ঢাকার সাভারের আশুলিয়া এলাকায় চলন্ত বাসে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সংবাদ পেয়ে পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে বাসটি থামানো হয় এবং ভুক্তভোগী নারীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাসের চালক, তাঁর সহকারীসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাতে সাভার পরিবহনের একটি বাসে গাবতলী থেকে নবীনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন ওই নারী। তার সঙ্গে আরও এক পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। পথিমধ্যে নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর আগেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাসের চালক মো. ইমরান গাড়ি চালানোর দায়িত্ব তার সহকারী মোু. মুসফেকুরের হাতে তুলে দেন। এরপর চালক ইমরান ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গীকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক চলন্ত বাস থেকে নামিয়ে দেন। পরবর্তীতে চালক নিজেও বাস থেকে নেমে যান। তবে বাসের ভেতর সহকারী মুসফেকুর রহমান এবং চালকের পূর্বপরিচিত মোু. সুমন প্রামানিক অবস্থান করছিলেন।
ভুক্তভোগীর সঙ্গী বাস থেকে নেমে যাওয়ার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুরো বিষয়টি পুলিশকে জানান। তাৎক্ষণিকভাবে আশুলিয়া থানা পুলিশ এই সংবাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে তৎপর হয়ে ওঠে। পুলিশ আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার সড়কে অবস্থান নেয় এবং একটি কৌশলগত ব্যারিকেড বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সাভার পরিবহনের ওই বাসটিকে থামায়। পুলিশ দ্রুত বাসটির ভেতরে প্রবেশ করে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই সহকারী মুসফেকুর ও সুমনকে আটক করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দ্রুততার পরিচয় দিয়ে বাসটি আটক করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। প্রাথমিক অভিযানে মুসফেকুর ও সুমনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে পুলিশের অন্য একটি দল রোববার বিকেলে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে মূল অভিযুক্ত বাসচালক মো. ইমরানকেও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও পুলিশের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে একটি বড় ধরনের বিপদ এড়ানো গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নারীর সুরক্ষায় এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
রিপোর্টার নাম: 




















