Hi

০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের বীরত্বগাথা: ঢাবি উপাচার্যকে বিশেষ বই উপহার শিক্ষার্থীর

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারী সমাজের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা নিয়ে রচিত বিশেষ গ্রন্থ ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই বইটি উপহার দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বইটির লেখক তাহমিদ সাকিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের একজন শিক্ষার্থী। দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিবিড় পরিশ্রম করে এই গ্রন্থটি প্রস্তুত করেছেন। আন্দোলন চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে তাদের সাক্ষাৎকার নেন তিনি। রাজপথের সেই সাহসী সংগ্রাম ও অবদানের কথাগুলো সুচারুভাবে লিপিবদ্ধ করে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

বইটির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে লেখক তাহমিদ সাকিব গণমাধ্যমকে জানান, চব্বিশের উত্তাল দিনগুলোতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিনি খুব কাছ থেকে নারী সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত ও আপসহীন অংশগ্রহণ প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, ওই সময়ে নারীদের সরব উপস্থিতি আন্দোলনের পুরো গতিপ্রকৃতি পাল্টে দিয়েছিল। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, বিপ্লব সফল হওয়ার পর নীতিনির্ধারণী বা জনপরিসরে তাঁদের সেই আত্মত্যাগের কথাগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। ভবিষ্যতের প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাসের সঠিক দলিল পৌঁছে দেওয়ার তাড়না থেকেই তিনি এই গবেষণাভিত্তিক গ্রন্থটি প্রণয়নের উদ্যোগ নেন।

লেখককে অভিনন্দন জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পুরো সময়জুড়ে এ দেশের নারীরা যে সাহসিকতা ও অদম্য ভূমিকা প্রদর্শন করেছেন, তা জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তারা কোনো অংশে কম যাননি, বরং সম্মুখসারিতে থেকে আন্দোলনকে বেগবান করেছিলেন। এই অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ ধরনের গবেষণাধর্মী প্রকাশনা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ।

উপাচার্য আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তরুণ শিক্ষার্থী তাহমিদ সাকিবের এই মহৎ উদ্যোগ দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রাণিত হবেন। আগামী দিনে তারা সমাজ, রাষ্ট্র এবং দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে আরও গভীর গবেষণা ও সৃজনশীল লেখালেখিতে নিজেদের নিয়োজিত করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয়

ফেসবুকে ইলিশ বিক্রির অভিনব প্রতারণা: নড়াইল থেকে মূলহোতা গ্রেপ্তার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের বীরত্বগাথা: ঢাবি উপাচার্যকে বিশেষ বই উপহার শিক্ষার্থীর

আপডেট : ০১:২২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারী সমাজের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা নিয়ে রচিত বিশেষ গ্রন্থ ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই বইটি উপহার দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বইটির লেখক তাহমিদ সাকিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের একজন শিক্ষার্থী। দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিবিড় পরিশ্রম করে এই গ্রন্থটি প্রস্তুত করেছেন। আন্দোলন চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে তাদের সাক্ষাৎকার নেন তিনি। রাজপথের সেই সাহসী সংগ্রাম ও অবদানের কথাগুলো সুচারুভাবে লিপিবদ্ধ করে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

বইটির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে লেখক তাহমিদ সাকিব গণমাধ্যমকে জানান, চব্বিশের উত্তাল দিনগুলোতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিনি খুব কাছ থেকে নারী সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত ও আপসহীন অংশগ্রহণ প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, ওই সময়ে নারীদের সরব উপস্থিতি আন্দোলনের পুরো গতিপ্রকৃতি পাল্টে দিয়েছিল। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, বিপ্লব সফল হওয়ার পর নীতিনির্ধারণী বা জনপরিসরে তাঁদের সেই আত্মত্যাগের কথাগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। ভবিষ্যতের প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাসের সঠিক দলিল পৌঁছে দেওয়ার তাড়না থেকেই তিনি এই গবেষণাভিত্তিক গ্রন্থটি প্রণয়নের উদ্যোগ নেন।

লেখককে অভিনন্দন জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পুরো সময়জুড়ে এ দেশের নারীরা যে সাহসিকতা ও অদম্য ভূমিকা প্রদর্শন করেছেন, তা জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তারা কোনো অংশে কম যাননি, বরং সম্মুখসারিতে থেকে আন্দোলনকে বেগবান করেছিলেন। এই অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ ধরনের গবেষণাধর্মী প্রকাশনা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ।

উপাচার্য আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তরুণ শিক্ষার্থী তাহমিদ সাকিবের এই মহৎ উদ্যোগ দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রাণিত হবেন। আগামী দিনে তারা সমাজ, রাষ্ট্র এবং দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে আরও গভীর গবেষণা ও সৃজনশীল লেখালেখিতে নিজেদের নিয়োজিত করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।