Hi

০৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবরূপে সেজেছে সুবলং ঝরনা, পর্যটকদের হাতছানি

শ্রাবণের ধারায় রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার শিলার ডাক নামক স্থানে অবস্থিত সুবলং ঝরনাটি এখন নবরূপে সেজেছে। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক এই ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন। কয়েক দশক ধরে পাহাড়ি এই ঝর্ণাটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। ভরা বর্ষামৌসুমে মূল ঝরনা জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে এবং অপূর্ব সুরের মূর্ছনায় পর্যটকদের সযতনে মুগ্ধ করে। পর্যটকদের সুবিধার্থে বরকল উপজেলা প্রশাসন সেখানে প্রয়োজনীয় কিছু স্থাপনা নির্মাণ করে দিয়েছে।

রাঙ্গামাটি সদর হতে সুবলংয়ের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। বোটযোগে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়েই সেই কাঙ্ক্ষিত সুবলং ঝরনায় পৌঁছাতে হয়। নৌপথের এই যাত্রায় হ্রদের অপার সৌন্দর্য পর্যটকদের মনে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে বিকেল অবধি ইঞ্জিনচালিত বোটে পর্যটকদের আনাগোনা। কেউ পরিবার নিয়ে এসেছেন, কেউ বন্ধুবান্ধব মিলে। কারো হাতে সেলফি স্টিক, কেউ ড্রোন উড়াচ্ছেন, আবার কেউ ঝর্ণার পাশে বসে পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক মিলি জাহান জানান, সুবলং ঝরনায় এবারই প্রথম এসেছেন তিনি। টিভি বা ফেসবুকে দেখে যতটা মুগ্ধ হয়েছিলেন, বাস্তবে এর সৌন্দর্য তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। ঝর্ণার পানি যেভাবে নেমে আসছে, তা যেন ছবির ফ্রেমে বন্দি এক দৃশ্য। রাঙ্গামাটি শহর থেকে পরিবার নিয়ে আসা মৌসুমী বণিক জানান, ঝর্ণার অঝর ধারা দেখে তার মন জুড়িয়ে গেছে। প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্য এতদিন কেন দেখেননি, সেই প্রশ্নই জেগেছে তার মনে।

আব্দুল সায়েম নামের আরেক পর্যটক বলেন, এই ঝরনার পরিবেশটা অত্যন্ত মনোরম। বন্ধুদের তিনি পরামর্শ দেবেন জীবনে অন্তত একবার এখানে ঘুরে আসার জন্য। এটি প্রকৃতির সঙ্গে এক ধরনের আত্মিক সংযোগ তৈরি করে। বেশিরভাগ পর্যটকই মনে করেন, এই সুন্দর জায়গাগুলো টিকে থাকা জরুরি। তাদের মতে, পর্যটকদের দায়িত্ব হলো জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখা, গাছপালা নষ্ট না করা এবং ঝর্ণায় অযথা নেমে বিপদ ডেকে না আনা। এগুলো জাতীয় সম্পদ, যা রক্ষা করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

ঝরনা দেখে ফেরার পথে পর্যটকরা হ্রদের কিনারায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় পাহাড়ি সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নিতে পারেন। ইট-পাথরের যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি দূর করতে সুবলং ঝরনা হতে পারে দারুণ গন্তব্য। উল্লেখ্য, শুধু সুবলং নয়, বরকল উপজেলায় ছোট-বড় মিলে আরও আটটি ঝরনা রয়েছে, যা পর্যটকদের ক্লান্তি দূর করে চোখ জুড়িয়ে দেয়।

সুবলং ঝরনা দেখতে জেলা শহরের পর্যটন, রির্জাভ বাজার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং রাঙ্গামাটি ফিসারী ঘাট এলাকা থেকে নৌকা বা স্পিডবোটযোগে নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে যাওয়া সম্ভব। বর্ষার এই সময়ে ঝরনার পূর্ণ রূপ উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে প্রতিনিয়ত। পাহাড়ের এই অপরূপ সৌন্দর্য ধরে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটকদের সচেতনতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

লালমনিরহাটে ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত, আহত তিন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

