Hi

০৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিনটেক খাতে এআই: বাংলাদেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

বিশ্বজুড়ে ফিনটেক বা আর্থিক প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ২০২৩ সাল থেকেই এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে আর্থিক খাতের সামগ্রিক ধারণা ও কর্মপদ্ধতি বদলে দিচ্ছে এই প্রযুক্তি। গত শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের’ ষষ্ঠ সংস্করণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই উত্থান এবং এর মাধ্যমে তৈরি হওয়া সুযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ডিজিটাল ব্যাংকিং, নগদবিহীন লেনদেন এবং আর্থিক প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা উঠে আসে। এআইসহ নতুন নতুন প্রযুক্তি বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বে নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশ্বজুড়ে ফিনটেক খাত বিভিন্ন মডেলে এগোচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী সম্পাদক সাজিদ মাহবুব সম্মেলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, দেশের ফিনটেক খাতের প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করছে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে কতটুকু টেকসই আর্থিক সক্ষমতায় রূপান্তর করা সম্ভব তার ওপর। উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার মাধ্যমে আর্থিক সেবাকে সহজলভ্য ও কার্যকর করার পাশাপাশি মানুষের আস্থা অর্জনে উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে এসব সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের একসঙ্গে কাজ করে ভবিষ্যতের আর্থিক সেবার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মান গড়ে তুলতে হবে।

প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তার মতে, আর্থিক জালিয়াতি শনাক্তকরণ, ঋণ মূল্যায়ন ও বিমা সেবায় এআই বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনলেও এর প্রশাসনিক জবাবদিহি ও মানুষের নিবিড় পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য। অন্যদিকে, র‍্যাপটাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশে মাইক্রোসফটের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুপ ফারুক সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ফিনটেকশিল্পে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে ঋণ-ঝুঁকি মূল্যায়ন বা কেওয়াইসি যাচাইয়ের মতো সংবেদনশীল কাজে এআই যেন কোনো প্রকার ভুল বা বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত না নেয়, তা সার্বক্ষণিক তদারকি করা প্রয়োজন। গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, সংবেদনশীল আর্থিক তথ্য এবং গোপনীয় রেকর্ড যেন কোনো অননুমোদিত এআই এজেন্ট হাতিয়ে নিতে না পারে, তার জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে আর্থিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেন ট্রান্সফাই গ্লোবালের প্রধান ব্যাংকিং ও নেটওয়ার্ক কর্মকর্তা নওশাদ হুসেইন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে সুপার অ্যাপ, ডিজিটাল ওয়ালেট এবং সমন্বিত পেমেন্ট পরিকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাপক বিপ্লব সাধিত হয়েছে। এই ধারায় কিউব মানি ইউকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী ইয়ার মোহাম্মদের অভিমত, গ্রাহকদের দ্রুত পরিবর্তনশীল চাহিদা পূরণে ব্যাংকগুলোকে ডিজিটাল চিন্তাধারাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তার মতে, নিরবচ্ছিন্ন অ্যাপ সেবা, দ্রুত ঋণ অনুমোদন এবং ২৪ ঘণ্টার গ্রাহক সহায়তা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি। এখানে মূল চাবিকাঠি হলো গ্রাহক অভিজ্ঞতার জন্য নিরবচ্ছিন্ন অ্যাপ সেবা, দ্রুত ঋণ অনুমোদন এবং ২৪/৭ সমর্থন নিশ্চিত করা।

সম্মেলনের শেষভাগে দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ২১টি উদ্ভাবনী ফিনটেক উদ্যোগকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এই স্বীকৃতি প্রদান প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ফিনটেক উদ্ভাবনের আসল সার্থকতা তখনই ফুটে ওঠে, যখন তা মানুষ ও ব্যবসার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনে। আশা করা হচ্ছে, এই স্বীকৃতি সংশ্লিষ্টদের নতুন ধারণা ও বিনিয়োগে আরও উদ্বুদ্ধ করবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

