Hi

০১:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ তিন দেশের এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজরের মেয়াদ বাড়াল কাতার

হরমুজ প্রণালীতে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কাতার এনার্জি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালির মতো দেশগুলোর জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা আরও দীর্ঘায়িত করেছে। মূলত এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন ক্রেতার কাছে এলএনজি কার্গো স্থগিতের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে কাতার এনার্জি পাকিস্তানি ক্রেতাদের জানিয়েছে যে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এলএনজি কার্গো বাতিল বা স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রেও এই ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বর পেরিয়ে আরও বাড়ানো হয়েছে। ইতালির শীর্ষ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘এডিসন’ শুক্রবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, কাতার এনার্জি তাদের এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ আগামী নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বর্ধিত করেছে।

এডিসনের তথ্যমতে, ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি রিসিভিং টার্মিনালে আসার কথা ছিল এমন অতিরিক্ত পাঁচটি কার্গো সরবরাহ করতে পারবে না বলে কাতার এনার্জি জানিয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরু থেকে চলা এই ফোর্স মেজরের মেয়াদ ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত গড়াচ্ছে। এ নিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত কার্গোর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। তবে ইতালীয় প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে বর্তমান সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার জেরে গত ৪ মার্চ প্রথম এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছিল কাতার এনার্জি। পরবর্তীতে মার্চ মাসে কাতারের রাস লাফান জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও সিইও এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাআবি জানিয়েছিলেন, ওই হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় জুলাই মাসে, যখন হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় কাতারের এলএনজি ট্যাংকার ‘আল রেকায়াত’ (Al Rekayyat) হামলার শিকার হয়। কাতার এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। যদিও জাহাজের ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল, তবে এই ঘটনা জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করে। এদিকে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল-থানি সম্প্রতি তেহরান সফর করে শীর্ষ ইরানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কাতার নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

২৯ বছরেও কাটেনি লক্ষ্মীপুর বিসিকের নানামুখী সংকট

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ তিন দেশের এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজরের মেয়াদ বাড়াল কাতার

আপডেট : ০২:২১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কাতার এনার্জি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালির মতো দেশগুলোর জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা আরও দীর্ঘায়িত করেছে। মূলত এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন ক্রেতার কাছে এলএনজি কার্গো স্থগিতের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে কাতার এনার্জি পাকিস্তানি ক্রেতাদের জানিয়েছে যে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এলএনজি কার্গো বাতিল বা স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রেও এই ফোর্স মেজরের মেয়াদ সেপ্টেম্বর পেরিয়ে আরও বাড়ানো হয়েছে। ইতালির শীর্ষ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘এডিসন’ শুক্রবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, কাতার এনার্জি তাদের এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ আগামী নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বর্ধিত করেছে।

এডিসনের তথ্যমতে, ইতালির অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি রিসিভিং টার্মিনালে আসার কথা ছিল এমন অতিরিক্ত পাঁচটি কার্গো সরবরাহ করতে পারবে না বলে কাতার এনার্জি জানিয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরু থেকে চলা এই ফোর্স মেজরের মেয়াদ ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত গড়াচ্ছে। এ নিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত কার্গোর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে। তবে ইতালীয় প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে বর্তমান সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার জেরে গত ৪ মার্চ প্রথম এলএনজি কার্যক্রম স্থগিত করে ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছিল কাতার এনার্জি। পরবর্তীতে মার্চ মাসে কাতারের রাস লাফান জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও সিইও এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাআবি জানিয়েছিলেন, ওই হামলার কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় জুলাই মাসে, যখন হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় কাতারের এলএনজি ট্যাংকার ‘আল রেকায়াত’ (Al Rekayyat) হামলার শিকার হয়। কাতার এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। যদিও জাহাজের ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল, তবে এই ঘটনা জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করে। এদিকে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল-থানি সম্প্রতি তেহরান সফর করে শীর্ষ ইরানি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কাতার নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।