ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা রাম কাপুর সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের বহুল আলোচিত রিয়েলিটি শো ‘লক আপ: সাচ ইয়ে সাজা’-তে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন স্বীকারোক্তি দিয়ে বিনোদন জগতে এবং সাধারণ দর্শকদের মাঝে তীব্র আলোচনার ঝড় তুলেছেন। শোটির একটি বিশেষ পর্বে প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত জীবনের গোপন ও স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশের সেগমেন্টে অংশ নিয়ে তিনি জানান যে, তাঁর পিতার জীবনের শেষ সময়ে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণে তিনি সরাসরি সহায়তা করেছিলেন। এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের কারণে গত পাঁচ বছর ধরে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা, বিশেষ করে তাঁর মা ও বোন তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন এবং কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে রাম কাপুর তাঁর বাবার ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার ও জীবনের শেষ দিনগুলোর অত্যন্ত বেদনাদায়ক পটভূমি তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাঁর বাবা ৬৩ বছর বয়সে প্রথমবার অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। সেসময় জটিলতার কারণে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব না হলেও, টানা ১৮ দফা কেমোথেরাপির পর তিনি অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং আরও প্রায় এক দশক স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ৭৩ বছর বয়সে ক্যানসার মারাত্মকভাবে আবার ফিরে আসে। পারিবারিক সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা জানান, বাবার ব্যবসায়িক পথ অনুসরণ না করে অভিনয়ের পেশাকে বেছে নেওয়ার কারণে অতীতে তাঁর সঙ্গে বাবার সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে কোভিড-১৯ মহামারির বিশ্বব্যাপী সংকটের সময়ে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত তাঁর বাবা তাঁকে ফোন করে তাঁর জীবনের অন্তিম ইচ্ছার কথা জানান।
রাম কাপুরের দাবি, তাঁর বাবা আর ক্যানসারের শারীরিক যন্ত্রণা ও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে রাজি ছিলেন না। বাবা সরাসরি তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুমি কি আমাকে মরতে সাহায্য করবে?’ প্রথমে এই কথা শুনে হতবাক ও দিশাহারা হয়ে গেলেও, বাবা তাঁকে বুঝিয়েছিলেন যে জীবনের এই অন্তিম পথ তিনি একা পার করতে চান না এবং জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে একমাত্র রামকেই পাশে চান। বাবার কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত ছিল—এই মৃত্যুর পরিকল্পনার কথা কাউকে জানানো যাবে না, তাঁকে কখনো একা ফেলে যাওয়া যাবে না এবং যদি হাসপাতাালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তবে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত যেন তাঁর হাত ধরে রাখা হয়। পরিবারের বাকি সদস্যরা তখনো ভাবছিলেন যে চিকিৎসা চলছে, কিন্তু বাস্তবে চিকিৎসকরা কোনো কৃত্রিম উপায়ে জীবন দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
রাম কাপুর আরও প্রকাশ করেন যে, তাঁর বাবার সুনির্দিষ্ট ইচ্ছা ছিল মৃত্যুর পর কেউ যেন কোনো ধরনের কান্নাকাটি না করেন এবং সেদিনই যেন তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। তিনি ও তাঁর পরিবার সেই প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি রক্ষা করেছিলেন। তবে এই কঠিন সিদ্ধান্তের চরম মূল্যও তাঁকে চোকাতে হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই তাঁর মা ও বোন তাঁর সঙ্গে সব সম্পর্ক চিরতরে ছিন্ন করেছেন। তা সত্ত্বেও নিজের নেওয়া এই সিদ্ধান্তের বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই রাম কাপুরের। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, একজন সন্তানের পক্ষে মা-বাবার জন্য করা এটি অন্যতম সেরা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজ ছিল। সবাই সাধারণ জীবনের মতো বাঁচতে চায়, কিন্তু তাঁর বাবা রাজার মতোই এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। খুব কাছ থেকে সেই মৃত্যু দেখার পর তাঁর জীবনের দর্শন আমূল বদলে গেছে। একই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে অভিনেতা হর্ষদ চোপড়াও ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা তাঁর মায়ের শেষ দিনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং জানান যে তিনি চিকিৎসকদের অনুরোধ করেছিলেন যাতে তাঁর মায়ের শারীরিক কষ্ট লাঘব করা হয়।
ডেস্ক সংবাদ 






















