Hi

০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এফডিআই বাড়লেও নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুনাফা পুনর্বিনিয়োগই ভরসা

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০২:৩৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ জন দেখেছে

চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির সিংহভাগই এসেছে বিদ্যমান বিদেশি কোম্পানিগুলোর অর্জিত মুনাফা নতুন করে বিনিয়োগের মাধ্যমে। নতুন মূলধন হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগের গতি বরং কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে বিদেশি কোম্পানিগুলোর আন্তঃকোম্পানি ঋণের প্রবাহ। ফলে এফডিআইয়ের প্রবৃদ্ধি হলেও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদেশি মূলধন আসার গতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিনিয়োগের তিন খাত ও বর্তমান পরিস্থিতি

  • নিট এফডিআইয়ের মোট পরিমাণ: ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
  • মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ: ২৬ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ডলার (মোট এফডিআইয়ের ৭৫ শতাংশ)।
  • নতুন ইকুইটি মূলধন: ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার ডলার (আগের বছরের তুলনায় ৪.৭৭ শতাংশ হ্রাস)।
  • আন্তঃকোম্পানি ঋণ প্রবাহ: ৮৬ লাখ ১০ হাজার ডলারে নেমে এসেছে (৮৫.১৭ শতাংশ হ্রাস)।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের তথ্যমতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে।

যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ওপর।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন উইং) নাহিয়ান রহমান রচি জানিয়েছেন, বিদ্যমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার কারণে পুনর্বিনিয়োগ বাড়লেও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগে থেকে দেশে ব্যবসা করছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর এই পুনর্বিনিয়োগ দেশের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক সম্ভাবনার প্রতি তাদের আস্থাকেই নির্দেশ করে। এই বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। ইনভেস্ট বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তবায়নের দিকে নিতে কাজ করছে। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ ধরনের বিনিয়োগ ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। সম্প্রতি কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ঘোষণাকেও আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের চিত্র কিছুটা হতাশাজনক। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এসব অঞ্চলে মাত্র ৪ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারের নিট এফডিআই এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম। যদিও আগের প্রান্তিকের শূন্য দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় এটি কিছুটা বেশি। এর বিপরীতে ইপিজেডের বাইরের খাতে নিট এফডিআই ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ২৮০ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ খাতে মোট ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের ঋণপ্রবাহ থাকলেও আগের ঋণ পরিশোধের কারণে নিট প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

নাহিয়ান রহমান রচি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের উন্নয়নকাজ এখন গতি পেয়েছে।

২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই প্রকল্পকে ঘিরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনের মাধ্যমে চলমান কাজের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকে বাস্তব ব্যবসায়িক রূপান্তর করতে সংস্থাটি কাজ অব্যাহত রেখেছে।

জনপ্রিয়
© All rights reserved © Dikdarshon.net
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ দিকদর্শন

এফডিআই বাড়লেও নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুনাফা পুনর্বিনিয়োগই ভরসা

আপডেট : ০২:৩৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির সিংহভাগই এসেছে বিদ্যমান বিদেশি কোম্পানিগুলোর অর্জিত মুনাফা নতুন করে বিনিয়োগের মাধ্যমে। নতুন মূলধন হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগের গতি বরং কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে বিদেশি কোম্পানিগুলোর আন্তঃকোম্পানি ঋণের প্রবাহ। ফলে এফডিআইয়ের প্রবৃদ্ধি হলেও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদেশি মূলধন আসার গতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিনিয়োগের তিন খাত ও বর্তমান পরিস্থিতি

  • নিট এফডিআইয়ের মোট পরিমাণ: ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
  • মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ: ২৬ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ডলার (মোট এফডিআইয়ের ৭৫ শতাংশ)।
  • নতুন ইকুইটি মূলধন: ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার ডলার (আগের বছরের তুলনায় ৪.৭৭ শতাংশ হ্রাস)।
  • আন্তঃকোম্পানি ঋণ প্রবাহ: ৮৬ লাখ ১০ হাজার ডলারে নেমে এসেছে (৮৫.১৭ শতাংশ হ্রাস)।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের তথ্যমতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে।

যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ওপর।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন উইং) নাহিয়ান রহমান রচি জানিয়েছেন, বিদ্যমান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার কারণে পুনর্বিনিয়োগ বাড়লেও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগে থেকে দেশে ব্যবসা করছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর এই পুনর্বিনিয়োগ দেশের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক সম্ভাবনার প্রতি তাদের আস্থাকেই নির্দেশ করে। এই বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। ইনভেস্ট বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তবায়নের দিকে নিতে কাজ করছে। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ ধরনের বিনিয়োগ ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। সম্প্রতি কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ঘোষণাকেও আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের চিত্র কিছুটা হতাশাজনক। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এসব অঞ্চলে মাত্র ৪ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারের নিট এফডিআই এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম। যদিও আগের প্রান্তিকের শূন্য দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় এটি কিছুটা বেশি। এর বিপরীতে ইপিজেডের বাইরের খাতে নিট এফডিআই ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ২৮০ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ খাতে মোট ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের ঋণপ্রবাহ থাকলেও আগের ঋণ পরিশোধের কারণে নিট প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

নাহিয়ান রহমান রচি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের উন্নয়নকাজ এখন গতি পেয়েছে।

২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই প্রকল্পকে ঘিরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনের মাধ্যমে চলমান কাজের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকে বাস্তব ব্যবসায়িক রূপান্তর করতে সংস্থাটি কাজ অব্যাহত রেখেছে।