Hi

০২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসি সচিবালয়ের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমকে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, অতীতে যিনি সরাসরি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁর অধীনে কোনোভাবেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়।

আজ রোববার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই আপত্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, নির্বাচন কমিশন বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় অতিরিক্ত সচিব পদটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এমতাবস্থায়, সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর যিনি সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং ৬৭ বছর বয়সে উপনীত হয়েছেন, এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের এত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে পুনরায় ফিরিয়ে আনা কোনো যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

গোলাম পরওয়ার তাঁর বক্তব্যে আরও যোগ করেন যে, সামসুল আলমের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সর্বজনবিদিত এবং তিনি অবসরে যাওয়ার পর বিএনপির একটি নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন একজন প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মীকে দেশের নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক ও সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বসানো মানে জনগণের ভোটাধিকারের সঙ্গে চরম প্রতারণা করা। দলটির দাবি, এই বিতর্কিত নিয়োগের বিষয়টি বিএনপির অফিশিয়াল মিডিয়া সেল থেকে যেভাবে ফলাও করে প্রচার ও উদ্‌যাপন করা হচ্ছে, তাতে এটি পরিষ্কার যে নির্বাচন কমিশনকে আবারও একটি নির্দিষ্ট দলের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের গভীর চক্রান্ত চলছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব সাংবিধানিক ও সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে সর্বজনগ্রাহ্য এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের পদায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের নিয়োগ বিতর্ক ছাড়াও দেশের চলমান ভয়াবহ গ্যাস-সংকট নিয়ে পৃথক আরেকটি বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে সাধারণ নাগরিকেরা এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) এবং সিএনজি গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এই গ্যাস-সংকটের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন রান্নার কাজে, গণপরিবহন হিসেবে সিএনজিচালিত গাড়ি চলাচলে এবং দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গ্যাস সরবরাহের এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির জন্য মূলত অবৈধ গ্যাস সংযোগ, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম এবং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারসাজি অনেকাংশে দায়ী। কোনো বিশেষ মহল কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কড়া দাবি জানানো হয়। দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধান, দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যমান কূপগুলোর গ্যাস উত্তোলন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানির দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জোর তাগিদ দেওয়া হয়। অবিলম্বে গ্যাস-সংকট নিরসনে সরকার ও জ্বালানি খাতের দায়িত্বশীল বিভাগগুলো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।

জনপ্রিয়

বার্লিনে ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে উৎসবে গাড়িচাপা ও হামলার মূল হোতা পুলিশের সঙ্গে গুলিতে নিহত

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ইসি সচিবালয়ের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী

আপডেট : ১২:২১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমকে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, অতীতে যিনি সরাসরি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁর অধীনে কোনোভাবেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়।

আজ রোববার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই আপত্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, নির্বাচন কমিশন বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় অতিরিক্ত সচিব পদটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এমতাবস্থায়, সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর যিনি সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং ৬৭ বছর বয়সে উপনীত হয়েছেন, এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের এত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে পুনরায় ফিরিয়ে আনা কোনো যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

গোলাম পরওয়ার তাঁর বক্তব্যে আরও যোগ করেন যে, সামসুল আলমের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সর্বজনবিদিত এবং তিনি অবসরে যাওয়ার পর বিএনপির একটি নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন একজন প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মীকে দেশের নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক ও সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বসানো মানে জনগণের ভোটাধিকারের সঙ্গে চরম প্রতারণা করা। দলটির দাবি, এই বিতর্কিত নিয়োগের বিষয়টি বিএনপির অফিশিয়াল মিডিয়া সেল থেকে যেভাবে ফলাও করে প্রচার ও উদ্‌যাপন করা হচ্ছে, তাতে এটি পরিষ্কার যে নির্বাচন কমিশনকে আবারও একটি নির্দিষ্ট দলের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের গভীর চক্রান্ত চলছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব সাংবিধানিক ও সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে সর্বজনগ্রাহ্য এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের পদায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের নিয়োগ বিতর্ক ছাড়াও দেশের চলমান ভয়াবহ গ্যাস-সংকট নিয়ে পৃথক আরেকটি বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে সাধারণ নাগরিকেরা এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) এবং সিএনজি গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এই গ্যাস-সংকটের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন রান্নার কাজে, গণপরিবহন হিসেবে সিএনজিচালিত গাড়ি চলাচলে এবং দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গ্যাস সরবরাহের এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির জন্য মূলত অবৈধ গ্যাস সংযোগ, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম এবং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারসাজি অনেকাংশে দায়ী। কোনো বিশেষ মহল কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কড়া দাবি জানানো হয়। দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধান, দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যমান কূপগুলোর গ্যাস উত্তোলন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানির দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জোর তাগিদ দেওয়া হয়। অবিলম্বে গ্যাস-সংকট নিরসনে সরকার ও জ্বালানি খাতের দায়িত্বশীল বিভাগগুলো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।