মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বুধবার রাত থেকে মংডু শহরতলিতে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে দেশটির সরকারি বাহিনী ভয়াবহ বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ শুরু করেছে। এই সংঘাতের তীব্রতা এতটাই প্রকট যে, নাফ নদীর ওপার থেকে আসা বিস্ফোরণের বিকট শব্দে টেকনাফ সীমান্তের জনপদ কেঁপে উঠছে। সীমান্তবর্তী সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ ও জালিয়াপাড়ার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতে আকাশজুড়ে আগুনের ঝলকানি এবং থেমে থেমে হওয়া বোমা বিস্ফোরণের শব্দে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার রাত সোয়া নয়টার পর থেকে মংডু টাউনশিপের হাইন্দাপাড়া, তিন মাইল এবং বিজিবি সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে সরকারি বাহিনী বিমান থেকে বোমা ও গুলি বর্ষণ করে। এই হামলায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বেশ কিছু বসতবাড়িতে আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং হতাহতের বড় ধরনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওপার থেকে আসা আগুনের ঝলকানি এবং বিকট শব্দে এপারে বসবাসরত মানুষের মধ্যে প্রাণহানির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
উল্লেখ্য যে, গত ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের জান্তা সরকার তাদের হারানো নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এর পাশাপাশি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এবং কোস্টগার্ড এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একইসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমানে মিয়ানমারের অস্থিরতা বাংলাদেশ সীমান্তের জননিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টার নাম: 




















