Hi

০৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীরের ওজন অনুযায়ী দৈনিক কতটুকু পানি পান করা প্রয়োজন? জেনে নিন সঠিক নিয়ম

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, রক্ত সঞ্চালন, হজম প্রক্রিয়া, পুষ্টি পরিবহন এবং কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে পানির ভূমিকা অপরিসীম। অনেকের ধারণা, প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পান করলেই চাহিদা পূরণ হয়, কিন্তু বাস্তবে পানির প্রয়োজনীয়তা বয়স, ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। সবার পানির চাহিদা সমান নয়, তাই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করা জরুরি।

প্রাপ্তবয়স্কদের পানির চাহিদা নির্ধারণ

প্রাপ্তবয়স্কদের পানি পানের জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি সূত্র রয়েছে। এই সূত্র অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন কতটুকু পানি খাবেন, তা নির্ভর করে তাঁর ওজনের ওপর। এতে প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩০ থেকে ৩৫ মিলিলিটার পানি পান করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন ৬০ কেজি ওজনের মানুষকে প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ মিলিলিটার পানি পান করতে হবে। এটাকে লিটারে রূপান্তর করলে পরিমাণ হয় ১ দশমিক ৮ লিটার থেকে ২ দশমিক ১ লিটার।

বিশেষ অবস্থায় পানির চাহিদা

  • গর্ভবতী নারীদের স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ৩০০ মিলিলিটার পানি প্রয়োজন।
  • দুগ্ধদানকারী মায়েদের দৈনিক ৭০০ থেকে ১০০০ মিলিলিটার অতিরিক্ত পানি পান করতে হবে।
  • জ্বর হলে প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে শরীরের পানির চাহিদা ১০ থেকে ১২ শতাংশ বেড়ে যায়।
  • ডায়রিয়া বা বমি হলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়, তাই অতিরিক্ত পানি বা ওরস্যালাইন গ্রহণ করা জরুরি।
  • কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে পানির পরিমাণ নির্ধারণে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে তৃষ্ণা অনুভবের ক্ষমতা কমে যেতে পারে, যা পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া শিশুদের শরীরে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় তাদের দ্রুত পানির ঘাটতি হতে পারে। কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক বৃদ্ধি ও খেলাধুলার কারণে পানির চাহিদাও বেশি থাকে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে মাথাব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, পানি কম খাওয়া যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত পানি পান করাও বিপজ্জনক হতে পারে। আলোক হাসপাতাল লিমিটেডের পুষ্টিবিদ ফারজানা ওয়াহাব জানান, সুস্থ থাকতে নিজের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয়

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত দুই, আহত চার

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

শরীরের ওজন অনুযায়ী দৈনিক কতটুকু পানি পান করা প্রয়োজন? জেনে নিন সঠিক নিয়ম

আপডেট : ০৩:১১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, রক্ত সঞ্চালন, হজম প্রক্রিয়া, পুষ্টি পরিবহন এবং কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে পানির ভূমিকা অপরিসীম। অনেকের ধারণা, প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পান করলেই চাহিদা পূরণ হয়, কিন্তু বাস্তবে পানির প্রয়োজনীয়তা বয়স, ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম এবং শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। সবার পানির চাহিদা সমান নয়, তাই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করা জরুরি।

প্রাপ্তবয়স্কদের পানির চাহিদা নির্ধারণ

প্রাপ্তবয়স্কদের পানি পানের জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি সূত্র রয়েছে। এই সূত্র অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন কতটুকু পানি খাবেন, তা নির্ভর করে তাঁর ওজনের ওপর। এতে প্রতি কেজি ওজনের জন্য ৩০ থেকে ৩৫ মিলিলিটার পানি পান করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন ৬০ কেজি ওজনের মানুষকে প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ মিলিলিটার পানি পান করতে হবে। এটাকে লিটারে রূপান্তর করলে পরিমাণ হয় ১ দশমিক ৮ লিটার থেকে ২ দশমিক ১ লিটার।

বিশেষ অবস্থায় পানির চাহিদা

  • গর্ভবতী নারীদের স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ৩০০ মিলিলিটার পানি প্রয়োজন।
  • দুগ্ধদানকারী মায়েদের দৈনিক ৭০০ থেকে ১০০০ মিলিলিটার অতিরিক্ত পানি পান করতে হবে।
  • জ্বর হলে প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে শরীরের পানির চাহিদা ১০ থেকে ১২ শতাংশ বেড়ে যায়।
  • ডায়রিয়া বা বমি হলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়, তাই অতিরিক্ত পানি বা ওরস্যালাইন গ্রহণ করা জরুরি।
  • কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে পানির পরিমাণ নির্ধারণে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে তৃষ্ণা অনুভবের ক্ষমতা কমে যেতে পারে, যা পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া শিশুদের শরীরে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় তাদের দ্রুত পানির ঘাটতি হতে পারে। কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক বৃদ্ধি ও খেলাধুলার কারণে পানির চাহিদাও বেশি থাকে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে মাথাব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, পানি কম খাওয়া যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত পানি পান করাও বিপজ্জনক হতে পারে। আলোক হাসপাতাল লিমিটেডের পুষ্টিবিদ ফারজানা ওয়াহাব জানান, সুস্থ থাকতে নিজের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।