Hi

০৭:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামগতিতে পানির লাইনের খননকালে মিলল ৩টি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল, এলাকায় তীব্র আতঙ্ক

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় সড়কের উন্নয়নকাজ করার সময় মাটির নিচ থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলা সদরের আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজ-সংলগ্ন টিএটি অফিস সড়কে খাবার পানির পাইপলাইন নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় হঠাৎ এই ধাতব বস্তুগুলোর সন্ধান পান উন্নয়নকর্মী ও শ্রমিকেরা। আকস্মিক এমন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক বস্তুর উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কাজ ফেলে স্থান ত্যাগ করেন শ্রমিকরা। পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও থানা-পুলিশকে অবহিত করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকাটি কর্ডন করে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রামগতি উপজেলার আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজ সংলগ্ন টিএটি অফিস এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বা স্থানীয় প্রশাসনের পানির লাইন সংস্কার ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে মাটি খননের কাজ চলছিল। বেশ কয়েকজন শ্রমিক সাবল ও কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ছিলেন। খননকাজ চলাকালে মাটি থেকে প্রায় দুই থেকে তিন ফুট গভীরে পৌঁছালে শ্রমিকদের কোদাল শক্ত কোনো ধাতব বস্তুতে আঘাত করে। উৎসুক হয়ে মাটি সরানোর পর পাশাপাশি তিনটি বড় আকৃতির ধাতব বস্তু দেখতে পান তারা। বস্তুগুলোর বাহ্যিক গঠন ও আকৃতি দেখে সেগুলো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মর্টার শেল বলে সন্দেহ হয় কাজ করতে থাকা কর্মীদের। এতে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণের আশঙ্কায় প্রাণভয়ে দ্রুত ছোটাছুটি শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে শ্রমিকরা সব ধরনের কাজ বন্ধ রেখে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যেও কৌতুহল ও শঙ্কা তৈরি হয়। উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমানোর চেষ্টা করলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশকে জরুরি ভিত্তিতে খবর দেওয়া হয়। বার্তা পাওয়ার পর রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে পুলিশের একটি চটপটে দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশ ফিতা দিয়ে ঘিরে দেয় এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কোনো প্রকার ঘর্ষণ, আঘাত বা অপেশাদার কোনো নাড়াচাড়ায় যাতে বড় বিপত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে সর্বসাধারণকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার জন্য মাইকিং ও পরামর্শ দেওয়া হয়।

উদ্ধারকৃত শেলগুলোর বস্তুগত অবস্থা ও উৎস নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এগুলোকে অবিস্ফোরিত মর্টার শেল বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এগুলো ঠিক কতটা পুরোনো কিংবা এগুলো কতদিন ধরে সেখানে পুঁতে ছিল, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সাধারণত বাংলাদেশে স্বাধীনতার ইতিহাস বা পুরোনো কোনো সময়ের মাটিচাপা পড়া মর্টার শেলে দীর্ঘদিনের ফলে গভীর জং বা ক্ষয়চিহ্ন দেখা যায়। কিন্তু উদ্ধার হওয়া এই তিনটি মর্টার শেলে প্রত্যাশিত মাত্রায় মরিচা দেখা যাচ্ছে না, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উদ্ধারকারীদের মনে কিছুটা অনুসন্ধিৎসা ও দ্বিধার সৃষ্টি করেছে।

ওসি লিটন দেওয়ান আরও জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষজ্ঞ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে (বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল) খবর পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা শিগগিরই ঘটনাস্থলে এসে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। শেলগুলোর মেয়াদ, শক্তি ও ধরন নিশ্চিত হওয়ার পর এগুলোকে কোনো জনমানবহীন ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হবে এবং নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের (কন্ট্রোলড ডেমোলেশন) মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিষ্ক্রিয় করা হবে।

উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই বিভিন্ন সময়ে মাটির গভীরে, পুরনো জলাশয় কিংবা পরিত্যক্ত অবকাঠামোর নিচে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অব্যবহৃত বা অবিস্ফোরিত ভারী অস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড ও মর্টার শেল উদ্ধারের ঘটনা ঘটে থাকে। বহু বছর মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকলেও এ জাতীয় ভারী অস্ত্রগুলোর ভেতরে থাকা বিস্ফোরক দ্রব্য দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কোনো সন্দেহজনক ধাতব বা বিস্ফোরক বস্তু নজরে এলে স্থানীয়দের নিজে থেকে তা সরাতে বা নাড়াচাড়া করতে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। রামগতিতে তাৎক্ষণিকভাবে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করা এবং পুলিশের তড়িৎ পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বর্তমানে উক্ত এলাকাটি পুলিশের সতর্ক নজরদারিতে রয়েছে।

জনপ্রিয়

শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলা: আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিলেন সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

