ঢাকাই চলচ্চিত্রের নব্বই দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুমানা ইসলাম মুক্তি আসন্ন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগমের কন্যা হিসেবে চলচ্চিত্র অঙ্গনের সাথে তার সম্পর্ক শৈশব থেকেই। জাগো নিউজের সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তার নির্বাচনী পরিকল্পনা, শিল্পী সমিতির বর্তমান সংকট এবং উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
রুমানা ইসলাম মুক্তি বলেন, শুধুমাত্র অনুদান দিয়ে শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, শিল্পী সমিতিকে কেবল ইফতার মাহফিল বা উৎসবকেন্দ্রিক আয়োজনে সীমাবদ্ধ না রেখে চলচ্চিত্রের মানোন্নয়নে এবং শিল্পীদের কাজের ক্ষেত্র তৈরিতে মনোযোগী হতে হবে। নির্বাচিত হলে তার প্রধান অগ্রাধিকার হবে প্রবীণ ও কর্মহীন শিল্পীদের জন্য স্থায়ী ভাতার ব্যবস্থা করা এবং নতুন শিল্পী তৈরির লক্ষ্যে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কর্মশালার আয়োজন করা।
শিল্পীদের অধিকার সুরক্ষায় তিনি একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে শিল্পীদের চিকিৎসা বিমা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক আদায়ে প্রযোজক ও পরিচালকদের সঙ্গে সমন্বয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সিনিয়র শিল্পী বছরের পর বছর পারিশ্রমিক না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে জীবন পার করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানান।
চলচ্চিত্রের বর্তমান মন্দাভাব কাটাতে মুক্তি মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অপরিহার্য। আধুনিক সিনেমা হল নির্মাণ এবং বিদ্যমান হলগুলোর সংস্কারে সরকারের সাথে সরাসরি আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, শিল্পীদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা সমিতির অন্যতম দায়িত্ব। মা আনোয়ারা বেগমের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ এবং চলচ্চিত্রের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে তিনি ভোটারদের কাছে যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের আহ্বান জানান। রুমানা ইসলাম মুক্তি বিশ্বাস করেন, শিল্পীদের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে কাজ করার মাধ্যমেই সমিতির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
রিপোর্টার নাম: 





















