Hi

০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬২ বছরের বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনে শিল্পকলায় প্রথম একক কনসার্টে মাতালেন রুনা লায়লা

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ও কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনের দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো তার প্রথম একক সংগীত-সন্ধ্যা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এবং শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানটি ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে তৈরি হয়েছিল অভূতপূর্ব উন্মাদনা। নির্ধারিত সময়ের বহু আগেই মিলনায়তনের প্রতিটি আসন পূর্ণ হয়ে যায় এবং সর্বস্তরের সংগীতপ্রেমী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। সন্ধ্যা ঠিক ৭টার দিকে সুরের জাদুকর রুনা লায়লা মঞ্চে পদার্পণ করলে পুরো মিলনায়তনের দর্শক-শ্রোতারা দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে করতালির মাধ্যমে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) এই আয়োজনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই শিল্পীর একক পরিবেশনা শিল্পকলা একাডেমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জন্য এক বিরল গৌরব। একই সঙ্গে তিনি দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জানান যে, এই বিশেষ সংগীতানুষ্ঠানের টিকিট বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ বন্যার্ত মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান হিসেবে প্রদান করা হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী রুনা লায়লার দীর্ঘ সংগীতসাধনা ও বাংলা গানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের কথা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মসহ দেশের সংগীতাঙ্গনের বহু বরেণ্য শিল্পী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সন্ধ্যাটির সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল রুনা লায়লাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান। ৬২ বছরের দীর্ঘ পথচলায় সুরের ভুবনে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী শিল্পীর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। সম্মাননা গ্রহণের পরপরই আবেগে আপ্লুত রুনা লায়লা তার সুমধুর কণ্ঠে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবেশন করেন জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছো প্রাণ’। এরপর একে একে তিনি শোনান ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’ এবং ‘যখন থামবে কোলাহল/ঘুমে নিঝুম চারপাশ’-এর মতো চিরসবুজ ও কালজয়ী সব গান। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই মনোজ্ঞ পরিবেশনায় আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ট্র্যাক এবং দেশাত্মবোধক সুরের মূর্ছনায় মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়েন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। শিল্পীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে পুরো মিলনায়তন এক মোহনীয় সংগীতময় পরিবেশে রূপ নেয়।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রুনা লায়লা জানান যে, তার দীর্ঘ সংগীতজীবনে কোটি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পাওয়ার অনুভূতি অত্যন্ত গভীর এবং এই ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের মূলধারার সংগীত ও সংস্কৃতির ধারাকে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর আগে শিল্পকলা একাডেমি বরেণ্য শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে একক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও, রুনা লায়লা তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম এই জাতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্রে একক কনসার্টে অংশ নিলেন। এই সফল ও ঐতিহাসিক সংগীতানুষ্ঠান শেষ করেই এই গুণী শিল্পী তার আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন, যেখানে তিনি প্রবাসী বাঙালি শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে একাধিক কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করবেন বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

বিতর্ক ও নাটকীয়তার অবসান: তিন বছর তিন মাস পর রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

৬২ বছরের বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনে শিল্পকলায় প্রথম একক কনসার্টে মাতালেন রুনা লায়লা

আপডেট : ০২:২০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ও কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনের দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো তার প্রথম একক সংগীত-সন্ধ্যা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এবং শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানটি ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে তৈরি হয়েছিল অভূতপূর্ব উন্মাদনা। নির্ধারিত সময়ের বহু আগেই মিলনায়তনের প্রতিটি আসন পূর্ণ হয়ে যায় এবং সর্বস্তরের সংগীতপ্রেমী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। সন্ধ্যা ঠিক ৭টার দিকে সুরের জাদুকর রুনা লায়লা মঞ্চে পদার্পণ করলে পুরো মিলনায়তনের দর্শক-শ্রোতারা দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে করতালির মাধ্যমে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন) এই আয়োজনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই শিল্পীর একক পরিবেশনা শিল্পকলা একাডেমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জন্য এক বিরল গৌরব। একই সঙ্গে তিনি দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জানান যে, এই বিশেষ সংগীতানুষ্ঠানের টিকিট বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ বন্যার্ত মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান হিসেবে প্রদান করা হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী রুনা লায়লার দীর্ঘ সংগীতসাধনা ও বাংলা গানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের কথা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মসহ দেশের সংগীতাঙ্গনের বহু বরেণ্য শিল্পী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সন্ধ্যাটির সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল রুনা লায়লাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান। ৬২ বছরের দীর্ঘ পথচলায় সুরের ভুবনে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী শিল্পীর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। সম্মাননা গ্রহণের পরপরই আবেগে আপ্লুত রুনা লায়লা তার সুমধুর কণ্ঠে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবেশন করেন জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান ‘দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছো প্রাণ’। এরপর একে একে তিনি শোনান ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব’ এবং ‘যখন থামবে কোলাহল/ঘুমে নিঝুম চারপাশ’-এর মতো চিরসবুজ ও কালজয়ী সব গান। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই মনোজ্ঞ পরিবেশনায় আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ট্র্যাক এবং দেশাত্মবোধক সুরের মূর্ছনায় মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়েন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। শিল্পীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে পুরো মিলনায়তন এক মোহনীয় সংগীতময় পরিবেশে রূপ নেয়।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রুনা লায়লা জানান যে, তার দীর্ঘ সংগীতজীবনে কোটি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পাওয়ার অনুভূতি অত্যন্ত গভীর এবং এই ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের মূলধারার সংগীত ও সংস্কৃতির ধারাকে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর আগে শিল্পকলা একাডেমি বরেণ্য শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে একক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও, রুনা লায়লা তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম এই জাতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্রে একক কনসার্টে অংশ নিলেন। এই সফল ও ঐতিহাসিক সংগীতানুষ্ঠান শেষ করেই এই গুণী শিল্পী তার আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন, যেখানে তিনি প্রবাসী বাঙালি শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে একাধিক কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করবেন বলে জানা গেছে।