Hi

০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রীয় ৪৪ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের

লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় ইজারা বা বিক্রির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। সংগঠনটির স্পষ্ট অবস্থান হলো, রাষ্ট্রায়ত্ত এসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে না দিয়ে বরং যথাযথ আধুনিকায়নের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সচল রাখতে হবে। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়াটি কোনোভাবেই জনকল্যাণমুখী নয়, বরং এটি একটি বিশেষ লুটেরা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বাণিজ্যিক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা মাত্র।

মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক জোরালো বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এই দাবি উত্থাপন করেন। এর আগে সকালে আমলা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি ফোরাম এই ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়া কিংবা বিক্রির একটি রূপরেখা বা নীতিমালা তৈরির বিষয়ে বৈঠক করে বলে অভিযোগ তোলে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের পতন নিশ্চিত হলেও দেশের অর্থনীতি এখনও কাঠামোগত শোষণ ও লুণ্ঠনভিত্তিক চক্রের কবল থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। তাঁর মতে, বাজারে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কারণে সামগ্রিক বাজারব্যবস্থা আজ বিপর্যস্ত। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে যেখানে ভারী শিল্পের বিকাশ এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল, সেখানে সরকার উল্টো পথ বেছে নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ফয়জুল হাকিম আরও উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ মানুষের রক্ত ও ঘামের অর্থে গড়ে ওঠা পাটকল ও চিনিকলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারিভাবে পরিচালনার পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে এখন বেসরকারি খাতে সঁপে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এটি কোনোমতেই জনগণের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করবে না, বরং মুষ্টিমেয় পুঁজিপতিদের মুনাফা অর্জনের পথকে সুগম করবে। এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশের শ্রমিক, কৃষক, ছাত্রসমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা হেমন্ত দাশ বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প ও কৃষির সুষম বিকাশের স্বার্থে বিগত সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বিতর্কিত ও অসম পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিগুলো অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, একটি স্বাধীন দেশের অর্থনৈতিক নীতি কোনো অবস্থাতেই বিদেশি শক্তির বা বহুজাতিক সংস্থার প্রেসক্রিপশনে পরিচালিত হতে পারে না।

সংগঠনের আরেক নেত্রী দীপা মল্লিক তাঁর বক্তব্যে অতীতের বিভিন্ন সরকারের সময় নেওয়া আত্মঘাতী শিল্পনীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আকস্মিকভাবে ২৫টি পাটকল ও ৬টি চিনিকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে রাতারাতি লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর এই ধারাবাহিক লোকসানের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কোনো সরকারই কখনো কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করেনি। দুর্নীতি, আধুনিক প্রযুক্তিতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের মারাত্মক ঘাটতি এবং আমলা-ব্যবসায়ী যোগসাজশের ফলেই মূলত রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃত্রিমভাবে রুগ্ণ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা সাইফুর রুদ্র। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের আমলেও গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের লোভ দেখিয়ে ঐতিহাসিক আদমজী জুট মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং সে সময় প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগও তার কার্যকর কোনো বিরোধিতা করেনি। বর্তমানে ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় ইজারা বা বিক্রির বর্তমান সরকারি পদক্ষেপেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারকরা নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শ্রমিক ও কৃষকদের আরও বেশি সতর্ক ও সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দেন বক্তারা।

জনপ্রিয়

ফেসবুকে ইলিশ বিক্রির অভিনব প্রতারণা: নড়াইল থেকে মূলহোতা গ্রেপ্তার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রাষ্ট্রীয় ৪৪ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের

আপডেট : ১২:১৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় ইজারা বা বিক্রির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। সংগঠনটির স্পষ্ট অবস্থান হলো, রাষ্ট্রায়ত্ত এসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে না দিয়ে বরং যথাযথ আধুনিকায়নের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সচল রাখতে হবে। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়াটি কোনোভাবেই জনকল্যাণমুখী নয়, বরং এটি একটি বিশেষ লুটেরা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বাণিজ্যিক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা মাত্র।

মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক জোরালো বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এই দাবি উত্থাপন করেন। এর আগে সকালে আমলা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি ফোরাম এই ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়া কিংবা বিক্রির একটি রূপরেখা বা নীতিমালা তৈরির বিষয়ে বৈঠক করে বলে অভিযোগ তোলে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের পতন নিশ্চিত হলেও দেশের অর্থনীতি এখনও কাঠামোগত শোষণ ও লুণ্ঠনভিত্তিক চক্রের কবল থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। তাঁর মতে, বাজারে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কারণে সামগ্রিক বাজারব্যবস্থা আজ বিপর্যস্ত। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে যেখানে ভারী শিল্পের বিকাশ এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল, সেখানে সরকার উল্টো পথ বেছে নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ফয়জুল হাকিম আরও উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ মানুষের রক্ত ও ঘামের অর্থে গড়ে ওঠা পাটকল ও চিনিকলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারিভাবে পরিচালনার পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে এখন বেসরকারি খাতে সঁপে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এটি কোনোমতেই জনগণের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করবে না, বরং মুষ্টিমেয় পুঁজিপতিদের মুনাফা অর্জনের পথকে সুগম করবে। এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশের শ্রমিক, কৃষক, ছাত্রসমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা হেমন্ত দাশ বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প ও কৃষির সুষম বিকাশের স্বার্থে বিগত সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বিতর্কিত ও অসম পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিগুলো অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, একটি স্বাধীন দেশের অর্থনৈতিক নীতি কোনো অবস্থাতেই বিদেশি শক্তির বা বহুজাতিক সংস্থার প্রেসক্রিপশনে পরিচালিত হতে পারে না।

সংগঠনের আরেক নেত্রী দীপা মল্লিক তাঁর বক্তব্যে অতীতের বিভিন্ন সরকারের সময় নেওয়া আত্মঘাতী শিল্পনীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আকস্মিকভাবে ২৫টি পাটকল ও ৬টি চিনিকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে রাতারাতি লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর এই ধারাবাহিক লোকসানের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কোনো সরকারই কখনো কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করেনি। দুর্নীতি, আধুনিক প্রযুক্তিতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের মারাত্মক ঘাটতি এবং আমলা-ব্যবসায়ী যোগসাজশের ফলেই মূলত রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃত্রিমভাবে রুগ্ণ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা সাইফুর রুদ্র। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের আমলেও গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের লোভ দেখিয়ে ঐতিহাসিক আদমজী জুট মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং সে সময় প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগও তার কার্যকর কোনো বিরোধিতা করেনি। বর্তমানে ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় ইজারা বা বিক্রির বর্তমান সরকারি পদক্ষেপেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারকরা নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শ্রমিক ও কৃষকদের আরও বেশি সতর্ক ও সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দেন বক্তারা।