ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকায় স্ক্র্যাপবোঝাই একটি চলন্ত লরিতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় লরিটির সামনের কেবিন অংশ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেলেও সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে হঠাৎ এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে ব্যস্ততম মহাসড়কটির ঢাকামুখী লেনে বেশ কিছু সময় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যার ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে স্ক্র্যাপ বা লোহালক্কড় বোঝাই করে একটি ভারী লরিটি সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের চৌধুরীঘাটা এলাকায় অবস্থিত একেএস স্টিল মিলের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে লরিটি ফৌজদারহাট পদচারী-সেতু সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটির সামনের অংশে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং তা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে চালক ও সহকারী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে নিরাপদে সরে যান।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়কের উভয় পাশে চলাচলকারী যানবাহনগুলো থমকে দাঁড়ায়। খবর পেয়ে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ট্রাফিক চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করে। হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় কিছু সময় ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও পরবর্তীতে একটি লেন খুলে দেওয়া হয়, যা ধীরে ধীরে যানজট কমাতে সাহায্য করে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ইমরুল কাদের ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, বন্দর থেকে কারখানায় স্ক্র্যাপ পৌঁছানোর কথা ছিল গাড়িটির। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে কারখানা কর্তৃপক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি প্রকৌশলী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে এই দুর্ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থনৈতিক করিডোরে এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধু যানজটই সৃষ্টি করে না, বরং বড় ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি করে। ফিটনেসবিহীন লরি বা অতিরিক্ত বোঝাইয়ের কারণে মাঝেমধ্যেই মহাসড়কে এ জাতীয় যান্ত্রিক ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকে। তাই ভারী যানবাহনগুলোর নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ওপর আরও বেশি জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
নিজস্ব প্রতিনিধি 





