ফিনটেক খাতে এআই: বাংলাদেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ০৭:২৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে ফিনটেক বা আর্থিক প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ২০২৩ সাল থেকেই এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে আর্থিক খাতের সামগ্রিক ধারণা ও কর্মপদ্ধতি বদলে দিচ্ছে এই প্রযুক্তি। গত শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের’ ষষ্ঠ সংস্করণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই উত্থান এবং এর মাধ্যমে তৈরি হওয়া সুযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ডিজিটাল ব্যাংকিং, নগদবিহীন লেনদেন এবং আর্থিক প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা উঠে আসে। এআইসহ নতুন নতুন প্রযুক্তি বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বে নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশ্বজুড়ে ফিনটেক খাত বিভিন্ন মডেলে এগোচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী সম্পাদক সাজিদ মাহবুব সম্মেলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, দেশের ফিনটেক খাতের প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করছে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে কতটুকু টেকসই আর্থিক সক্ষমতায় রূপান্তর করা সম্ভব তার ওপর। উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার মাধ্যমে আর্থিক সেবাকে সহজলভ্য ও কার্যকর করার পাশাপাশি মানুষের আস্থা অর্জনে উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে এসব সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের একসঙ্গে কাজ করে ভবিষ্যতের আর্থিক সেবার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মান গড়ে তুলতে হবে।

প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তার মতে, আর্থিক জালিয়াতি শনাক্তকরণ, ঋণ মূল্যায়ন ও বিমা সেবায় এআই বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনলেও এর প্রশাসনিক জবাবদিহি ও মানুষের নিবিড় পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য। অন্যদিকে, র‍্যাপটাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশে মাইক্রোসফটের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুপ ফারুক সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ফিনটেকশিল্পে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে ঋণ-ঝুঁকি মূল্যায়ন বা কেওয়াইসি যাচাইয়ের মতো সংবেদনশীল কাজে এআই যেন কোনো প্রকার ভুল বা বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত না নেয়, তা সার্বক্ষণিক তদারকি করা প্রয়োজন। গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, সংবেদনশীল আর্থিক তথ্য এবং গোপনীয় রেকর্ড যেন কোনো অননুমোদিত এআই এজেন্ট হাতিয়ে নিতে না পারে, তার জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে আর্থিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেন ট্রান্সফাই গ্লোবালের প্রধান ব্যাংকিং ও নেটওয়ার্ক কর্মকর্তা নওশাদ হুসেইন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে সুপার অ্যাপ, ডিজিটাল ওয়ালেট এবং সমন্বিত পেমেন্ট পরিকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাপক বিপ্লব সাধিত হয়েছে। এই ধারায় কিউব মানি ইউকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী ইয়ার মোহাম্মদের অভিমত, গ্রাহকদের দ্রুত পরিবর্তনশীল চাহিদা পূরণে ব্যাংকগুলোকে ডিজিটাল চিন্তাধারাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তার মতে, নিরবচ্ছিন্ন অ্যাপ সেবা, দ্রুত ঋণ অনুমোদন এবং ২৪ ঘণ্টার গ্রাহক সহায়তা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি। এখানে মূল চাবিকাঠি হলো গ্রাহক অভিজ্ঞতার জন্য নিরবচ্ছিন্ন অ্যাপ সেবা, দ্রুত ঋণ অনুমোদন এবং ২৪/৭ সমর্থন নিশ্চিত করা।

সম্মেলনের শেষভাগে দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ২১টি উদ্ভাবনী ফিনটেক উদ্যোগকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এই স্বীকৃতি প্রদান প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ফিনটেক উদ্ভাবনের আসল সার্থকতা তখনই ফুটে ওঠে, যখন তা মানুষ ও ব্যবসার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনে। আশা করা হচ্ছে, এই স্বীকৃতি সংশ্লিষ্টদের নতুন ধারণা ও বিনিয়োগে আরও উদ্বুদ্ধ করবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।