Hi

০৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই মা থাকলেও জানেন না প্রকৃত জন্মদাত্রী কে: দক্ষিণী তারকা শ্রুতি কৃষ্ণর এক অনন্য জীবনকাহিনি

রুপালি পর্দার চিত্রনাট্যকেও হার মানায় বাস্তব জীবন। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ শ্রুতি কৃষ্ণর ব্যক্তিগত জীবন তেমনই এক রহস্যময় ও আবেগের গল্পগাঁথা। দীর্ঘ তিন দশকের অভিনয় জীবনে ১৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে কাজ করে যিনি জয় করেছেন তিনটি রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, সেই অভিনেত্রীর জীবনের সবচেয়ে বড় বিস্ময় লুকিয়ে আছে তাঁর পারিবারিক পরিচয়ে। শ্রুতি বড় হয়েছেন এমন এক পরিবারে, যেখানে তাঁর একজন নয়, বরং দুজন মা রয়েছেন। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, শ্রুতি কিংবা তাঁর ভাইবোনেরা কেউই জানেন না যে এই দুই মায়ের মধ্যে ঠিক কে তাঁদের জৈবিক মা।

শ্রুতি কৃষ্ণর জন্মগত নাম গিরিজা। কর্ণাটকের এক নাট্যমোদীর পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা। তাঁর বাবা জি ভি কৃষ্ণ ছিলেন একটি নাট্যদলের স্বত্বাধিকারী। সেই দলের সদস্য ছিলেন যমজ দুই বোন রাধা ও রুক্মিণী। পরবর্তীতে জি ভি কৃষ্ণ দুজনকেই বিবাহ করেন। এই দুই মায়ের সংসারে জন্ম নেওয়া তিন সন্তান—শ্রুতি, শরণ এবং উষা। পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই সন্তানদের কাছে তাঁদের জন্মদাত্রী কে, তা গোপন রাখা হয়েছে। তবে শ্রুতি একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই বিষয়টি তাঁদের কাছে কখনো কোনো জটিলতা বা কৌতূহলের কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। দুই মা-ই তাঁদের সন্তানদের সমান স্নেহ ও ভালোবাসায় বড় করেছেন। শ্রুতির মতে, সত্য জানার জন্য যদি কখনো প্রশ্ন করার প্রয়োজন হতো, তবে তা সহজেই জানা যেত। কিন্তু সন্তানদের কাছে দুই মায়ের ভালোবাসার কোনো বিভাজন নেই, তাই তাঁরা কখনো এই সত্য উন্মোচনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি।

অভিনয় জীবনের সূচনালগ্নে ১৪ বছর বয়সী গিরিজা ‘প্রিয়দর্শিনী’ নামে পর্দায় এলেও, পরবর্তীতে ‘শ্রুতি’ নামেই তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। নব্বইয়ের দশকে কন্নড় সিনেমায় আবেগঘন চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি ‘ট্র্যাজেডি কুইন’ হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৯৪ সালে ‘আঘাথা’ এবং পরবর্তী সময়ে ‘গৌড়ু’ ও তামিল ছবি ‘কালকি’-তে অভিনয়ের জন্য তিনি রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছেন। পরিচালক এস মহেন্দ্রর সঙ্গে দীর্ঘ ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিচ্ছেদ এবং পরবর্তীতে সাংবাদিক চক্রবর্তী চন্দ্রচূড়ের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে ও বিচ্ছেদ তাঁর জীবনের কঠিন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শ্রুতি কৃষ্ণ বর্তমানে ভারতীয় রাজনীতির সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং কর্ণাটক পর্যটন উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও আসীন ছিলেন। এছাড়া জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস কন্নড়’-এর তৃতীয় আসরের বিজয়ী হয়ে তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। সব মিলিয়ে, শ্রুতি কৃষ্ণর জীবন কেবলই একজন সফল অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার নয়, বরং এক অসামান্য পারিবারিক বন্ধন ও মানবিক দর্শনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

জনপ্রিয়

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে চায় কেপ ভার্দে: আত্মবিশ্বাসী প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

