Hi

০১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘স্পেকস ২০৩০’ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) স্পেকস ২০৩০ উদ্যোগের। এই উদ্যোগটি সারাদেশে মানসম্মত, সাশ্রয়ী ও জনকেন্দ্রিক চক্ষুসেবার সুযোগ সম্প্রসারণের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. এম এ মুহিত বলেন, সরকার উপজেলা পর্যায়ে নির্মিতব্য ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোতে চক্ষুসেবার জন্য বিশেষায়িত বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ এবং অপারেশন থিয়েটার সুবিধা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকার একটি সমন্বিত জাতীয় চক্ষুসেবা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে, যার মূল লক্ষ্য হলো প্রায় ১০ লাখ ছানি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা, কয়েক কোটি মানুষের মাঝে চশমা বিতরণ নিশ্চিত করা এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো জটিল রোগের চিকিৎসা সেবা তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আধুনিক চক্ষুসেবা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আওতায় দেশের প্রায় ৫০০ উপজেলায় উন্নত চক্ষুসেবা ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা ঢাকায় আসার প্রয়োজন না হয়। তিনি জানান, বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়ার অধীনে থাকা প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর প্রশিক্ষণে প্রাথমিক চক্ষুসেবাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া জেলা হাসপাতালের অবকাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের অন্তত অর্ধেক জেলায় নিয়মিত ছানি অপারেশন এবং রিফ্র্যাক্টিভ এরর বা প্রতিসরণ ত্রুটি সংশোধনের সেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

ডা. মুহিত জানান, চক্ষুসেবাকে শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করতে সরকার গত ছয় মাস ধরে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর সাথে নিবিড় সমন্বয় করে আসছে। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে দেশের চক্ষুসেবা খাতে একটি যুগান্তকারী ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের মে মাসে বিশ্বব্যাপী চালু হওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্পেকস ২০৩০ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে রিফ্র্যাক্টিভ এরর-সংক্রান্ত সেবা সহজলভ্য করে তোলা।

এই উদ্যোগের জাতীয় পর্যায়ে সূচনার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারী ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত চক্ষুসেবা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং রিফ্র্যাক্টিভ এরর চিকিৎসার আওতা বাড়াতে বদ্ধপরিকর। তিনি শিশুদের জন্য স্কুলভিত্তিক দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও চশমার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ চক্ষুসেবা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অসংক্রামক রোগ, মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক ইউনিট প্রধান এবং আঞ্চলিক উপদেষ্টা ড. তাশি তোবগে স্পেকস ২০৩০ উদ্যোগের বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও দেশীয় প্রেক্ষিত নিয়ে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এএসএমএম কাদির এবং বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ।

অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) বাংলাদেশ শাখার অনারারি কান্ট্রি চেয়ার ডা. মুনির আহমেদের পরিচালনায় একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে আইএলও-র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাজেশ নারওয়াল, আইএপিবি-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের রিজিওনাল অফিসার ইন্দ্র প্রসাদ শর্মা এবং সিএসএফ গ্লোবালের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম জুয়েল।

আলোচনায় বক্তারা কর্মক্ষেত্রে চক্ষুস্বাস্থ্য, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন, শক্তিশালী কর্মশক্তি সক্ষমতা, সাশ্রয়ী মূল্যে চশমা সরবরাহ এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। স্পেকস ২০৩০ পাঁচটি কৌশলগত স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে রচিত এবং এর লক্ষ্য হলো রিফ্র্যাক্টিভ এরর-সংক্রান্ত সেবার সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য সরকার, পেশাজীবী সংগঠন, এনজিও, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতকে একত্রিত করা। এই উদ্যোগটি একটি জাতীয় কাঠামো প্রদান করবে, যা ২০৩০ সালের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার দিকে পৌঁছাতে একটি কার্যকর কর্মপন্থা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

