Hi

০৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্যটক সংকটে ম্লান সুনামগঞ্জের হাওর: অস্তিত্ব সংকটে পর্যটননির্ভর অর্থনীতি

বর্ষা ঋতুর আগমনে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চল এক মায়াবী রূপ ধারণ করে। টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রি লেক, যাদুকাটা নদী ও বারেক টিলার মতো দর্শনীয় স্থানগুলো প্রতি বছর হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। তবে চলতি মৌসুমে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রত্যাশিত পর্যটকের অভাবে সুনামগঞ্জের পর্যটন শিল্প এখন স্থবির। ঈদের ছুটির পর থেকেই এই অঞ্চলে পর্যটকদের ভিড় নেই বললেই চলে, যা স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের গভীর দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। শুধু পর্যটক সংকট নয়, হাওরে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পানি না থাকাও পর্যটন ম্লান হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাওরকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিলাসবহুল হাউসবোট। পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা তাদের নৌযানগুলো নতুনভাবে সাজিয়ে প্রস্তুত করেছিলেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বুকিং না মেলায় এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। স্থানীয় ফটোগ্রাফার ও ছোট ডিঙি নৌকার মাঝিরা জানিয়েছেন, গত বছরগুলোতে এই সময়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে তাদের দম ফেলার সময় থাকতো না, কিন্তু এবার পরিস্থিতি হতাশাজনক। পর্যটননির্ভর নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা ছোট নৌকায় পর্যটকদের ঘুরিয়ে বা ক্ষুদ্র পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তারা এখন চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে, হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, পর্যটনকে ব্যবসায়িক রূপ দিতে গিয়ে হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবাধে হাউসবোটের চলাচল, উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবহার এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে হাওরের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, পর্যটনের নামে হাওরের হিজল-করচ গাছ ধ্বংস করা হচ্ছে এবং পাখিদের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। হাওরকে পর্যটনের মূল আকর্ষণ ধরে রাখতে হলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা অপরিহার্য।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান সাকিব জানিয়েছেন, হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হাউসবোট চলাচলের নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং উচ্চ শব্দে গান-বাজনা রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এ বছর বর্ষা দেরিতে আসায় পানির স্বল্পতা ছিল, তবে আশা করা হচ্ছে মৌসুমের পরবর্তী সময়ে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। সামগ্রিকভাবে, সুনামগঞ্জের হাওর পর্যটনকে বাঁচাতে হলে একদিকে যেমন পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য টেকসই ও পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

জনপ্রিয়

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে চায় কেপ ভার্দে: আত্মবিশ্বাসী প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

পর্যটক সংকটে ম্লান সুনামগঞ্জের হাওর: অস্তিত্ব সংকটে পর্যটননির্ভর অর্থনীতি

আপডেট : ১০:৪৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বর্ষা ঋতুর আগমনে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চল এক মায়াবী রূপ ধারণ করে। টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রি লেক, যাদুকাটা নদী ও বারেক টিলার মতো দর্শনীয় স্থানগুলো প্রতি বছর হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। তবে চলতি মৌসুমে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রত্যাশিত পর্যটকের অভাবে সুনামগঞ্জের পর্যটন শিল্প এখন স্থবির। ঈদের ছুটির পর থেকেই এই অঞ্চলে পর্যটকদের ভিড় নেই বললেই চলে, যা স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের গভীর দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। শুধু পর্যটক সংকট নয়, হাওরে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পানি না থাকাও পর্যটন ম্লান হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাওরকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিলাসবহুল হাউসবোট। পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা তাদের নৌযানগুলো নতুনভাবে সাজিয়ে প্রস্তুত করেছিলেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বুকিং না মেলায় এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। স্থানীয় ফটোগ্রাফার ও ছোট ডিঙি নৌকার মাঝিরা জানিয়েছেন, গত বছরগুলোতে এই সময়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে তাদের দম ফেলার সময় থাকতো না, কিন্তু এবার পরিস্থিতি হতাশাজনক। পর্যটননির্ভর নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা ছোট নৌকায় পর্যটকদের ঘুরিয়ে বা ক্ষুদ্র পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তারা এখন চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে, হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, পর্যটনকে ব্যবসায়িক রূপ দিতে গিয়ে হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবাধে হাউসবোটের চলাচল, উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবহার এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে হাওরের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, পর্যটনের নামে হাওরের হিজল-করচ গাছ ধ্বংস করা হচ্ছে এবং পাখিদের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। হাওরকে পর্যটনের মূল আকর্ষণ ধরে রাখতে হলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা অপরিহার্য।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান সাকিব জানিয়েছেন, হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হাউসবোট চলাচলের নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং উচ্চ শব্দে গান-বাজনা রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এ বছর বর্ষা দেরিতে আসায় পানির স্বল্পতা ছিল, তবে আশা করা হচ্ছে মৌসুমের পরবর্তী সময়ে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। সামগ্রিকভাবে, সুনামগঞ্জের হাওর পর্যটনকে বাঁচাতে হলে একদিকে যেমন পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য টেকসই ও পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।