সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইলিশ মাছ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্য সুলভে বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূলহোতা মো. অনিক শেখকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গত মঙ্গলবার দুপুরে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার আমতলা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিটিটিসি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত অনিক ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে আকর্ষণীয় মূল্যে পদ্মার তাজা ইলিশ এবং লোভনীয় অফারে বিভিন্ন পণ্য বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করত। সরল বিশ্বাসের ক্রেতারা যখন কম দামে ইলিশ পাওয়ার আশায় ওই বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে যোগাযোগ করতেন, তখন প্রতারক চক্রটি তাদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যুক্ত করত। এরপর প্যাকেজিং খরচ ও ডেলিভারি চার্জ বাবদ প্রথমে নামমাত্র ৫৫০ টাকা অগ্রিম হিসেবে হাতিয়ে নিত। পরবর্তীতে নানা অজুহাত দেখিয়ে এবং ভয়ভীতি বা প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরই চক্রটি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ চিরতরে বন্ধ করে দিত এবং ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্লক করে ফেলত।
এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারানো এক ভুক্তভোগী রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ছায়া তদন্ত শুরু করে সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। গোয়েন্দা তথ্য এবং অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীর অবস্থান নিশ্চিত করার পর নড়াইলে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত অনিককে কব্জা করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে সরাসরি ব্যবহৃত চারটি স্মার্টফোন, বিভিন্ন অপারেটরের আটটি সক্রিয় সিমকার্ড, একাধিক ভুয়া ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনিক শেখ পুলিশের কাছে তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, এই তরুণ একা নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অভিনব এই কায়দায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। গত প্রায় তিন বছর ধরে তারা এই জালিয়াতির জাল বিস্তার করে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত অনিক শেখের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনি বিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি, এই অনলাইন প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য যেসব সদস্য এখনও পলাতক রয়েছে, তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতি লোভনীয় বা বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে অগ্রিম টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বারবার সতর্ক করে আসছে। সাইবার অপরাধ ঠেকাতে নাগরিকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
রিপোর্টার নাম: 






