কিশোরগঞ্জে ইমাম-উলামাদের আপত্তিতে স্থগিত হলো ব্যান্ড ‘অ্যাশেজ’-এর কনসার্ট

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘স্পেকস ২০৩০’ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

আপডেট : ১২:৩৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) স্পেকস ২০৩০ উদ্যোগের। এই উদ্যোগটি সারাদেশে মানসম্মত, সাশ্রয়ী ও জনকেন্দ্রিক চক্ষুসেবার সুযোগ সম্প্রসারণের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. এম এ মুহিত বলেন, সরকার উপজেলা পর্যায়ে নির্মিতব্য ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোতে চক্ষুসেবার জন্য বিশেষায়িত বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ এবং অপারেশন থিয়েটার সুবিধা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকার একটি সমন্বিত জাতীয় চক্ষুসেবা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে, যার মূল লক্ষ্য হলো প্রায় ১০ লাখ ছানি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা, কয়েক কোটি মানুষের মাঝে চশমা বিতরণ নিশ্চিত করা এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো জটিল রোগের চিকিৎসা সেবা তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আধুনিক চক্ষুসেবা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আওতায় দেশের প্রায় ৫০০ উপজেলায় উন্নত চক্ষুসেবা ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা ঢাকায় আসার প্রয়োজন না হয়। তিনি জানান, বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়ার অধীনে থাকা প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর প্রশিক্ষণে প্রাথমিক চক্ষুসেবাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া জেলা হাসপাতালের অবকাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের অন্তত অর্ধেক জেলায় নিয়মিত ছানি অপারেশন এবং রিফ্র্যাক্টিভ এরর বা প্রতিসরণ ত্রুটি সংশোধনের সেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

ডা. মুহিত জানান, চক্ষুসেবাকে শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করতে সরকার গত ছয় মাস ধরে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর সাথে নিবিড় সমন্বয় করে আসছে। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে দেশের চক্ষুসেবা খাতে একটি যুগান্তকারী ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের মে মাসে বিশ্বব্যাপী চালু হওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্পেকস ২০৩০ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে রিফ্র্যাক্টিভ এরর-সংক্রান্ত সেবা সহজলভ্য করে তোলা।

এই উদ্যোগের জাতীয় পর্যায়ে সূচনার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারী ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত চক্ষুসেবা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং রিফ্র্যাক্টিভ এরর চিকিৎসার আওতা বাড়াতে বদ্ধপরিকর। তিনি শিশুদের জন্য স্কুলভিত্তিক দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও চশমার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ চক্ষুসেবা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অসংক্রামক রোগ, মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক ইউনিট প্রধান এবং আঞ্চলিক উপদেষ্টা ড. তাশি তোবগে স্পেকস ২০৩০ উদ্যোগের বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও দেশীয় প্রেক্ষিত নিয়ে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এএসএমএম কাদির এবং বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ।

অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) বাংলাদেশ শাখার অনারারি কান্ট্রি চেয়ার ডা. মুনির আহমেদের পরিচালনায় একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে আইএলও-র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাজেশ নারওয়াল, আইএপিবি-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের রিজিওনাল অফিসার ইন্দ্র প্রসাদ শর্মা এবং সিএসএফ গ্লোবালের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম জুয়েল।

আলোচনায় বক্তারা কর্মক্ষেত্রে চক্ষুস্বাস্থ্য, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন, শক্তিশালী কর্মশক্তি সক্ষমতা, সাশ্রয়ী মূল্যে চশমা সরবরাহ এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। স্পেকস ২০৩০ পাঁচটি কৌশলগত স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে রচিত এবং এর লক্ষ্য হলো রিফ্র্যাক্টিভ এরর-সংক্রান্ত সেবার সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য সরকার, পেশাজীবী সংগঠন, এনজিও, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতকে একত্রিত করা। এই উদ্যোগটি একটি জাতীয় কাঠামো প্রদান করবে, যা ২০৩০ সালের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার দিকে পৌঁছাতে একটি কার্যকর কর্মপন্থা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।