নবরূপে সেজেছে সুবলং ঝরনা, পর্যটকদের হাতছানি

আপডেট : ০৫:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

শ্রাবণের ধারায় রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার শিলার ডাক নামক স্থানে অবস্থিত সুবলং ঝরনাটি এখন নবরূপে সেজেছে। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক এই ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন। কয়েক দশক ধরে পাহাড়ি এই ঝর্ণাটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। ভরা বর্ষামৌসুমে মূল ঝরনা জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে এবং অপূর্ব সুরের মূর্ছনায় পর্যটকদের সযতনে মুগ্ধ করে। পর্যটকদের সুবিধার্থে বরকল উপজেলা প্রশাসন সেখানে প্রয়োজনীয় কিছু স্থাপনা নির্মাণ করে দিয়েছে।

রাঙ্গামাটি সদর হতে সুবলংয়ের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। বোটযোগে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়েই সেই কাঙ্ক্ষিত সুবলং ঝরনায় পৌঁছাতে হয়। নৌপথের এই যাত্রায় হ্রদের অপার সৌন্দর্য পর্যটকদের মনে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে বিকেল অবধি ইঞ্জিনচালিত বোটে পর্যটকদের আনাগোনা। কেউ পরিবার নিয়ে এসেছেন, কেউ বন্ধুবান্ধব মিলে। কারো হাতে সেলফি স্টিক, কেউ ড্রোন উড়াচ্ছেন, আবার কেউ ঝর্ণার পাশে বসে পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক মিলি জাহান জানান, সুবলং ঝরনায় এবারই প্রথম এসেছেন তিনি। টিভি বা ফেসবুকে দেখে যতটা মুগ্ধ হয়েছিলেন, বাস্তবে এর সৌন্দর্য তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। ঝর্ণার পানি যেভাবে নেমে আসছে, তা যেন ছবির ফ্রেমে বন্দি এক দৃশ্য। রাঙ্গামাটি শহর থেকে পরিবার নিয়ে আসা মৌসুমী বণিক জানান, ঝর্ণার অঝর ধারা দেখে তার মন জুড়িয়ে গেছে। প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্য এতদিন কেন দেখেননি, সেই প্রশ্নই জেগেছে তার মনে।

আব্দুল সায়েম নামের আরেক পর্যটক বলেন, এই ঝরনার পরিবেশটা অত্যন্ত মনোরম। বন্ধুদের তিনি পরামর্শ দেবেন জীবনে অন্তত একবার এখানে ঘুরে আসার জন্য। এটি প্রকৃতির সঙ্গে এক ধরনের আত্মিক সংযোগ তৈরি করে। বেশিরভাগ পর্যটকই মনে করেন, এই সুন্দর জায়গাগুলো টিকে থাকা জরুরি। তাদের মতে, পর্যটকদের দায়িত্ব হলো জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখা, গাছপালা নষ্ট না করা এবং ঝর্ণায় অযথা নেমে বিপদ ডেকে না আনা। এগুলো জাতীয় সম্পদ, যা রক্ষা করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

ঝরনা দেখে ফেরার পথে পর্যটকরা হ্রদের কিনারায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় পাহাড়ি সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নিতে পারেন। ইট-পাথরের যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি দূর করতে সুবলং ঝরনা হতে পারে দারুণ গন্তব্য। উল্লেখ্য, শুধু সুবলং নয়, বরকল উপজেলায় ছোট-বড় মিলে আরও আটটি ঝরনা রয়েছে, যা পর্যটকদের ক্লান্তি দূর করে চোখ জুড়িয়ে দেয়।

সুবলং ঝরনা দেখতে জেলা শহরের পর্যটন, রির্জাভ বাজার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং রাঙ্গামাটি ফিসারী ঘাট এলাকা থেকে নৌকা বা স্পিডবোটযোগে নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে যাওয়া সম্ভব। বর্ষার এই সময়ে ঝরনার পূর্ণ রূপ উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে প্রতিনিয়ত। পাহাড়ের এই অপরূপ সৌন্দর্য ধরে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটকদের সচেতনতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।