Hi

০৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাচোলে কৃষকের ছদ্মবেশে আদালতের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে অভিনব এক কৌশলে দীর্ঘদিনের পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি সুশীলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের রায়ে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান তিনি। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রায় তিন মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে বেড়াচ্ছিলেন এই মাদক মামলা মামলার আসামি। শেষ পর্যন্ত নাচোল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত সুশীল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার রাজবাড়ী হাট টাওয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় আদালত তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। প্রায় তিন মাস আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম দায়রা জজ আদালত-(২) এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বোকা বানিয়ে পলাতক ছিলেন সুশীল।

নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, আদালতের রায় কার্যকরের জন্য আসামিকে ধরতে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে আসছিল। তবে সুশীল অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় প্রতিবারই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। সর্বশেষ গত শনিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, আসামি সুশীল অবস্থান পরিবর্তন করে প্রতিবেশী জেলা নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রাওতা গ্রামের একটি ফসলি মাঠে কৃষিকাজ করছেন।

এই তথ্যের ভিত্তিতে নাচোল থানার এএসআই ফরহাদ হোসেন একদল পুলিশ সদস্য নিয়ে সেখানে অভিযান চালান। তবে সাধারণ পুলিশের পোশাকে অভিযান চালালে আসামি পালিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি এক ভিন্ন কৌশল বেছে নেন। পুলিশ সদস্যদের পার্শ্ববর্তী একটি বাজারে অপেক্ষমাণ রেখে এএসআই ফরহাদ নিজে লুঙ্গি পরে ও খালি গায়ে একেবারে সাধারণ কৃষকের রূপ ধারণ করেন। স্থানীয় কৃষকদের মতো করেই তিনি মাঠের দিকে হেঁটে এগিয়ে যান।

নিরাপদে আসামির কাছাকাছি পৌঁছানোর পরই সুশীল বিষয়টি আঁচ করতে পেরে হঠাৎ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে প্রস্তুত থাকা এএসআই ফরহাদ তাৎক্ষণিকভাবে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ধাওয়া করে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরবর্তী সময়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এই বুদ্ধিমত্তা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিনব কৌশল অপরাধীদের মনে নতুন আতঙ্ক তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

সাভারে চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে চালকসহ গ্রেপ্তার ৩

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নাচোলে কৃষকের ছদ্মবেশে আদালতের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট : ১২:১২:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে অভিনব এক কৌশলে দীর্ঘদিনের পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি সুশীলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের রায়ে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান তিনি। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রায় তিন মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে বেড়াচ্ছিলেন এই মাদক মামলা মামলার আসামি। শেষ পর্যন্ত নাচোল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত সুশীল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার রাজবাড়ী হাট টাওয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় আদালত তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। প্রায় তিন মাস আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম দায়রা জজ আদালত-(২) এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বোকা বানিয়ে পলাতক ছিলেন সুশীল।

নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, আদালতের রায় কার্যকরের জন্য আসামিকে ধরতে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে আসছিল। তবে সুশীল অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় প্রতিবারই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। সর্বশেষ গত শনিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, আসামি সুশীল অবস্থান পরিবর্তন করে প্রতিবেশী জেলা নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রাওতা গ্রামের একটি ফসলি মাঠে কৃষিকাজ করছেন।

এই তথ্যের ভিত্তিতে নাচোল থানার এএসআই ফরহাদ হোসেন একদল পুলিশ সদস্য নিয়ে সেখানে অভিযান চালান। তবে সাধারণ পুলিশের পোশাকে অভিযান চালালে আসামি পালিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি এক ভিন্ন কৌশল বেছে নেন। পুলিশ সদস্যদের পার্শ্ববর্তী একটি বাজারে অপেক্ষমাণ রেখে এএসআই ফরহাদ নিজে লুঙ্গি পরে ও খালি গায়ে একেবারে সাধারণ কৃষকের রূপ ধারণ করেন। স্থানীয় কৃষকদের মতো করেই তিনি মাঠের দিকে হেঁটে এগিয়ে যান।

নিরাপদে আসামির কাছাকাছি পৌঁছানোর পরই সুশীল বিষয়টি আঁচ করতে পেরে হঠাৎ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে প্রস্তুত থাকা এএসআই ফরহাদ তাৎক্ষণিকভাবে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ধাওয়া করে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরবর্তী সময়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এই বুদ্ধিমত্তা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিনব কৌশল অপরাধীদের মনে নতুন আতঙ্ক তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।