রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত খ্যাতনামা চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দীর্ঘ দেড় মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় তাদের সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করেছে। সাময়িক বিরতির পর হাসপাতালটির বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও ইনডোর সেবা পুরোদমে চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে নিয়মিত সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। স্বাস্থ্যসেবা সচল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীরা এখন থেকে পূর্বের ন্যায় সব ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, অপরিহার্য প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সংস্কার কাজ এবং সেবার মান আধুনিকায়নের লক্ষ্যে হাসপাতালটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় মাসের এই বন্ধের সময়কালে হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম পুনর্মূল্যায়ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার এবং সেবা প্রদান ব্যবস্থার সার্বিক যুগোপযোগীকরণ সম্পন্ন করা হয়। কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, রোগীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে এবং চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও উন্নত ও নির্ভরযোগ্য করতেই এই সাময়িক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল মূলত মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি বিদ্যা, সাধারণ সার্জারি, মেডিসিন এবং চক্ষু সেবার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে অন্যতম নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। পুনরারম্ভের প্রথম দিন থেকেই হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রসূতি ও শিশুদের চিকিৎসার জন্য রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা, আধুনিক আইসিইউ, এনআইসিইউ, ডায়ালিসিস ইউনিট এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষার সুবিধাগুলো এখন পুরোদমে সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়মিত চেম্বার ও পরামর্শ সেবার সময়সূচিও আগের মতো কার্যকর করা হয়েছে।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও সীমিত আয়ের মানুষের কাছে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী খরচে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে আসছে। দেড় মাস পরিষেবা বন্ধ থাকায় আশপাশের এলাকার বাসিন্দা এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল। বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও শিশুদের জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। হাসপাতালটি চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর থেকে অতিরিক্ত আর্থিক ও মানসিক চাপ অনেকটাই লাঘব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুনরায় কার্যক্রম শুরু প্রসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেবাগ্রহীতাদের জন্য আরও উন্নত, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করে দুয়ার উন্মুক্ত করা হয়েছে। বিরতিকালে রোগীদের চিকিৎসাপ্রাপ্তি সুগম ও সমন্বিত করতে একাধিক ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে। মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সার্বক্ষণিক সেবাদানে নিয়োজিত থাকবেন বলে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
রিপোর্টার নাম: 






















