রাজধানী ঢাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি প্রোটোকল ও ভিআইপি নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকার ভেতরে যাতায়াতের সময় ১৮ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পুলিশি এসকর্ট বা পাহারা গাড়ি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মাত্র ৬ জন মন্ত্রী এবং একজন উপদেষ্টার ক্ষেত্রে এই বিশেষ সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, ভিআইপি চলাচলের কারণে রাজধানীজুড়ে প্রায়ই তৈরি হওয়া তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি কমাতে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গাড়ির বহর বা কনভয়ও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভিআইপি ও মন্ত্রীদের চলাচলের সময় সামনের ও পেছনের পাইলট কার বা পুলিশ এসকর্টের কারণে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছিল। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে সিগন্যালে গাড়ি আটকে থাকা এবং অতিরিক্ত পুলিশি বহরের কারণে সাধারণ নাগরিকরা দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়তেন। এই বাস্তবতায় প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, ভিআইপি সংস্কৃতি কমানো এবং সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবের অংশ হিসেবেই নীতিনির্ধারক পর্যায়ে এই কঠোর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, যাদের পুলিশি এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে, তারা এখন থেকে সাধারণ ট্রাফিক নিয়ম মেনে এবং অতিরিক্ত কোনো পুলিশ বা নিরাপত্তা বহর ছাড়াই দৈনন্দিন দাপ্তরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন। তবে রাষ্ট্রীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ৬ জন মন্ত্রী এবং একজন উপদেষ্টা তাদের বর্তমান পদের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও প্রোটোকল প্রয়োজনীয়তার খাতিরে এই এসকর্ট সুবিধা অব্যাহত রাখবেন। প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে ভিআইপি চলাচলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই হ্রাস পাবে।
এর আগে থেকেই সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রীর বহর ছোট করার বিষয়টিও এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতো দ্রুত সম্ভব এই সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকার ট্রাফিক সিস্টেমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকেও এই নতুন প্রোটোকল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি 






















