চীনে পাড়ি জমানোর দেড় বছর আগে ফরহাদ রহমান রামীম যখন প্রথম দেশটিতে পৌঁছান, তখন তার কাছে সবকিছু ছিল অপরিচিত। ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা ভৌগোলিক পরিবেশ—সবকিছুই ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। একটি উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হিসেবে আধুনিক চীনা নগরজীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। তবে সেই কঠিন সময়ে তিনি কেবল প্রযুক্তি বা উন্নয়নের দেশ হিসেবে চীনকে দেখেননি, বরং আবিষ্কার করেছেন মানবিকতার এক অনন্য রূপ।
কুনশান শহরে থাকাকালীন রামীম প্রথম যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন, তা ছিল একাকীত্ব। কিন্তু স্থানীয় সহকর্মী ‘আথাই’-এর আন্তরিকতা সেই নিঃসঙ্গতা দূর করতে সাহায্য করে। আথাই কেবল তাকে পথ চলতে শেখায়নি, বরং তার ধর্মীয় খাদ্যাভ্যাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে হালাল খাবারের সন্ধান দিয়েছে এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। একই ধরনের মমতা তিনি পেয়েছেন তার কর্মস্থলের ‘মিস উ’-এর কাছ থেকে, যিনি তাকে একজন অভিভাবকের মতো আগলে রেখেছিলেন। বাসা বদল থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সরঞ্জাম কেনায় মিস উর সহযোগিতা তাকে পরবাসে বোনের স্নেহ অনুভব করতে শিখিয়েছে।
শুধু সহকর্মীই নয়, স্থানীয় সাধারণ মানুষের মানবিকতাও ছিল বিস্ময়কর। বাসার পাশের ছোট খাবারের দোকানের মালিক নারীটি রামীমের আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজন বুঝে যেভাবে তাকে অকৃপণভাবে খাবার দিয়েছেন, তা যেন মায়ের মমতারই প্রতিচ্ছবি। পরবর্তী সময়ে সুচৌ শহরে স্থানান্তরের পরও রামীম একই ধরনের সহযোগিতার অভিজ্ঞতা লাভ করেন। সহকর্মী মিস শিয়াও ওয়েই-এর চীনা ভাষা শেখানোর আগ্রহ কিংবা বিপদে পড়া অবস্থায় সহকর্মীর দিকনির্দেশনা তাকে বারবার আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।
পরিশেষে, সুচৌয়ের কর্মস্থলের প্রধানের বন্ধুসুলভ আচরণ এবং কাজের পরিবেশকে স্বস্তিদায়ক করে তোলার প্রচেষ্টা রামীমের কাছে চীনকে এক মানবিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রামীম মনে করেন, ভাষা বা সংস্কৃতির চেয়েও বড় হলো মানুষের প্রতি মানুষের মমতা। তার এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, পৃথিবীজুড়ে মানবিকতার ভাষা সর্বজনীন। তিনি তার হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সেইসব চীনা নাগরিকদের প্রতি, যারা একজন বিদেশিকে আপন করে নিয়েছিলেন কোনো স্বার্থ ছাড়াই। তার এই সফর কেবল একটি পেশাগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং ভালোবাসার এক অবিস্মরণীয় উপাখ্যান হয়ে থাকবে।
রিপোর্টার নাম: 






















