Hi

০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইএমএফের সঙ্গে নতুন ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ নিয়ে আলোচনা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৬:১৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ২১ জন দেখেছে

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আগের ঋণ কর্মসূচির বদলে নতুন করে তিন বছর মেয়াদি ঋণ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন এই কর্মসূচিতে ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতের সংস্কার, করছাড় যৌক্তিক করা এবং সরকারি ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন এই ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচির শর্ত চূড়ান্ত করতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রের দাবি, এসব সংস্কারের বেশির ভাগই আগের ঋণ কর্মসূচিতেও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

চলতি সপ্তাহে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সেখানে অংশ নিচ্ছে। মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই সভায় ঋণের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে এবং পরবর্তী করণীয় চূড়ান্ত হবে। গত এপ্রিল মাসে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভায় বিষয়টি সংস্থাটিকে জানানো হয়। আইএমএফও নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল।

২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফ বাংলাদেশকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছিল। ২০২২ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কর্মসূচি শুরু হয়। সেই চুক্তির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কর্মসূচির আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংস্কার বাস্তবায়নের কঠিন শর্ত বিবেচনা করে সরকার নতুন কর্মসূচির পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত জুনে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আইএমএফের কাছে নতুন ঋণের জন্য চিঠি পাঠায়। এরপর গত ৩ জুন নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠায় সরকার। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির অর্থ পাওয়ার কথা ছিল।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন জানান, আগের কর্মসূচির অনেক সংস্কার নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় নতুন চুক্তিতে একই ধরনের কঠিন শর্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রত্যাশিত গতি না থাকায় সরকারের খরচ মেটাতে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর চাপ বাড়ছে। তাই সংস্কারগুলো জাতীয় স্বার্থেই জরুরি।

নতুন আলোচনার টেবিলে বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, করনীতি ও আদায় ব্যবস্থা পৃথকীকরণ, দেউলিয়া আইন প্রণয়ন এবং জ্বালানি খাতের ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, আগের কর্মসূচির অনেক সংস্কার অসমাপ্ত রয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা রাজস্ব কাঠামো ও এনবিআর পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। জাতীয় রাজস্ব আদায় বাড়াতে জিডিপির বিপরীতে অতিরিক্ত শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা অর্জিত হয়নি। তাঁর মতে, নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নেও সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাংক খাতে কিছু পরিবর্তন এলেও এখনো বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার শর্ত কার্যকর হয়নি। যদিও ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন এবং পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ভাষ্যমতে, বিদ্যমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংস্কারের গতি ধীর ছিল। সরকার সংস্কারের পথ থেকে সরে আসতে চায় না, তবে দেশের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সেগুলো বাস্তবায়নে আগ্রহী। নতুন কর্মসূচির আওতায় সংস্কারের জন্য সরকার বাড়তি সময় ও নতুন সময়সীমা পাওয়ার আশা করছে। আগামী নভেম্বর মাসে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সম্ভাব্য সফরের পর দর-কষাকষি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

অপরিহার্য পরিচালনগত সমস্যায় ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট বন্ধ করল বিমান

© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

আইএমএফের সঙ্গে নতুন ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ নিয়ে আলোচনা

আপডেট : ০৬:১৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আগের ঋণ কর্মসূচির বদলে নতুন করে তিন বছর মেয়াদি ঋণ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন এই কর্মসূচিতে ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতের সংস্কার, করছাড় যৌক্তিক করা এবং সরকারি ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন এই ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচির শর্ত চূড়ান্ত করতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রের দাবি, এসব সংস্কারের বেশির ভাগই আগের ঋণ কর্মসূচিতেও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

চলতি সপ্তাহে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সেখানে অংশ নিচ্ছে। মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই সভায় ঋণের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে এবং পরবর্তী করণীয় চূড়ান্ত হবে। গত এপ্রিল মাসে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভায় বিষয়টি সংস্থাটিকে জানানো হয়। আইএমএফও নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল।

২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফ বাংলাদেশকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছিল। ২০২২ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই কর্মসূচি শুরু হয়। সেই চুক্তির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কর্মসূচির আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংস্কার বাস্তবায়নের কঠিন শর্ত বিবেচনা করে সরকার নতুন কর্মসূচির পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত জুনে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আইএমএফের কাছে নতুন ঋণের জন্য চিঠি পাঠায়। এরপর গত ৩ জুন নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠায় সরকার। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির অর্থ পাওয়ার কথা ছিল।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন জানান, আগের কর্মসূচির অনেক সংস্কার নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় নতুন চুক্তিতে একই ধরনের কঠিন শর্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রত্যাশিত গতি না থাকায় সরকারের খরচ মেটাতে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর চাপ বাড়ছে। তাই সংস্কারগুলো জাতীয় স্বার্থেই জরুরি।

নতুন আলোচনার টেবিলে বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, করনীতি ও আদায় ব্যবস্থা পৃথকীকরণ, দেউলিয়া আইন প্রণয়ন এবং জ্বালানি খাতের ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, আগের কর্মসূচির অনেক সংস্কার অসমাপ্ত রয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা রাজস্ব কাঠামো ও এনবিআর পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। জাতীয় রাজস্ব আদায় বাড়াতে জিডিপির বিপরীতে অতিরিক্ত শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা অর্জিত হয়নি। তাঁর মতে, নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নেও সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাংক খাতে কিছু পরিবর্তন এলেও এখনো বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার শর্ত কার্যকর হয়নি। যদিও ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন এবং পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ভাষ্যমতে, বিদ্যমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংস্কারের গতি ধীর ছিল। সরকার সংস্কারের পথ থেকে সরে আসতে চায় না, তবে দেশের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সেগুলো বাস্তবায়নে আগ্রহী। নতুন কর্মসূচির আওতায় সংস্কারের জন্য সরকার বাড়তি সময় ও নতুন সময়সীমা পাওয়ার আশা করছে। আগামী নভেম্বর মাসে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সম্ভাব্য সফরের পর দর-কষাকষি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।