Hi

০১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শোক কাটিয়ে দীর্ঘ দিন পর নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে বনানীতে স্বামীর কবরের পথে ডা. মেহেরুন্নেসা

প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবু সালেহর প্রয়াণের দীর্ঘ সময় পর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে নিজের গাড়ি ড্রাইভ করে বনানী কবরস্থানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী, বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেরুন্নেসা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত জীবন ও জনসমাগম থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখা এই চিকিৎসক দীর্ঘ ১৮ মাস পর একাকী এই আকস্মিক পদক্ষেপে যেন অতীত স্মৃতি ও বর্তমান শূন্যতার এক আবেগঘন মেলবন্ধন তৈরি করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ডা. আবু সালেহ বেঁচে থাকাকালীন রাজধানীর শান্তিনগর চেম্বার এবং নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের অগণিত মানুষকে অক্লান্ত সেবা দিয়ে গেছেন। তাঁর একমাত্র পুত্র বিলাতফেরত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সালাউদ্দিন বর্তমানে বাবার পৈতৃক ভিটায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করছেন এবং বাবার কর্মধারার হাল ধরেছেন। বিশ্বস্ত গৃহকর্মী ও ড্রাইভার মফিজ এতদিন পরিবারের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করলেও আজ নিজেই গাড়ি চালানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নেন ডা. মেহেরুন্নেসা। বাড়ির প্রতিটি কোণায়, আলনায় থাকা জামাকাপড়, বইপত্র ও স্টেথোস্কোপে আজও যেন ডা. আবু সালেহর হাতের স্পর্শ জীবন্ত হয়ে রয়েছে।

ড্রয়িংরুমের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ডা. মেহেরুন্নেসা স্মৃতির রোমন্থন করেন সেই দিনগুলোর, যখন ডা. সালেহ নিজ হাতে রোপণ করেছিলেন বাড়ির কৃষ্ণচূড়া, নারকেল ও আমগাছগুলো। পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের কষ্টে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ স্বামীর গভীর ব্যথিত হওয়ার স্মৃতি আজও তাঁকে তাড়িত করে। শত শোক আর নিঃসঙ্গতার পরও মানুষ কীভাবে স্মৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করতে শেখে, আজকের এই যাত্রার মাধ্যমে যেন তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি। সংসদ ভবনকে বাঁয়ে রেখে মিরপুর রোড পেরিয়ে বনানীর অভিমুখে তাঁর এই ছুটে চলা মূলত প্রিয় জীবনসঙ্গীর কবরের সান্নিধ্য পাওয়ার এক গভীর আকুতি।

জনপ্রিয়

বিনা ট্রফিতে ব্যালন ডি’অর জয়ের ইতিহাস: এমবাপ্পের সামনে কি তবে নতুন সুযোগ?

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শোক কাটিয়ে দীর্ঘ দিন পর নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে বনানীতে স্বামীর কবরের পথে ডা. মেহেরুন্নেসা

আপডেট : ১১:২৪:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবু সালেহর প্রয়াণের দীর্ঘ সময় পর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে নিজের গাড়ি ড্রাইভ করে বনানী কবরস্থানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী, বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেরুন্নেসা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত জীবন ও জনসমাগম থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখা এই চিকিৎসক দীর্ঘ ১৮ মাস পর একাকী এই আকস্মিক পদক্ষেপে যেন অতীত স্মৃতি ও বর্তমান শূন্যতার এক আবেগঘন মেলবন্ধন তৈরি করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ডা. আবু সালেহ বেঁচে থাকাকালীন রাজধানীর শান্তিনগর চেম্বার এবং নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের অগণিত মানুষকে অক্লান্ত সেবা দিয়ে গেছেন। তাঁর একমাত্র পুত্র বিলাতফেরত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সালাউদ্দিন বর্তমানে বাবার পৈতৃক ভিটায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করছেন এবং বাবার কর্মধারার হাল ধরেছেন। বিশ্বস্ত গৃহকর্মী ও ড্রাইভার মফিজ এতদিন পরিবারের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করলেও আজ নিজেই গাড়ি চালানোর সাহসী সিদ্ধান্ত নেন ডা. মেহেরুন্নেসা। বাড়ির প্রতিটি কোণায়, আলনায় থাকা জামাকাপড়, বইপত্র ও স্টেথোস্কোপে আজও যেন ডা. আবু সালেহর হাতের স্পর্শ জীবন্ত হয়ে রয়েছে।

ড্রয়িংরুমের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ডা. মেহেরুন্নেসা স্মৃতির রোমন্থন করেন সেই দিনগুলোর, যখন ডা. সালেহ নিজ হাতে রোপণ করেছিলেন বাড়ির কৃষ্ণচূড়া, নারকেল ও আমগাছগুলো। পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের কষ্টে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ স্বামীর গভীর ব্যথিত হওয়ার স্মৃতি আজও তাঁকে তাড়িত করে। শত শোক আর নিঃসঙ্গতার পরও মানুষ কীভাবে স্মৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করতে শেখে, আজকের এই যাত্রার মাধ্যমে যেন তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি। সংসদ ভবনকে বাঁয়ে রেখে মিরপুর রোড পেরিয়ে বনানীর অভিমুখে তাঁর এই ছুটে চলা মূলত প্রিয় জীবনসঙ্গীর কবরের সান্নিধ্য পাওয়ার এক গভীর আকুতি।