ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে খদরে (বড় থালায়) খাসির মাংস না দেওয়ায় বিয়ে না করেই চলে গেছেন জাপান প্রবাসী বর জুনায়েদ। সোমবার বিকেলে ঘটা এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। বর জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।
কনেপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে জুনায়েদ তার আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এরপর গেট ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত আসনে বসানো হয়। একপর্যায়ে আত্মীয়স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য খদরে করে খাবার দেওয়া হয়। এ সময় খদরে খাসি না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। তিনি খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
এ সময় কনেপক্ষের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। অভিযোগ ওঠেছে, বিয়েতে খদরের খাবারে খাসি না পেয়ে বর অশালীন আচরণ ও নববধূকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। মেয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও বরের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে শঙ্কিত হয়ে কনের বাবা শফিক মিয়া শেষ পর্যন্ত ওই যুবকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে বাধ্য হয়ে বরকে বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে ফিরে যেতে হয়।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় উঠলে মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন জুনায়েদ। সেখানে তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত কাবিন দাবি করার কারণেই মূলত এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল থেকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে মেয়েপক্ষ আমার কাছে পূর্বনির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করে। আমি ও আমার পরিবার তা দিতে অস্বীকার করলে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং তারা আমাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেয়। এমনকি আমাদের আনা উপহারসামগ্রী ও লাগেজও ফেরত পাঠিয়ে দেয়। মেয়ের সঙ্গে আমাকে কোনো রকম যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।
তবে বরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কাবিনের টাকা চাওয়ার দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কনের বাবা শফিক মিয়া। তিনি বলেন, ‘খাবারে খাসির বিষয়টি আমাকে আগে জানানো হলে আমি অবশ্যই তার ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়স্বজনসহ সবাই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি। উল্টো খারাপ আচরণ করেছেন।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। কোনো বাবাই চান না তার মেয়ের বিয়েতে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হোক। খাসির বিষয়টি সামনে আসার পর তাকে অনেক বোঝানো হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করবেন না বলে অনড় থাকেন। পরবর্তীতে তার অশালীন আচরণ ও মন্তব্যের কারণে কনের বাবা আর বিয়ে সম্পন্ন করেননি।’
রিপোর্টার নাম: 

























