Hi

০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়েট শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু: হলের পুকুর থেকে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের পাশের একটি পুকুর থেকে অর্ণব সাহা নামের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত এই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে হলের পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অর্ণব ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু মিলে হলের পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমেছিলেন। গোসলের একপর্যায়ে হঠাৎ করেই বন্ধুরা লক্ষ্য করেন যে অর্ণব তাঁদের সঙ্গে নেই এবং তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নাম ধরে ডাকতে শুরু করেন এবং মোবাইল ফোনের টর্চলাইট জ্বেলে পানিতে তল্লাশি চালাতে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের এই আহাজারি ও কোলাহল শুনে আশপাশের অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সবাই মিলে চারপাশ থেকে পুকুরে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিছু সময় পর পুকুরঘাটের কাছাকাছি পানির নিচ থেকে অর্ণবের নিথর দেহ খুঁজে পান সহপাঠীরা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২-X৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর শাহরিয়ার জানান, তাঁরা যখন শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন, তখন বাইরে চিৎকার ও হইচই শুনতে পান। সেই আওয়াজ শুনে তাঁরা দ্রুত পুকুরপাড়ে ছুটে যান এবং দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর অর্ণবের মরদেহ পানি থেকে ওপরে তুলে আনতে দেখেন।

শিক্ষার্থীরা দ্রুত অর্ণবকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাজেশ দেব জানান, অর্ণবকে যখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনা হয়, তখন তাঁরা জীবন রক্ষাকারী সমস্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন। তাঁর ওপর সিপিআরসহ (জরুরি জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাপদ্ধতি) প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা চালানো হয়। তবে তাঁর শরীরে বেঁচে থাকার বা সাড়া দেওয়ার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি বেশ অনেকক্ষণ পানির নিচে আটকা পড়েছিলেন, যার ফলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রাথমিক প্রক্রিয়ার পর অর্ণবকে দ্রুত নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত থাকা যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেয়াজ্জেম হোসাইন তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। গণমাধ্যমকে তিনি জানান যে অর্ণবকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল, কিন্তু ততক্ষণে তিনি আর বেঁচে নেই। এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে চুয়েট পরিবারের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। একজন সম্ভাবনাময় তরুণের এমন বিদায়ে সহপাঠী ও শিক্ষকদের চোখে জল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

জনপ্রিয়

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পুকুরে গোসল করতে নেমে ৬ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

চুয়েট শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু: হলের পুকুর থেকে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ১২:২২:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের পাশের একটি পুকুর থেকে অর্ণব সাহা নামের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত এই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে হলের পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অর্ণব ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু মিলে হলের পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমেছিলেন। গোসলের একপর্যায়ে হঠাৎ করেই বন্ধুরা লক্ষ্য করেন যে অর্ণব তাঁদের সঙ্গে নেই এবং তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নাম ধরে ডাকতে শুরু করেন এবং মোবাইল ফোনের টর্চলাইট জ্বেলে পানিতে তল্লাশি চালাতে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের এই আহাজারি ও কোলাহল শুনে আশপাশের অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সবাই মিলে চারপাশ থেকে পুকুরে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিছু সময় পর পুকুরঘাটের কাছাকাছি পানির নিচ থেকে অর্ণবের নিথর দেহ খুঁজে পান সহপাঠীরা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২-X৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর শাহরিয়ার জানান, তাঁরা যখন শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন, তখন বাইরে চিৎকার ও হইচই শুনতে পান। সেই আওয়াজ শুনে তাঁরা দ্রুত পুকুরপাড়ে ছুটে যান এবং দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর অর্ণবের মরদেহ পানি থেকে ওপরে তুলে আনতে দেখেন।

শিক্ষার্থীরা দ্রুত অর্ণবকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাজেশ দেব জানান, অর্ণবকে যখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনা হয়, তখন তাঁরা জীবন রক্ষাকারী সমস্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন। তাঁর ওপর সিপিআরসহ (জরুরি জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাপদ্ধতি) প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা চালানো হয়। তবে তাঁর শরীরে বেঁচে থাকার বা সাড়া দেওয়ার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি বেশ অনেকক্ষণ পানির নিচে আটকা পড়েছিলেন, যার ফলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রাথমিক প্রক্রিয়ার পর অর্ণবকে দ্রুত নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত থাকা যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেয়াজ্জেম হোসাইন তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। গণমাধ্যমকে তিনি জানান যে অর্ণবকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল, কিন্তু ততক্ষণে তিনি আর বেঁচে নেই। এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে চুয়েট পরিবারের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। একজন সম্ভাবনাময় তরুণের এমন বিদায়ে সহপাঠী ও শিক্ষকদের চোখে জল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।