দুই মা থাকলেও জানেন না প্রকৃত জন্মদাত্রী কে: দক্ষিণী তারকা শ্রুতি কৃষ্ণর এক অনন্য জীবনকাহিনি

আপডেট : ০২:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

রুপালি পর্দার চিত্রনাট্যকেও হার মানায় বাস্তব জীবন। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ শ্রুতি কৃষ্ণর ব্যক্তিগত জীবন তেমনই এক রহস্যময় ও আবেগের গল্পগাঁথা। দীর্ঘ তিন দশকের অভিনয় জীবনে ১৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে কাজ করে যিনি জয় করেছেন তিনটি রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার, সেই অভিনেত্রীর জীবনের সবচেয়ে বড় বিস্ময় লুকিয়ে আছে তাঁর পারিবারিক পরিচয়ে। শ্রুতি বড় হয়েছেন এমন এক পরিবারে, যেখানে তাঁর একজন নয়, বরং দুজন মা রয়েছেন। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, শ্রুতি কিংবা তাঁর ভাইবোনেরা কেউই জানেন না যে এই দুই মায়ের মধ্যে ঠিক কে তাঁদের জৈবিক মা।

শ্রুতি কৃষ্ণর জন্মগত নাম গিরিজা। কর্ণাটকের এক নাট্যমোদীর পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা। তাঁর বাবা জি ভি কৃষ্ণ ছিলেন একটি নাট্যদলের স্বত্বাধিকারী। সেই দলের সদস্য ছিলেন যমজ দুই বোন রাধা ও রুক্মিণী। পরবর্তীতে জি ভি কৃষ্ণ দুজনকেই বিবাহ করেন। এই দুই মায়ের সংসারে জন্ম নেওয়া তিন সন্তান—শ্রুতি, শরণ এবং উষা। পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই সন্তানদের কাছে তাঁদের জন্মদাত্রী কে, তা গোপন রাখা হয়েছে। তবে শ্রুতি একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই বিষয়টি তাঁদের কাছে কখনো কোনো জটিলতা বা কৌতূহলের কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। দুই মা-ই তাঁদের সন্তানদের সমান স্নেহ ও ভালোবাসায় বড় করেছেন। শ্রুতির মতে, সত্য জানার জন্য যদি কখনো প্রশ্ন করার প্রয়োজন হতো, তবে তা সহজেই জানা যেত। কিন্তু সন্তানদের কাছে দুই মায়ের ভালোবাসার কোনো বিভাজন নেই, তাই তাঁরা কখনো এই সত্য উন্মোচনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি।

অভিনয় জীবনের সূচনালগ্নে ১৪ বছর বয়সী গিরিজা ‘প্রিয়দর্শিনী’ নামে পর্দায় এলেও, পরবর্তীতে ‘শ্রুতি’ নামেই তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। নব্বইয়ের দশকে কন্নড় সিনেমায় আবেগঘন চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি ‘ট্র্যাজেডি কুইন’ হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৯৪ সালে ‘আঘাথা’ এবং পরবর্তী সময়ে ‘গৌড়ু’ ও তামিল ছবি ‘কালকি’-তে অভিনয়ের জন্য তিনি রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছেন। পরিচালক এস মহেন্দ্রর সঙ্গে দীর্ঘ ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিচ্ছেদ এবং পরবর্তীতে সাংবাদিক চক্রবর্তী চন্দ্রচূড়ের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে ও বিচ্ছেদ তাঁর জীবনের কঠিন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শ্রুতি কৃষ্ণ বর্তমানে ভারতীয় রাজনীতির সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং কর্ণাটক পর্যটন উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও আসীন ছিলেন। এছাড়া জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস কন্নড়’-এর তৃতীয় আসরের বিজয়ী হয়ে তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। সব মিলিয়ে, শ্রুতি কৃষ্ণর জীবন কেবলই একজন সফল অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার নয়, বরং এক অসামান্য পারিবারিক বন্ধন ও মানবিক দর্শনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।