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকদের মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয় এবং তাদের কণ্ঠরোধ করে, তখন ন্যায়ের জন্য লড়াই করা নৈতিকভাবে অপরিহার্য হয়ে ওঠে। মানবতা যখন অবিচার ও অমানবিক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হয়, তখনই মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা নতুন নৈতিক চেতনার পথ দেখায়। তিনি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার জন্য ছিল না, বরং এটি ছিল ন্যায়, মর্যাদা ও অস্তিত্বের অধিকার আদায়ের লড়াই। একইভাবে ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি মর্যাদা, সমতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের জন্য যুদ্ধ করেছিল। আমাদের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে একে প্রশাসনিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, নৈতিকভাবে সাহসী এবং সাংবিধানিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিচার বিভাগ সংস্কারের জন্য একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। এছাড়া অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

জনপ্রিয়

নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ফেরাতে প্রস্তুত মিয়ানমার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে শক্তিশালী রাষ্ট্রও ভেঙে পড়ে: প্রধান বিচারপতি

আপডেট : ০৩:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রও ভেঙে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আইন বিভাগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই কেবল একটি রাষ্ট্র দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে। আইন কেবল কিছু বিধিনিষেধের সমষ্টি নয়, বরং এটি একটি জাতির নৈতিক বিবেকের প্রতিফলন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকদের মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয় এবং তাদের কণ্ঠরোধ করে, তখন ন্যায়ের জন্য লড়াই করা নৈতিকভাবে অপরিহার্য হয়ে ওঠে। মানবতা যখন অবিচার ও অমানবিক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হয়, তখনই মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা নতুন নৈতিক চেতনার পথ দেখায়। তিনি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার জন্য ছিল না, বরং এটি ছিল ন্যায়, মর্যাদা ও অস্তিত্বের অধিকার আদায়ের লড়াই। একইভাবে ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি মর্যাদা, সমতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের জন্য যুদ্ধ করেছিল। আমাদের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে একে প্রশাসনিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, নৈতিকভাবে সাহসী এবং সাংবিধানিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিচার বিভাগ সংস্কারের জন্য একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। এছাড়া অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।