রামগতিতে পানির লাইনের খননকালে মিলল ৩টি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল, এলাকায় তীব্র আতঙ্ক

আপডেট : ০৫:২৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় সড়কের উন্নয়নকাজ করার সময় মাটির নিচ থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলা সদরের আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজ-সংলগ্ন টিএটি অফিস সড়কে খাবার পানির পাইপলাইন নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় হঠাৎ এই ধাতব বস্তুগুলোর সন্ধান পান উন্নয়নকর্মী ও শ্রমিকেরা। আকস্মিক এমন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক বস্তুর উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কাজ ফেলে স্থান ত্যাগ করেন শ্রমিকরা। পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও থানা-পুলিশকে অবহিত করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকাটি কর্ডন করে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রামগতি উপজেলার আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজ সংলগ্ন টিএটি অফিস এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বা স্থানীয় প্রশাসনের পানির লাইন সংস্কার ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে মাটি খননের কাজ চলছিল। বেশ কয়েকজন শ্রমিক সাবল ও কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ছিলেন। খননকাজ চলাকালে মাটি থেকে প্রায় দুই থেকে তিন ফুট গভীরে পৌঁছালে শ্রমিকদের কোদাল শক্ত কোনো ধাতব বস্তুতে আঘাত করে। উৎসুক হয়ে মাটি সরানোর পর পাশাপাশি তিনটি বড় আকৃতির ধাতব বস্তু দেখতে পান তারা। বস্তুগুলোর বাহ্যিক গঠন ও আকৃতি দেখে সেগুলো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মর্টার শেল বলে সন্দেহ হয় কাজ করতে থাকা কর্মীদের। এতে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণের আশঙ্কায় প্রাণভয়ে দ্রুত ছোটাছুটি শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে শ্রমিকরা সব ধরনের কাজ বন্ধ রেখে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যেও কৌতুহল ও শঙ্কা তৈরি হয়। উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমানোর চেষ্টা করলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশকে জরুরি ভিত্তিতে খবর দেওয়া হয়। বার্তা পাওয়ার পর রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে পুলিশের একটি চটপটে দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশ ফিতা দিয়ে ঘিরে দেয় এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কোনো প্রকার ঘর্ষণ, আঘাত বা অপেশাদার কোনো নাড়াচাড়ায় যাতে বড় বিপত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে সর্বসাধারণকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার জন্য মাইকিং ও পরামর্শ দেওয়া হয়।

উদ্ধারকৃত শেলগুলোর বস্তুগত অবস্থা ও উৎস নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এগুলোকে অবিস্ফোরিত মর্টার শেল বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এগুলো ঠিক কতটা পুরোনো কিংবা এগুলো কতদিন ধরে সেখানে পুঁতে ছিল, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সাধারণত বাংলাদেশে স্বাধীনতার ইতিহাস বা পুরোনো কোনো সময়ের মাটিচাপা পড়া মর্টার শেলে দীর্ঘদিনের ফলে গভীর জং বা ক্ষয়চিহ্ন দেখা যায়। কিন্তু উদ্ধার হওয়া এই তিনটি মর্টার শেলে প্রত্যাশিত মাত্রায় মরিচা দেখা যাচ্ছে না, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উদ্ধারকারীদের মনে কিছুটা অনুসন্ধিৎসা ও দ্বিধার সৃষ্টি করেছে।

ওসি লিটন দেওয়ান আরও জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষজ্ঞ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে (বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল) খবর পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা শিগগিরই ঘটনাস্থলে এসে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। শেলগুলোর মেয়াদ, শক্তি ও ধরন নিশ্চিত হওয়ার পর এগুলোকে কোনো জনমানবহীন ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হবে এবং নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের (কন্ট্রোলড ডেমোলেশন) মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিষ্ক্রিয় করা হবে।

উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই বিভিন্ন সময়ে মাটির গভীরে, পুরনো জলাশয় কিংবা পরিত্যক্ত অবকাঠামোর নিচে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অব্যবহৃত বা অবিস্ফোরিত ভারী অস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড ও মর্টার শেল উদ্ধারের ঘটনা ঘটে থাকে। বহু বছর মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকলেও এ জাতীয় ভারী অস্ত্রগুলোর ভেতরে থাকা বিস্ফোরক দ্রব্য দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কোনো সন্দেহজনক ধাতব বা বিস্ফোরক বস্তু নজরে এলে স্থানীয়দের নিজে থেকে তা সরাতে বা নাড়াচাড়া করতে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। রামগতিতে তাৎক্ষণিকভাবে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করা এবং পুলিশের তড়িৎ পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বর্তমানে উক্ত এলাকাটি পুলিশের সতর্ক নজরদারিতে রয়েছে।